মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারতেন, কিন্তু তার অনুরোধে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। আর এরজন্য এরদোয়ানের প্রশংসা করে তাকে মহান নেতা বলেছেন ট্রাম্প। দিয়েছেন উপহারের প্রতিশ্রুতি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এরদোয়ান ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামার অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। কারণ তিনি ইসরায়েলের বড় ভক্ত নন। আমি তাকে বাইরে থাকতে বলেছিলাম। তাই তিনি যুদ্ধের বাইরে ছিলেন।
এরদোয়ানের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি একজন মহান নেতা, অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যক্তি। আমি তার কাছে যা চেয়েছি, তিনি সবই করেছেন।
আগামী ন্যাটো সম্মেলনকে সামনে রেখে তুরস্কের জন্য বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সম্ভবত আমি এমন কিছু করব, যা তাকে খুবই খুশি করবে।
তবে তুরস্ক কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইঙ্গিত দেয়নি যে তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতে সরাসরি অংশ নিতে যাচ্ছে। বরং যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া দেশগুলোর মধ্যেও তুরস্ক ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি মাসে জেরুজালেমকে মুক্ত করার আহ্বান জানান। এছাড়া এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা তুরস্কের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।
একসময় মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক গত এক দশকে ক্রমেই অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়।
এদিকে তুরস্ককে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনি শর্ত পূরণ হলে বিষয়টি এগোতে পারে।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এস-৪০০ ব্যবস্থা বজায় রেখে তুরস্ক এফ-৩৫ প্রকল্পে ফিরতে পারবে না।
তবে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেছেন, ট্রাম্প ও এরদোয়ানের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কারণে এফ-৩৫ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















