এবার লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ না করায় ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। টেলিগ্রামে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক পোস্টে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার (৭ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। হামলার কারণে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ‘এ পর্যন্ত ইরান থেকে নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে।’ হামলা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয় হোম ফ্রন্ট কমান্ড। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তারা। ইরানি গণমাধ্যমে এই হামলাকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ (রোববার) রাতের এই অভিযান ছিল একটি সতর্কবার্তা। যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে আমাদের জবাব আরও বিস্তৃত হবে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সব মার্কিন–জায়নবাদী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে।’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ লিখেছেন, ইরান বারবার বলেছে, তারা ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন’ সহ্য করবে না।
তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আগ্রাসীরা তাদের জবাব পেয়েছে। এই জবাব তাদের অশুভ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য একটি সতর্কবার্তা। নতুন কোনও পদক্ষেপ নেয়া হলে তার জবাব হবে আরও কঠোর এবং তার মূল্যও হবে অনেক বেশি।’ এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে ইরানে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানাবেন।
চ্যানেল ১২–এর সাংবাদিক বারাক রাভিদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের হামলায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আশা করি ইসরায়েল পাল্টা জবাব দেবে না। যদি বিবি (নেতানিয়াহু) পাল্টা আঘাত হানেন, তাহলে গত ৪৭ বছর কিংবা গত ৩ হাজার বছরের মতো সংঘাত চলতেই থাকবে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। এটি একটি ভালো চুক্তি হবে। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আমি চাই না সেটি ভেস্তে যাক।’

ডেস্ক রিপোর্ট 






















