ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের নোয়াখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ চার পরিবর্তন নিয়ে রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল মেহেরপুর তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবি-গ্রামবাসীর প্রতিরোধে ব্যর্থ বিএসএফ, সীমান্তে সতর্ক অবস্থান এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বলাৎকার, আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ মেহেরপুর প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি ফারুক সম্পাদক মুক্ত রক্তাক্ত ছবি শেয়ার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি তিন মাসেই আ.লীগের অবস্থানে পৌঁছে গেছে: আসিফ মাহমুদ ঈদের ছুটি শেষে ফেরার পর এক গ্রুপে গণছাঁটাই, চাকরি হারালেন ১৮৬৮ শ্রমিক যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তি ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’, ক্ষেপণাস্ত্র মজুত মাত্র ২১% : ট্রাম্প

সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘গভীরভাবে আপত্তিকর ও অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

 

শনিবার (৬ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

 

পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য জাতির জন্য লজ্জাজনক। বক্তব্য দেওয়ার তিন দিন পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা প্রত্যাহার বা ব্যাখ্যা করেননি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো নিন্দা বা অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে জনমনে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, ওই মন্তব্যই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের প্রতিফলন।

 

এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যার সংজ্ঞা সংকুচিত করে বিষয়টির গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি কেবল শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) সংঘটিত মৃত্যুকে সীমান্ত হত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় নিহতদের ক্ষেত্রে এ সংজ্ঞা প্রযোজ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন-যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

 

আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করে পোস্টে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে অবৈধ গুলি, নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জেনেভা কনভেনশন ও এর অতিরিক্ত প্রটোকলও বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিষিদ্ধ করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কেবল প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক মাত্রায় বলপ্রয়োগ করতে পারে। অতিরিক্ত বা নির্বিচার প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

 

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ২০২০ সালে সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের মন্তব্যও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

 

তিনি অবিলম্বে এই অনভিপ্রেত বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

 

এর আগে, গত ২ জুন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, অন্যদেশের অভ্যন্তরে অপরাধে জড়িত থাকা বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত হলে সেটিকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না।

 

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা যেটাকে বর্ডার কিলিং বলছেন, সে সম্পর্কে যদি বিস্তারিত জানেন তাহলে খুশি হব। যদি অন্য দেশের বাহিনী আমাদের সীমান্তে বা শূন্যরেখায় এসে কাউকে হত্যা করে, সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বা সীমান্ত হত্যা বলতে পারি।

 

তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমাদের সীমানার ভেতরে কিংবা তাদের সীমানার ভেতরে কেউ কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে বা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করলে, সেটি তারা তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করবে। এটাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের

সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের

আপডেট সময় ০১:২১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘গভীরভাবে আপত্তিকর ও অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

 

শনিবার (৬ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

 

পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য জাতির জন্য লজ্জাজনক। বক্তব্য দেওয়ার তিন দিন পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা প্রত্যাহার বা ব্যাখ্যা করেননি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো নিন্দা বা অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে জনমনে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, ওই মন্তব্যই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের প্রতিফলন।

 

এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যার সংজ্ঞা সংকুচিত করে বিষয়টির গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি কেবল শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) সংঘটিত মৃত্যুকে সীমান্ত হত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় নিহতদের ক্ষেত্রে এ সংজ্ঞা প্রযোজ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন-যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

 

আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করে পোস্টে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে অবৈধ গুলি, নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জেনেভা কনভেনশন ও এর অতিরিক্ত প্রটোকলও বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিষিদ্ধ করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কেবল প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক মাত্রায় বলপ্রয়োগ করতে পারে। অতিরিক্ত বা নির্বিচার প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

 

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ২০২০ সালে সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের মন্তব্যও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

 

তিনি অবিলম্বে এই অনভিপ্রেত বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

 

এর আগে, গত ২ জুন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, অন্যদেশের অভ্যন্তরে অপরাধে জড়িত থাকা বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত হলে সেটিকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না।

 

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা যেটাকে বর্ডার কিলিং বলছেন, সে সম্পর্কে যদি বিস্তারিত জানেন তাহলে খুশি হব। যদি অন্য দেশের বাহিনী আমাদের সীমান্তে বা শূন্যরেখায় এসে কাউকে হত্যা করে, সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বা সীমান্ত হত্যা বলতে পারি।

 

তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমাদের সীমানার ভেতরে কিংবা তাদের সীমানার ভেতরে কেউ কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে বা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করলে, সেটি তারা তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করবে। এটাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না।