ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ধর্ষণের পর স্কুলছাত্রীকে হত্যা, মরদেহ বস্তায় ভরে ফেলে দেয়া হয় নদীতে বজ্রাঘাতে চার জেলায় মা-ছেলেসহ ছয়জনের মৃত্যু‎ জনগণের ভোটেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে: ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুল গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা ছাড়াই ট্রাম্পের নতুন গোয়েন্দা প্রধান বিল পুল্টে বাংলাদেশি নাবালক ছেলেকে মায়ের কিডনি দানের অনুমতি মাদ্রাজ হাইকোর্টের ইউরোপের বৃহত্তম নৌঘাঁটির কাছে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৩ কুয়েত বিমানবন্দরে হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত: দূতাবাস জামিনে মুক্তি পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী, রাতেই কারাগার ত্যাগ ৪৮ ঘণ্টার নীরবতা ভেঙে যা বললেন দীপেন দেওয়ান ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেশকে রাজাকারমুক্ত করা সম্ভব’ : ইশরাক হোসেন

বাংলাদেশি নাবালক ছেলেকে মায়ের কিডনি দানের অনুমতি মাদ্রাজ হাইকোর্টের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের এক নাবালক ছেলের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে প্রতিবেশী ভারতের মাদ্রাজ হাইকোর্ট। ছেলেটির মায়ের দান করা কিডনি দিয়ে চেন্নাইতে তার কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে শিশুটির মা ও তার স্বামীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি না দেয়ায় চেন্নাইয়ের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন অনুমোদন কমিটির সমালোচনাও করেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট।

 

বুধবার (৩ জুন) মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন শিশুটির কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে গত ২ এপ্রিল চেন্নাইয়ের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন অনুমোদন কমিটির দেয়া প্রত্যাখ্যান আদেশটি বাতিল করেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, আদেশটি ‘আইনের ভুল নির্দেশনা এবং চরম বিচারবুদ্ধির অভাবে’ ত্রুটিপূর্ণ।

 

এদিন বিচারপতি কমিটিকে অবিলম্বে বাংলাদেশি নারী মনিকা রানী সাহাকে তার ছেলে অতনু সাহাকে একটি কিডনি দান করার অনুমতি দিতে এবং চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। আদেশে বিচারপতি বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে মায়ের মর্যাদা ‘একটি পবিত্র স্থান’ অধিকার করে এবং তাই, যখন কোনো নারী প্রামাণ্য দলিল দেখিয়ে কোনো ব্যক্তির মা বলে দাবি করেন, তখন বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের উচিত অযৌক্তিক সন্দেহ প্রকাশ না করে সেই বক্তব্যটি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা। বর্তমান মামলায় মা স্বেচ্ছায় একটি ডিএনএ রিপোর্ট পর্যন্ত জমা দিয়েছিলেন।

 

অ্যাপোস্টিল সার্টিফিকেটের তাৎপর্য তুলে ধরে বিচারপতি বলেন, ভারত ১৯৬১ সালের হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের একটি স্বাক্ষরকারী দেশ। সেই কারণে ভারত অন্যান্য সদস্য দেশ থেকে জারি করা অ্যাপোস্টিল করা সরকারি নথিপত্রকে বিশ্বাসযোগ্যতা দিতে বাধ্য। এছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২০ সালে স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, ওইসব অ্যাপোস্টিল করা নথিপত্রের জন্য ভারতীয় দূতাবাসগুলোর দ্বারা আর কোনো সত্যায়নের প্রয়োজন নেই। সুতরাং, মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন অনুমোদন কমিটির উচিত ছিল মা ও ছেলের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তাদের জমা দেয়া নথিগুলো গ্রহণ করা।

 

আদেশে চেন্নাইয়ের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন অনুমোদন কমিটির কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করার কথা নয়।

 

একজন অনুবাদকের সাহায্যে নিজেদের পরিচালিত মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ওই নারী ও তার স্বামীর মধ্যকার সম্পর্ক নিশ্চিত হয়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেয়া উচিত ছিল উল্লেখ করে বিচারক বলেন, কমিটির নিজেদেরকে যে একমাত্র প্রাসঙ্গিক প্রশ্নটি করা উচিত ছিল তা হলো- প্রথম আবেদনকারী (গ্রহীতা) দ্বিতীয় আবেদনকারীর (দাতা) পুত্র ছিলেন কি না। তৃতীয় আবেদনকারী দ্বিতীয় আবেদনকারীর স্বামী ছিলেন কি না, সেটি অপ্রাসঙ্গিক ছিল। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, যদি কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত একটি অপ্রাসঙ্গিক বিবেচনার দ্বারা কলুষিত হয়, তবে তা বাতিলযোগ্য। শুধুমাত্র এই একটি কারণেই, আপত্তিকৃত (চ্যালেঞ্জাধীন) আদেশটি বাতিল করা হলো বলেও আদেশে উল্লেখ করেন বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ষণের পর স্কুলছাত্রীকে হত্যা, মরদেহ বস্তায় ভরে ফেলে দেয়া হয় নদীতে

বাংলাদেশি নাবালক ছেলেকে মায়ের কিডনি দানের অনুমতি মাদ্রাজ হাইকোর্টের

আপডেট সময় ১১:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের এক নাবালক ছেলের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে প্রতিবেশী ভারতের মাদ্রাজ হাইকোর্ট। ছেলেটির মায়ের দান করা কিডনি দিয়ে চেন্নাইতে তার কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে শিশুটির মা ও তার স্বামীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি না দেয়ায় চেন্নাইয়ের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন অনুমোদন কমিটির সমালোচনাও করেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট।

 

বুধবার (৩ জুন) মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন শিশুটির কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে গত ২ এপ্রিল চেন্নাইয়ের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন অনুমোদন কমিটির দেয়া প্রত্যাখ্যান আদেশটি বাতিল করেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, আদেশটি ‘আইনের ভুল নির্দেশনা এবং চরম বিচারবুদ্ধির অভাবে’ ত্রুটিপূর্ণ।

 

এদিন বিচারপতি কমিটিকে অবিলম্বে বাংলাদেশি নারী মনিকা রানী সাহাকে তার ছেলে অতনু সাহাকে একটি কিডনি দান করার অনুমতি দিতে এবং চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। আদেশে বিচারপতি বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে মায়ের মর্যাদা ‘একটি পবিত্র স্থান’ অধিকার করে এবং তাই, যখন কোনো নারী প্রামাণ্য দলিল দেখিয়ে কোনো ব্যক্তির মা বলে দাবি করেন, তখন বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের উচিত অযৌক্তিক সন্দেহ প্রকাশ না করে সেই বক্তব্যটি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা। বর্তমান মামলায় মা স্বেচ্ছায় একটি ডিএনএ রিপোর্ট পর্যন্ত জমা দিয়েছিলেন।

 

অ্যাপোস্টিল সার্টিফিকেটের তাৎপর্য তুলে ধরে বিচারপতি বলেন, ভারত ১৯৬১ সালের হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের একটি স্বাক্ষরকারী দেশ। সেই কারণে ভারত অন্যান্য সদস্য দেশ থেকে জারি করা অ্যাপোস্টিল করা সরকারি নথিপত্রকে বিশ্বাসযোগ্যতা দিতে বাধ্য। এছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২০ সালে স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, ওইসব অ্যাপোস্টিল করা নথিপত্রের জন্য ভারতীয় দূতাবাসগুলোর দ্বারা আর কোনো সত্যায়নের প্রয়োজন নেই। সুতরাং, মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন অনুমোদন কমিটির উচিত ছিল মা ও ছেলের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তাদের জমা দেয়া নথিগুলো গ্রহণ করা।

 

আদেশে চেন্নাইয়ের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন অনুমোদন কমিটির কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করার কথা নয়।

 

একজন অনুবাদকের সাহায্যে নিজেদের পরিচালিত মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ওই নারী ও তার স্বামীর মধ্যকার সম্পর্ক নিশ্চিত হয়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেয়া উচিত ছিল উল্লেখ করে বিচারক বলেন, কমিটির নিজেদেরকে যে একমাত্র প্রাসঙ্গিক প্রশ্নটি করা উচিত ছিল তা হলো- প্রথম আবেদনকারী (গ্রহীতা) দ্বিতীয় আবেদনকারীর (দাতা) পুত্র ছিলেন কি না। তৃতীয় আবেদনকারী দ্বিতীয় আবেদনকারীর স্বামী ছিলেন কি না, সেটি অপ্রাসঙ্গিক ছিল। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, যদি কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত একটি অপ্রাসঙ্গিক বিবেচনার দ্বারা কলুষিত হয়, তবে তা বাতিলযোগ্য। শুধুমাত্র এই একটি কারণেই, আপত্তিকৃত (চ্যালেঞ্জাধীন) আদেশটি বাতিল করা হলো বলেও আদেশে উল্লেখ করেন বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন।