ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পর্শকাতর তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাস চুয়াডাঙ্গায় বাল্যবিয়ের আয়োজনে প্রশাসনের হানা, কনের মাকে জরিমানা লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হলেন যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফরের বিচার অন্য আসামিদের মতোই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেক্সিকোতে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে বাস খাদে, শিক্ষার্থীসহ নিহত ২১ শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: নয়াদিল্লি ইরানি হামলায় কুয়েত সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আহত র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল কখনও বিশ্বকাপ ট্রফি জেতেনি, এবার পারবে আর্জেন্টিনা? ফকল্যান্ড নিয়ে ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু ফিফার

পশ্চিমবঙ্গ সফরে দেশভাগ ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যা বললেন মোদি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ৩০৬ বার পড়া হয়েছে

তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা থেকে বিদায় ও নিজ দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সফর করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দু’দিনের সফরে শনিবার রাজ্যে পৌঁছে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের (২০ জুন) এক অনুষ্ঠানে দেশভাগ, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আরএন রবি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালন করা হতো। তবে সরকার বদলের পর স্থির হয়েছে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হবে। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পাশ হয়েছিল বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায়। তার নেপথ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের।

 

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের মঞ্চ থেকে তা নিয়ে এই দিনটির গুরুত্ব তুলে ধরেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভাজনের সময়ে কংগ্রেস বাংলাকে অবহেলায় ফেলে রাখতে চেয়েছিল। বিভাজনের পরে অবশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গকে নিয়েও তোষণের খেলা শুরু করে দিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মহান সন্তানদের সঙ্গে যে মাটির যোগ রয়েছে, সেখানে বিদেশি বিচারধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে কংগ্রেস, তার পরে বামেরা, তার পরে তৃণমূল—দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আড্ডা হয়ে উঠতে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালে কলকাতায় হিংসা, নোয়াখালির হিংসায় কত নির্দোষ বাঙালি মারা গিয়েছেন। বাংলা রক্তপাত সহ্য করেছে। নিজের পরিজনকে হারিয়েছেন। মাতৃভূমিকে টুকরো হতে দেখেছেন। কিন্তু বাংলা নিজের অস্মিতা এবং পরিচয়কে নষ্ট হতে দেয়নি।

 

ভারতের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন পুরো বাংলাকে ভারত থেকে পৃথক করার পরিকল্পনা চলছিল, তখন পশ্চিমবঙ্গ বানিয়ে ওই পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হয়নি। আমরা পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে শুধু একটা তারিখ হিসাবে স্মরণ করছি না। পুরো ইতিহাসকে স্মরণ করছি।

 

মোদি বলেন, ‘‘ওই সময়ে কী হচ্ছিল, তা জানা দরকার। যখন পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ হিসাবে যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছিল, তখন কংগ্রেস ওই ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে হার মেনে নিয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তার বিরুদ্ধে সরব হন। ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে তিনি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাশ করান। তিনি ঘোষণা করেন, পুরো বাংলা পাকিস্তানের অংশ হবে না।’’

 

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা নিয়ে আগের রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের কাজ আটকে রেখেছিল। নতুন সরকার এসেই জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু করেছে।’’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পর্শকাতর তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাস

পশ্চিমবঙ্গ সফরে দেশভাগ ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যা বললেন মোদি

আপডেট সময় ১১:২৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা থেকে বিদায় ও নিজ দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সফর করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দু’দিনের সফরে শনিবার রাজ্যে পৌঁছে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের (২০ জুন) এক অনুষ্ঠানে দেশভাগ, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আরএন রবি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালন করা হতো। তবে সরকার বদলের পর স্থির হয়েছে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হবে। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পাশ হয়েছিল বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায়। তার নেপথ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের।

 

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের মঞ্চ থেকে তা নিয়ে এই দিনটির গুরুত্ব তুলে ধরেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভাজনের সময়ে কংগ্রেস বাংলাকে অবহেলায় ফেলে রাখতে চেয়েছিল। বিভাজনের পরে অবশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গকে নিয়েও তোষণের খেলা শুরু করে দিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মহান সন্তানদের সঙ্গে যে মাটির যোগ রয়েছে, সেখানে বিদেশি বিচারধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে কংগ্রেস, তার পরে বামেরা, তার পরে তৃণমূল—দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আড্ডা হয়ে উঠতে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালে কলকাতায় হিংসা, নোয়াখালির হিংসায় কত নির্দোষ বাঙালি মারা গিয়েছেন। বাংলা রক্তপাত সহ্য করেছে। নিজের পরিজনকে হারিয়েছেন। মাতৃভূমিকে টুকরো হতে দেখেছেন। কিন্তু বাংলা নিজের অস্মিতা এবং পরিচয়কে নষ্ট হতে দেয়নি।

 

ভারতের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন পুরো বাংলাকে ভারত থেকে পৃথক করার পরিকল্পনা চলছিল, তখন পশ্চিমবঙ্গ বানিয়ে ওই পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হয়নি। আমরা পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে শুধু একটা তারিখ হিসাবে স্মরণ করছি না। পুরো ইতিহাসকে স্মরণ করছি।

 

মোদি বলেন, ‘‘ওই সময়ে কী হচ্ছিল, তা জানা দরকার। যখন পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ হিসাবে যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছিল, তখন কংগ্রেস ওই ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে হার মেনে নিয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তার বিরুদ্ধে সরব হন। ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে তিনি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাশ করান। তিনি ঘোষণা করেন, পুরো বাংলা পাকিস্তানের অংশ হবে না।’’

 

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা নিয়ে আগের রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের কাজ আটকে রেখেছিল। নতুন সরকার এসেই জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু করেছে।’’