ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুইস ব্যাংকে এক বছরে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশি নাগরিকদের জমা অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ যেখানে ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার মতো।

 

টানা দুই বছর কমে ২০২৩ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে নেমে এসেছিল, যা ২৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এরপর দুই বছর ধরে ওই পরিমাণ আবার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

 

সুইস ফ্রাঁর খুব একটা প্রচলন নেই বাংলাদেশে। বর্তমান বাজারদর অনুসারে এক সুইস ফ্রাঁতে ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরলে সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে সুইস ব্যাংকে ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর গত বছরই (২০২৫ সাল) বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে সুইস ব্যাংকগুলোতে। গত ১০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ জমা ছিল ২০২৫ সালে।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে জমা হয়। বাংলাদেশের অনেক ব্যাংকও বৈধ পথে দেশটির ব্যাংকে অর্থ জমা রাখে। আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুইস ব্যাংকের শাখাগুলোয় সেসব দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও অর্থ জমা রাখেন, সেগুলোও সুইস ব্যাংকে জমা অর্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন দেশ থেকে জমা হওয়া এসব অর্থ সে দেশের দায় হিসাবে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে থাকে। এর মানে হলো সুইস ব্যাংকে রাখা সব অর্থ পাচার করা নয়।

প্রতিবেদনে এসএনবি জানায়, ২০২২ ও ২০২৩ সালে পরপর দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছিল। ওই দুই বছর যথাক্রমে সাড়ে পাঁচ কোটি সুইস ফ্রাঁ ও পৌনে দুই কোটি সুইস ফ্রাঁ জমা ছিল।

আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। ফলে এখন অনেকে ব্যবসা–বাণিজ্যের আড়ালে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করেন বলেও অভিযোগ আছে।

দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের যে টাকা জমা রয়েছে, তার ‘বেশিরভাগটাই অবৈধভাবে অর্জিত এবং বিদেশে পাচার’ করা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সুইস ব্যাংকে এক বছরে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ

আপডেট সময় ১১:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশি নাগরিকদের জমা অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ যেখানে ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার মতো।

 

টানা দুই বছর কমে ২০২৩ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে নেমে এসেছিল, যা ২৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এরপর দুই বছর ধরে ওই পরিমাণ আবার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

 

সুইস ফ্রাঁর খুব একটা প্রচলন নেই বাংলাদেশে। বর্তমান বাজারদর অনুসারে এক সুইস ফ্রাঁতে ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরলে সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে সুইস ব্যাংকে ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর গত বছরই (২০২৫ সাল) বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে সুইস ব্যাংকগুলোতে। গত ১০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ জমা ছিল ২০২৫ সালে।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে জমা হয়। বাংলাদেশের অনেক ব্যাংকও বৈধ পথে দেশটির ব্যাংকে অর্থ জমা রাখে। আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুইস ব্যাংকের শাখাগুলোয় সেসব দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও অর্থ জমা রাখেন, সেগুলোও সুইস ব্যাংকে জমা অর্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন দেশ থেকে জমা হওয়া এসব অর্থ সে দেশের দায় হিসাবে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে থাকে। এর মানে হলো সুইস ব্যাংকে রাখা সব অর্থ পাচার করা নয়।

প্রতিবেদনে এসএনবি জানায়, ২০২২ ও ২০২৩ সালে পরপর দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছিল। ওই দুই বছর যথাক্রমে সাড়ে পাঁচ কোটি সুইস ফ্রাঁ ও পৌনে দুই কোটি সুইস ফ্রাঁ জমা ছিল।

আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। ফলে এখন অনেকে ব্যবসা–বাণিজ্যের আড়ালে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করেন বলেও অভিযোগ আছে।

দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের যে টাকা জমা রয়েছে, তার ‘বেশিরভাগটাই অবৈধভাবে অর্জিত এবং বিদেশে পাচার’ করা হয়েছে।