ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শিবির হত্যার বিচার না পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছেড়েদেন বিএনপি নেতা সরকারি দলের দায়িত্বহীন বক্তব্যে দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাড়ছে: জামায়াত আমির ইরানের পক্ষে যুদ্ধে না জড়ানোয় এরদোয়ানের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প রাজনৈতিক খুনোখুনি: দায় চাপিয়ে দায়মুক্তি চাইছে বিএনপি-জামায়াত? খামেনির শেষ বিদায়ে ইরানের আমন্ত্রণ পেয়ে ‘বিপাকে’ মোদি ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার উপকূলে ব্যাপক লুটপাট আশুরার রোজা কয়টি? আলেমদের অভিমত কী বলছে ‘চার মাসের মধ্যে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে দেশ’ ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধার প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা

রাজনৈতিক খুনোখুনি: দায় চাপিয়ে দায়মুক্তি চাইছে বিএনপি-জামায়াত?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতার পালাবদলের মাত্র চার মাসের মাথায় দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জড়িয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি, প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এমনকি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও সামনে এসেছে।

 

রাজনৈতিক মতবিরোধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন, আধিপত্য বিস্তার, স্থানীয় প্রভাব-প্রতিপত্তি, বাজার-ইজারা ও আর্থিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে সহিংসতার এই চিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত চার মাসে অন্তত ৩০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ২৫ জন এবং বিএনপি-জামায়াত সংঘাতে নিহত হয়েছেন আরও ৫ জন। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও দুই দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর বা পাল্টাপাল্টি সহিংসতার খবর সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে।

 

প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে গুলি বা কুপিয়ে হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। ১৩ জুন চট্টগ্রামের রাউজানে বাজারের মধ্যে এক যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নতুন সরকারের অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনৈতিক বিরোধে ধারাবাহিক খুনোখুনির ঘটনাকে অনেকে অশনিসংকেত হিসেবেও দেখছেন। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

 

 

বিশ্লেষকরা মতে ‘অশনিসংকেত’

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘গত চার মাসে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়েছেন, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অশনিসংকেত।’’ তার মতে, এ ধরনের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে দুই দলেরই সাংগঠনিক ঘাটতি রয়েছে। যদিও আলোচিত কিছু ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তা তৃণমূল পর্যায়ে যথেষ্ট বার্তা দিতে পারছে না। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা অতীতের চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় দল দুটিকে আরও সংযমী ও সহনশীল হতে হবে, নইলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।

 

বাড়ছে রাজনৈতিক খুন, থামছে না সংঘর্ষ

 

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই একাধিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও তুচ্ছ বিরোধ, কোথাও পূর্বশত্রুতা, কোথাও আধিপত্যের লড়াই। সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে খুনের ঘটনাও যেন ধীরে ধীরে ‘স্বাভাবিক’ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে।

 

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) এপ্রিল মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের প্রথম তিন মাসেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে অন্তত ২৫ জন এবং বিএনপি-জামায়াত সংঘাতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। দেড় শতাধিক সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৬ শতাধিক মানুষ। মে-জুনেও একই ধরনের আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে।

 

সহিংসতার নেপথ্যে কী?

 

গত কয়েক মাসে প্রকাশিত সহিংসতার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর পেছনে রয়েছে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, হাটবাজারের ইজারা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভিন্নমতের সহনশীল হতে না পারা ও প্রতিপক্ষকে দমন করার মানসিকতা। ফলে তুচ্ছ কথা-কাটাকাটি বা ছোটখাটো বিরোধও দ্রুত সহিংস রূপ নিচ্ছে। এর জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে।

 

সাম্প্রতিক আলোচিত কয়েকটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড

 

নতুন সরকারের চার মাসে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে, কারণ সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল প্রকাশ্য ও নৃশংস।

 

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা

 

১৩ জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে স্থানীয় যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপনের ছোট ভাই এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। দিনের আলোয় অস্ত্র উঁচিয়ে হামলাকারীদের চলে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

সাঘাটায় ছাত্রশিবির নেতা খুন

 

২২ জুন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সাইফুল্লাহ (২৪) বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় জামায়াত-শিবির বিএনপিকে দায়ী করে এবং যুবদল নেতা মোখলেসুর রহমান মুকুল, পলাশ ও আশরাফ খন্দকারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

 

ময়মনসিংহে বিএনপি কর্মী হত্যা

 

৩ জুন ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার চর ঈশ্বরদিয়া এলাকায় পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে রানা মিয়া (৩৩) নামে এক বিএনপি কর্মীকে লোহার রড ও শাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের ভাই এতে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। মামলায় ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো. মফিদুল ইসলাম মাস্টার ও তার ছেলেসহ ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। বিএনপি এটিকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বললেও জামায়াতের দাবি, এটি মূলত সম্পত্তিগত বিরোধের জের।

 

কালুখালীতে জামায়াত নেতাকে হত্যা ও লাশ পোড়ানো

 

১৫ জুন রাজবাড়ীর কালুখালীতে জামায়াত নেতা আসাদুল ইসলামকে হাত-পা বেঁধে হত্যার পর তার মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। নিহত আসাদুল ইসলাম (২৪) স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতের অর্থ সম্পাদক ছিলেন। জেলা জামায়াতের নেতারা এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপিকে দায়ী করেন।

 

চুয়াডাঙ্গায় সংঘর্ষের পর জামায়াত কর্মীর মৃত্যু

 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান আহত হন। পরদিন ১ মার্চ তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সীমান্ত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীনসহ কয়েকজনকে আসামি হয়েছে।

 

পলাশবাড়ীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ

 

৩০ মে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পানহাটের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত জামায়াত নেতা সামিউল ইসলাম অভি (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বিএনপিকে দায়ী করে বিক্ষোভ করেন।

 

কোন দৃষ্টিতে দেখছেন রাজনৈতিক নেতারা?

 

বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও খুনোখুনির ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ ভাগ-বাঁটোয়ারা, আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করলেও দল দুটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহাবস্থান রয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই সম্পর্কের জায়গা দখল করেছে রাষ্ট্রক্ষমতা, মাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা।

 

জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিগত ইউনূস সরকারের সময় জামায়াত অঘোষিতভাবে ক্ষমতার বলয়ে ছিল। ফলে এখনও তারা সেই প্রভাব ধরে রাখতে চায় এবং সে কারণেই বিএনপির সঙ্গে রেষারেষিতে জড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, ক্ষমতায় থাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরাও নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনে আগ্রহী।’’

 

রুহিন হোসেন প্রিন্সের ভাষ্য, জামায়াত আগামীতে বিএনপিকে দুর্বল করে নিজস্ব অবস্থান শক্ত করতে চাইবে, আর বিএনপিও পাল্টা হিসেবে জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধ-সংক্রান্ত বিতর্ক ও অতীতের নানা কর্মকাণ্ড সামনে আনছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাই শেষ পর্যন্ত বিরোধকে সহিংসতায় রূপ দিচ্ছে।

 

একই ধরনের মূল্যায়ন দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘ভাগবাটোয়ারা ও প্রভাব বিস্তারের দ্বন্দ্ব থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘাত বাড়ছে; এমনকি পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, একে অপরকে হত্যার মতো চরম সহিংসতার পথেও তারা যেতে দ্বিধা করছে না।’’

 

দায় চাপিয়েই দায়মুক্তি চাইছে দুই পক্ষ?

 

গত চার মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া একাধিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত উভয়পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দলই নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে ক্ষমতাসীনদের বক্তব্য, সব সরকার আমলেই কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটে থাকে; অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা থেকেই ক্ষমতাসীনদের একাংশ প্রতিপক্ষকে দমনে সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বর্তমান সরকারের সময়ে সংঘটিত বেশিরভাগ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মীরাই জড়িত।’’ তার দাবি, বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই এসব সহিংসতার বড় অংশের জন্ম হচ্ছে এবং সরকার তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক কোনও হত্যাকাণ্ডেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়িত নন।

 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ঠিকই, তবে সব ঘটনাকে রাজনৈতিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’’ তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধ বা স্থানীয় দ্বন্দ্বকেও রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। যদিও কিছু ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নাম এসেছে। তিনি বলেন, ‘‘ক্ষমতায় গেলে নানা সুযোগসন্ধানী লোক দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। তবে অভিযোগের সত্যতা মিললে সাংগঠনিকভাবে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।’’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সহিংসতা ও খুনোখুনির জন্য বর্তমান বিরোধী দলও অনেকাংশে দায়ী।’’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবির হত্যার বিচার না পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছেড়েদেন বিএনপি নেতা

রাজনৈতিক খুনোখুনি: দায় চাপিয়ে দায়মুক্তি চাইছে বিএনপি-জামায়াত?

আপডেট সময় ১২:১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতার পালাবদলের মাত্র চার মাসের মাথায় দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জড়িয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি, প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এমনকি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও সামনে এসেছে।

 

রাজনৈতিক মতবিরোধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন, আধিপত্য বিস্তার, স্থানীয় প্রভাব-প্রতিপত্তি, বাজার-ইজারা ও আর্থিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে সহিংসতার এই চিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত চার মাসে অন্তত ৩০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ২৫ জন এবং বিএনপি-জামায়াত সংঘাতে নিহত হয়েছেন আরও ৫ জন। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও দুই দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর বা পাল্টাপাল্টি সহিংসতার খবর সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে।

 

প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে গুলি বা কুপিয়ে হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। ১৩ জুন চট্টগ্রামের রাউজানে বাজারের মধ্যে এক যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নতুন সরকারের অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনৈতিক বিরোধে ধারাবাহিক খুনোখুনির ঘটনাকে অনেকে অশনিসংকেত হিসেবেও দেখছেন। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

 

 

বিশ্লেষকরা মতে ‘অশনিসংকেত’

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘গত চার মাসে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়েছেন, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অশনিসংকেত।’’ তার মতে, এ ধরনের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে দুই দলেরই সাংগঠনিক ঘাটতি রয়েছে। যদিও আলোচিত কিছু ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তা তৃণমূল পর্যায়ে যথেষ্ট বার্তা দিতে পারছে না। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা অতীতের চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় দল দুটিকে আরও সংযমী ও সহনশীল হতে হবে, নইলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।

 

বাড়ছে রাজনৈতিক খুন, থামছে না সংঘর্ষ

 

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই একাধিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও তুচ্ছ বিরোধ, কোথাও পূর্বশত্রুতা, কোথাও আধিপত্যের লড়াই। সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে খুনের ঘটনাও যেন ধীরে ধীরে ‘স্বাভাবিক’ বিষয়ে পরিণত হচ্ছে।

 

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) এপ্রিল মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের প্রথম তিন মাসেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে অন্তত ২৫ জন এবং বিএনপি-জামায়াত সংঘাতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। দেড় শতাধিক সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৬ শতাধিক মানুষ। মে-জুনেও একই ধরনের আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে।

 

সহিংসতার নেপথ্যে কী?

 

গত কয়েক মাসে প্রকাশিত সহিংসতার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর পেছনে রয়েছে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, হাটবাজারের ইজারা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভিন্নমতের সহনশীল হতে না পারা ও প্রতিপক্ষকে দমন করার মানসিকতা। ফলে তুচ্ছ কথা-কাটাকাটি বা ছোটখাটো বিরোধও দ্রুত সহিংস রূপ নিচ্ছে। এর জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে।

 

সাম্প্রতিক আলোচিত কয়েকটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড

 

নতুন সরকারের চার মাসে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে, কারণ সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল প্রকাশ্য ও নৃশংস।

 

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা

 

১৩ জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে স্থানীয় যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপনের ছোট ভাই এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। দিনের আলোয় অস্ত্র উঁচিয়ে হামলাকারীদের চলে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

সাঘাটায় ছাত্রশিবির নেতা খুন

 

২২ জুন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সাইফুল্লাহ (২৪) বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় জামায়াত-শিবির বিএনপিকে দায়ী করে এবং যুবদল নেতা মোখলেসুর রহমান মুকুল, পলাশ ও আশরাফ খন্দকারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

 

ময়মনসিংহে বিএনপি কর্মী হত্যা

 

৩ জুন ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার চর ঈশ্বরদিয়া এলাকায় পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে রানা মিয়া (৩৩) নামে এক বিএনপি কর্মীকে লোহার রড ও শাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের ভাই এতে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। মামলায় ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো. মফিদুল ইসলাম মাস্টার ও তার ছেলেসহ ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। বিএনপি এটিকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বললেও জামায়াতের দাবি, এটি মূলত সম্পত্তিগত বিরোধের জের।

 

কালুখালীতে জামায়াত নেতাকে হত্যা ও লাশ পোড়ানো

 

১৫ জুন রাজবাড়ীর কালুখালীতে জামায়াত নেতা আসাদুল ইসলামকে হাত-পা বেঁধে হত্যার পর তার মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। নিহত আসাদুল ইসলাম (২৪) স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতের অর্থ সম্পাদক ছিলেন। জেলা জামায়াতের নেতারা এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপিকে দায়ী করেন।

 

চুয়াডাঙ্গায় সংঘর্ষের পর জামায়াত কর্মীর মৃত্যু

 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান আহত হন। পরদিন ১ মার্চ তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সীমান্ত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীনসহ কয়েকজনকে আসামি হয়েছে।

 

পলাশবাড়ীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ

 

৩০ মে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পানহাটের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত জামায়াত নেতা সামিউল ইসলাম অভি (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বিএনপিকে দায়ী করে বিক্ষোভ করেন।

 

কোন দৃষ্টিতে দেখছেন রাজনৈতিক নেতারা?

 

বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও খুনোখুনির ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ ভাগ-বাঁটোয়ারা, আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করলেও দল দুটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহাবস্থান রয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই সম্পর্কের জায়গা দখল করেছে রাষ্ট্রক্ষমতা, মাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা।

 

জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিগত ইউনূস সরকারের সময় জামায়াত অঘোষিতভাবে ক্ষমতার বলয়ে ছিল। ফলে এখনও তারা সেই প্রভাব ধরে রাখতে চায় এবং সে কারণেই বিএনপির সঙ্গে রেষারেষিতে জড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, ক্ষমতায় থাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরাও নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনে আগ্রহী।’’

 

রুহিন হোসেন প্রিন্সের ভাষ্য, জামায়াত আগামীতে বিএনপিকে দুর্বল করে নিজস্ব অবস্থান শক্ত করতে চাইবে, আর বিএনপিও পাল্টা হিসেবে জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধ-সংক্রান্ত বিতর্ক ও অতীতের নানা কর্মকাণ্ড সামনে আনছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাই শেষ পর্যন্ত বিরোধকে সহিংসতায় রূপ দিচ্ছে।

 

একই ধরনের মূল্যায়ন দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘ভাগবাটোয়ারা ও প্রভাব বিস্তারের দ্বন্দ্ব থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘাত বাড়ছে; এমনকি পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, একে অপরকে হত্যার মতো চরম সহিংসতার পথেও তারা যেতে দ্বিধা করছে না।’’

 

দায় চাপিয়েই দায়মুক্তি চাইছে দুই পক্ষ?

 

গত চার মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া একাধিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত উভয়পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দলই নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে ক্ষমতাসীনদের বক্তব্য, সব সরকার আমলেই কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটে থাকে; অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা থেকেই ক্ষমতাসীনদের একাংশ প্রতিপক্ষকে দমনে সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বর্তমান সরকারের সময়ে সংঘটিত বেশিরভাগ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মীরাই জড়িত।’’ তার দাবি, বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই এসব সহিংসতার বড় অংশের জন্ম হচ্ছে এবং সরকার তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক কোনও হত্যাকাণ্ডেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়িত নন।

 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ঠিকই, তবে সব ঘটনাকে রাজনৈতিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’’ তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধ বা স্থানীয় দ্বন্দ্বকেও রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। যদিও কিছু ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নাম এসেছে। তিনি বলেন, ‘‘ক্ষমতায় গেলে নানা সুযোগসন্ধানী লোক দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। তবে অভিযোগের সত্যতা মিললে সাংগঠনিকভাবে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।’’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সহিংসতা ও খুনোখুনির জন্য বর্তমান বিরোধী দলও অনেকাংশে দায়ী।’’