ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত নির্বাচনে ইসলামের কথা বলে জাতিকে ধোঁকা দিয়েছে: রেজাউল করীম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

রেজাউল করীম বলেছেন, আমরা মুসলমান—ইসলামের নীতি-আদর্শ ধারণ করেই কাজকর্ম করা আমাদের প্রিয়। এভাবেই চলার চেষ্টা করছি। ইসলাম এমন নীতি-আদর্শ—এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে সুন্দর সমাধান দেয়নি। ইসলামি নীতি-আদর্শই মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ সুনিশ্চিত করে। ইসলামি নীতি-আদর্শ অনুযায়ী সর্বক্ষেত্রে চলা, সে ‍অনুযায়ী নিজেদের জীবন গঠন করা আমাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়। ইসলামের জন্য দুই জায়গাতে কাজ করতে ভালো লাগে।

সম্প্রতি এক গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে জানা-অজানা বহু প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

রেজাউল করীম বলেন, চরমোনাই মুরিদ এবং ইসলামী আন্দোলনের যারা কর্মী রয়েছেন, তারা একটি শরীরের দুটি হাতের মতোই। এরা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। পার্থক্যটা হলো রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক—এ দুটি প্ল্যাটফর্ম আব্বাজান রহ. (সৈয়দ ফজলুল হক করীম) তৈরি করে গেছেন। ইসলামকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ক্ষমতায়ন করার যে কাজ করি, প্রতিটি মানুষের জন্য সাধ্যনুযায়ী এ চেষ্টা করা ফরজ। সে হিসেবে এখানে কোনো ভিন্নতা নেই।

তিনি বলেন, কথাটা একটু ব্যতিক্রম। শুরুতে ১১ দলীয় জোট ছিল না। শুরুতে এটি ছিল আট দলীয় সমঝোতা। সমঝোতা আর জোট এক নয়। জোট হয় নেতৃত্বে। সমঝোতা হয় গোলটেবিলে বসে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করা। পরবর্তীতে ১১ দলীয় জোট বলে যে পরিচয় দেওয়া হলো—সেখানে এনসিপিসহ অন্যান্য দলকে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াটা আট দলীয় সমঝোতায় যারা ছিলাম, তাদের সঙ্গে আগে আলোচনা করা হয়নি। আলোচনা ছাড়াই ভিন্নভাবে তাদেরকে সংযুক্ত করে। তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের কমিটমেন্ট দেয়। এরপর তারা ১১ দলীয় জোট হিসেবে রূপরেখা তৈরি করে।

তাদের সঙ্গে আমাদের প্রথম কথা ছিল এটা সমঝোতা থাকবে, জোট থাকবে না। এটা তারা প্রথমে ভেঙে দেয়। তারা ওয়াদা রক্ষা করেনি। এরপর যখন তারা ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালাবে না বিষয়টি প্রকাশ করে, তখন তাদের সঙ্গে থাকতে পারি না। কারণ, আমরা তো ইসলামের জন্য রাজনীতি করি। ইসলামি নীতি-আদর্শে দেশ পরিচালনার বিশ্বাস নিয়ে রাজনীতি করি। তাদের সঙ্গ ছেড়ে দেওয়ার এটাই মূল কারণ। এটাই বাস্তবতা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ভুল থাকবে কেন? আমরা বলব, আমরাই বিজয়ী হয়েছি। কারণ, আমরা ইসলামি নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য ইসলামি রাজনীতি দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিই। বলেছিলাম, ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স থাকবে। অন্যান্য যারা ইসলামি দল পরিচয় দেওয়ার পরে ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না, ইসলামের পক্ষে বাক্স দেবে না, তখন ইসলামের পক্ষে বাক্স দিতে পারাকেই বিজয় হিসেবে নিয়েছি। আমরা ওয়াদা রক্ষা করতে পেরেছি। ইসলামিক দল হিসেবে দেশে পরিচয় লাভ করতে পেরেছি, এজন্য আমরা সবদিক থেকে খুশি। এটাকে বিজয় হিসেবে লক্ষ্য করেছি।

রেজাউল করীম বলেন, ১১ দলীয় জোট যেহেতু ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবে না, এখানে ইসলাম শব্দ ব্যবহারের আর অর্থ থাকে না। তারা বলেছে, গতানুগতিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। এখানে ইসলাম বিজয় হওয়া না-হওয়ার প্রশ্নই তো আসে না। তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলাম শব্দ, ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালাবে, এ ধরনের কমিটমেন্ট দেখিনি। তারা যদি ইসলামের কথা বলে থাকে, তাহলে তারা ধোঁকা দিয়ে ভোট নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছে। তারা জাতিকে ধোঁকা দিয়েছে, প্রতারণা করেছে।

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গহীন অরণ্যে স্বস্তির আলো: ফ্যামিলি কার্ডে হাসছে বদনীভাঙ্গার নারীরা

জামায়াত নির্বাচনে ইসলামের কথা বলে জাতিকে ধোঁকা দিয়েছে: রেজাউল করীম

আপডেট সময় ০২:১২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

রেজাউল করীম বলেছেন, আমরা মুসলমান—ইসলামের নীতি-আদর্শ ধারণ করেই কাজকর্ম করা আমাদের প্রিয়। এভাবেই চলার চেষ্টা করছি। ইসলাম এমন নীতি-আদর্শ—এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে সুন্দর সমাধান দেয়নি। ইসলামি নীতি-আদর্শই মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ সুনিশ্চিত করে। ইসলামি নীতি-আদর্শ অনুযায়ী সর্বক্ষেত্রে চলা, সে ‍অনুযায়ী নিজেদের জীবন গঠন করা আমাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়। ইসলামের জন্য দুই জায়গাতে কাজ করতে ভালো লাগে।

সম্প্রতি এক গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে জানা-অজানা বহু প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

রেজাউল করীম বলেন, চরমোনাই মুরিদ এবং ইসলামী আন্দোলনের যারা কর্মী রয়েছেন, তারা একটি শরীরের দুটি হাতের মতোই। এরা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। পার্থক্যটা হলো রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক—এ দুটি প্ল্যাটফর্ম আব্বাজান রহ. (সৈয়দ ফজলুল হক করীম) তৈরি করে গেছেন। ইসলামকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ক্ষমতায়ন করার যে কাজ করি, প্রতিটি মানুষের জন্য সাধ্যনুযায়ী এ চেষ্টা করা ফরজ। সে হিসেবে এখানে কোনো ভিন্নতা নেই।

তিনি বলেন, কথাটা একটু ব্যতিক্রম। শুরুতে ১১ দলীয় জোট ছিল না। শুরুতে এটি ছিল আট দলীয় সমঝোতা। সমঝোতা আর জোট এক নয়। জোট হয় নেতৃত্বে। সমঝোতা হয় গোলটেবিলে বসে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করা। পরবর্তীতে ১১ দলীয় জোট বলে যে পরিচয় দেওয়া হলো—সেখানে এনসিপিসহ অন্যান্য দলকে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াটা আট দলীয় সমঝোতায় যারা ছিলাম, তাদের সঙ্গে আগে আলোচনা করা হয়নি। আলোচনা ছাড়াই ভিন্নভাবে তাদেরকে সংযুক্ত করে। তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের কমিটমেন্ট দেয়। এরপর তারা ১১ দলীয় জোট হিসেবে রূপরেখা তৈরি করে।

তাদের সঙ্গে আমাদের প্রথম কথা ছিল এটা সমঝোতা থাকবে, জোট থাকবে না। এটা তারা প্রথমে ভেঙে দেয়। তারা ওয়াদা রক্ষা করেনি। এরপর যখন তারা ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালাবে না বিষয়টি প্রকাশ করে, তখন তাদের সঙ্গে থাকতে পারি না। কারণ, আমরা তো ইসলামের জন্য রাজনীতি করি। ইসলামি নীতি-আদর্শে দেশ পরিচালনার বিশ্বাস নিয়ে রাজনীতি করি। তাদের সঙ্গ ছেড়ে দেওয়ার এটাই মূল কারণ। এটাই বাস্তবতা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ভুল থাকবে কেন? আমরা বলব, আমরাই বিজয়ী হয়েছি। কারণ, আমরা ইসলামি নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য ইসলামি রাজনীতি দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিই। বলেছিলাম, ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স থাকবে। অন্যান্য যারা ইসলামি দল পরিচয় দেওয়ার পরে ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না, ইসলামের পক্ষে বাক্স দেবে না, তখন ইসলামের পক্ষে বাক্স দিতে পারাকেই বিজয় হিসেবে নিয়েছি। আমরা ওয়াদা রক্ষা করতে পেরেছি। ইসলামিক দল হিসেবে দেশে পরিচয় লাভ করতে পেরেছি, এজন্য আমরা সবদিক থেকে খুশি। এটাকে বিজয় হিসেবে লক্ষ্য করেছি।

রেজাউল করীম বলেন, ১১ দলীয় জোট যেহেতু ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবে না, এখানে ইসলাম শব্দ ব্যবহারের আর অর্থ থাকে না। তারা বলেছে, গতানুগতিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। এখানে ইসলাম বিজয় হওয়া না-হওয়ার প্রশ্নই তো আসে না। তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলাম শব্দ, ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালাবে, এ ধরনের কমিটমেন্ট দেখিনি। তারা যদি ইসলামের কথা বলে থাকে, তাহলে তারা ধোঁকা দিয়ে ভোট নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছে। তারা জাতিকে ধোঁকা দিয়েছে, প্রতারণা করেছে।