জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম এক ফেসবুক পোস্টে জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
পোস্টে সারজিস আলম বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ কিংবা আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপির কোনো কথা আপনাদের মন মতো না হলে কিংবা সংসদীয় বিধিকে অতিক্রম করলে আপনারা যেই টোনে বলেন- ‘এটা শাহবাগ নয়’ সেই টোনটা ‘জুলাইয়ের রাজপথ’কে খাটো করার টোন।’
পোস্টে তিনি বলেন, ‘একটা বিষয়ে খুব ভালো করে মনে রাখবেন মাননীয় স্পিকার- জনগণ ইতঃপূর্বে বিএনপি’র দ্বারা প্রতারিত হওয়ার কারণে ১৪, ১৮, ২৪ এর ভোট চুরির নির্বাচনের পরও আপনাদের ডাকে সাড়া দেয়নি, আপনাদের পক্ষে রাজপথে নামেনি। কারণ আপনাদের প্রতিও তাদের সেই আস্থাটা আর ছিল না। ২৮ অক্টোবরে যখন আপনারা কয়েক ঘন্টাও রাজপথে স্থায়ী হতে পারেননি তখন সাধারণ মানুষ ধারণা করেছিল বিএনপির সময় বোধ হয় শেষ হয়ে এলো। সর্বশেষ ২৪ এর নির্বাচনের পরে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারায় বিএনপি আর কখনো প্রথম সারির রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশী ফিরতে পারবে কিনা সেই আশঙ্কাও জোরেশোরে মানুষের মনে দানা বেঁধেছিল।’
পোস্টে তিনি আরও বলেন, অতঃপর ২৪ এর জুলাই এলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে ‘শাহবাগ চত্বর’, সেখান থেকে পুরো বাংলাদেশে জুলাই ছড়িয়ে পড়লো। জুলাইয়ের ওই রাজপথই আজকে আপনাদেরকে সুযোগ করে দিয়েছে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রত্যাবর্তনের, এমপি, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের, এমনকি আপনাদেরকে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার হওয়ার।
সারজিস আলম বলেন, ‘কোনো কথা পছন্দ না হলে কিংবা বিধি বহির্ভূত হলে বিধি অনুযায়ী সংশোধন করবেন। জুলাইয়ের শাহবাগ কিংবা রাজপথকে মকারি করে কথা বলার যে নতুন ব্যাধি আপনাদের ধরেছে সেটা থেকে আগামীতে বিরত থাকবেন এই প্রত্যাশা থাকবে।’
‘এই শাহবাগ আওয়ামী লীগের স্বৈরাচার হয়ে উঠার নয়, বিএনপি’র নীরবতার নয়, ২৪ এর এই শাহবাগ জুলাইয়ের এপিসেন্টার, পরিবর্তনের আশায় বুক বেঁধে রাজপথে নামা আপামর ছাত্র জনতার।’

ডেস্ক রিপোর্ট 



















