ঢাকা , রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাতে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির মুখোমুখি আইভরি কোস্ট ইরান হরমুজ বন্ধ করার পর লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ ইসরায়েলের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস ওয়াশরুমের গোপন সুড়ঙ্গে লুকিয়েও রেহাই পেলেন না নায়িকা ববির স্বামী ব্রাজিলের জয়, মাথা ন্যাড়া করে কথা রাখলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্বকাপে পরের ম্যাচেই যে তিনটি রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা মেসির পশ্চিমবঙ্গ সফরে দেশভাগ ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যা বললেন মোদি লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে হরমুজ বন্ধের ঘোষণা ইরানের: বিবিসি ‘পায়ে গুলি করার’ অডিও ভাইরাল, হুমকি নয় ‘মশকরা’ বললেন এমপি শাহজাহান যে ৬ কারণে এবারই বিশ্বকাপ জিততে পারে ব্রাজিল

ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি ছিল পাকিস্তানের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

 

ঐতিহাসিকভাবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল, বৈরী ও সংঘাতপূর্ণ। দেশভাগের পর থেকেই কাশ্মীর সংকট, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও সিন্দু নদের পানিবণ্টন নিয়ে ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র একাধিক বড় যুদ্ধেও জড়িয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার জেরে টানা ১৭ দিন ধরে যুদ্ধ করেছিল।

 

রক্তক্ষয়ী ওই লড়াইয়ে ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ভয়াবহ পরিকল্পনা এঁটেছিল পাকিস্তান। এমনকি হামলার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুতও করেছিল তারা। শুধুমাত্র উচ্চ পর্যায় তথা সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে দরকার ছিল গ্রিন সিগন্যালের। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই সিগন্যাল বা অনুমতি মেলেনি। আর এজন্য নিজের ভূমিকার কথা দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক মার্ক ক্যাপুটোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মূলত তার অনুরোধের প্রেক্ষিতেই আগ বাড়িয়ে হামলা করা ভারতের ভূখণ্ডে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত থেকেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

 

৪৫ মিনিটের ‘অ্যাক্সিওস শো’-তে উপস্থাপকের করা ইরান প্রসঙ্গ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক শক্তির আসলে কোনো সীমা নেই। বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে আমেরিকার।

ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যখন তীব্র লড়াই চলছিল এবং দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন তিনি হস্তক্ষেপ করেন। ট্রাম্পের দাবি, ওই সময় ১১টি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। পাকিস্তান তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এবং তারা অনুরোধ করায় তিনি ভারতকে আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নিতে আহ্বান জানান এবং দুই পক্ষকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখেন।

 

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, এই সফল মধ্যস্থতার পর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বীকার করেছিলেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কারণে ৫০ মিলিয়ন (৫ কোটি) মানুষের জীবন বেঁচে গেছে। তবে ট্রাম্পের মতে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আসলে এর চেয়েও অনেক বেশি হতো। কারণ ভারতের দেড়শ কোটি জনসংখ্যার দিকে তাকালে এই সংখ্যাটি কিছুই না। মূলত নিজের একক কৃতিত্বেই তিনি দুই পারমাণবিক দেশের মধ্যকার একটি ভয়াবহ যুদ্ধ থামিয়েছিলেন বলে এই বক্তব্যে দাবি করেন।

 

ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তান আমাকে অনুরোধ করেছিল, যেহেতু তারা আমাদের ঘনিষ্ঠ, যেন আমরা আর কোনো পদক্ষেপ না নেই। আমি বলেছিলাম, আমি তাদের খুব পছন্দ করি। আপনারা জানেন, আমি ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধ থেকে বিরত রেখেছিলাম। দুটি দেশই পারমাণবিক শক্তিধর। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৫০ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। কারণ তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে যাচ্ছিল।

তিনি বলেন, ১১টি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল। দুই দেশই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। আমি এসবের খবর পাচ্ছিলাম এবং কিছু ভয়াবহ ছবিও দেখেছিলাম। ভারত ও পাকিস্তান অতীতেও যুদ্ধ করেছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। উভয় দেশই ব্যাপক পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত ছিল এবং তারা সেগুলো ব্যবহার করতে যাচ্ছিল।

 

মার্কিন প্রেসিডেনের দাবি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। তবে আমার মনে হয় সংখ্যাটা এর চেয়েও অনেক বেশি। শুধু ভারতের জনসংখ্যাই প্রায় দেড়শ কোটি। সেই হিসাবে ৫০ মিলিয়ন খুব বেশি নয়। তাই আমি মনে করি, আমাদের সক্ষমতার কোনো সীমা নেই। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আমাদের।

 

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা বৈসারানে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ওই ঘটনায় সেসময় সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে নয়াদিল্লি। দুই জনের বেশি মানুষের প্রাণ হরণের অভিযোগে ৭ মে গভীর রাতে পাকিস্তান ও আজাদ কাশ্মীরের নয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ভারত।

 

জবাবে ‘অপারেশন বুনয়ান আল-মারসুস’ নামে আক্রমণ শুরু করে ইসলামাবাদ। এ ছাড়াও আন্তঃসীমান্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও সাইবার হামলা চালায়। পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের এই সংঘাত বৈশ্বিক উদ্বেগের সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১১ মে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাতে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির মুখোমুখি আইভরি কোস্ট

ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি ছিল পাকিস্তানের

আপডেট সময় ১০:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

ঐতিহাসিকভাবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল, বৈরী ও সংঘাতপূর্ণ। দেশভাগের পর থেকেই কাশ্মীর সংকট, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও সিন্দু নদের পানিবণ্টন নিয়ে ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র একাধিক বড় যুদ্ধেও জড়িয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার জেরে টানা ১৭ দিন ধরে যুদ্ধ করেছিল।

 

রক্তক্ষয়ী ওই লড়াইয়ে ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ভয়াবহ পরিকল্পনা এঁটেছিল পাকিস্তান। এমনকি হামলার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুতও করেছিল তারা। শুধুমাত্র উচ্চ পর্যায় তথা সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে দরকার ছিল গ্রিন সিগন্যালের। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই সিগন্যাল বা অনুমতি মেলেনি। আর এজন্য নিজের ভূমিকার কথা দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক মার্ক ক্যাপুটোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মূলত তার অনুরোধের প্রেক্ষিতেই আগ বাড়িয়ে হামলা করা ভারতের ভূখণ্ডে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত থেকেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

 

৪৫ মিনিটের ‘অ্যাক্সিওস শো’-তে উপস্থাপকের করা ইরান প্রসঙ্গ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক শক্তির আসলে কোনো সীমা নেই। বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে আমেরিকার।

ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যখন তীব্র লড়াই চলছিল এবং দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন তিনি হস্তক্ষেপ করেন। ট্রাম্পের দাবি, ওই সময় ১১টি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। পাকিস্তান তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এবং তারা অনুরোধ করায় তিনি ভারতকে আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নিতে আহ্বান জানান এবং দুই পক্ষকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখেন।

 

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, এই সফল মধ্যস্থতার পর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বীকার করেছিলেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কারণে ৫০ মিলিয়ন (৫ কোটি) মানুষের জীবন বেঁচে গেছে। তবে ট্রাম্পের মতে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আসলে এর চেয়েও অনেক বেশি হতো। কারণ ভারতের দেড়শ কোটি জনসংখ্যার দিকে তাকালে এই সংখ্যাটি কিছুই না। মূলত নিজের একক কৃতিত্বেই তিনি দুই পারমাণবিক দেশের মধ্যকার একটি ভয়াবহ যুদ্ধ থামিয়েছিলেন বলে এই বক্তব্যে দাবি করেন।

 

ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তান আমাকে অনুরোধ করেছিল, যেহেতু তারা আমাদের ঘনিষ্ঠ, যেন আমরা আর কোনো পদক্ষেপ না নেই। আমি বলেছিলাম, আমি তাদের খুব পছন্দ করি। আপনারা জানেন, আমি ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধ থেকে বিরত রেখেছিলাম। দুটি দেশই পারমাণবিক শক্তিধর। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৫০ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। কারণ তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে যাচ্ছিল।

তিনি বলেন, ১১টি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল। দুই দেশই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। আমি এসবের খবর পাচ্ছিলাম এবং কিছু ভয়াবহ ছবিও দেখেছিলাম। ভারত ও পাকিস্তান অতীতেও যুদ্ধ করেছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। উভয় দেশই ব্যাপক পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত ছিল এবং তারা সেগুলো ব্যবহার করতে যাচ্ছিল।

 

মার্কিন প্রেসিডেনের দাবি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। তবে আমার মনে হয় সংখ্যাটা এর চেয়েও অনেক বেশি। শুধু ভারতের জনসংখ্যাই প্রায় দেড়শ কোটি। সেই হিসাবে ৫০ মিলিয়ন খুব বেশি নয়। তাই আমি মনে করি, আমাদের সক্ষমতার কোনো সীমা নেই। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আমাদের।

 

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা বৈসারানে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ওই ঘটনায় সেসময় সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে নয়াদিল্লি। দুই জনের বেশি মানুষের প্রাণ হরণের অভিযোগে ৭ মে গভীর রাতে পাকিস্তান ও আজাদ কাশ্মীরের নয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ভারত।

 

জবাবে ‘অপারেশন বুনয়ান আল-মারসুস’ নামে আক্রমণ শুরু করে ইসলামাবাদ। এ ছাড়াও আন্তঃসীমান্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও সাইবার হামলা চালায়। পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের এই সংঘাত বৈশ্বিক উদ্বেগের সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১১ মে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।