‘একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছি, ঘরে তার লাশ আছে, নিয়ে যান’- জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে ঠিক এভাবেই প্রতিবেশী এক যুবককে হত্যার কথা জানান সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ঝুমু আক্তার (৩৫)। শনিবার (২৭ জুন) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর পূর্বপাড়া গ্রামে প্রবাসী সুমন চৌধুরীর ঘরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার এনায়েত হোসেন ওরফে বাহার (৩৮) ওই গ্রামের প্রতিবেশী আবদুর রশিদের ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত গৃহবধূ ঝুমু আক্তারকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত বাহার ও প্রবাসী সুমন চৌধুরী পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে বাহারের পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ হয় সুমনের পরিবার। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এক মাস আগে সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে আসেন সুমন চৌধুরী এবং বাহারের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আপোষ-মীমাংসাও করে দেয়া হয়। গত ৪ দিন আগে সুমন চৌধুরী আবার প্রবাসে ফিরে যান।
আটকের পর ঝুমু আক্তার পুলিশকে জানান, তার স্বামী বিদেশে চলে যাওয়ার পর শনিবার ভোরে বাহার জোরপূর্বক তার ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে ঘরে থাকা বটি দা দিয়ে বাহারকে উপর্যুপরি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তিনি নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
ঝুমু আক্তার আরও বলেন, আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। ছোট ছোট সন্তান ও বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে আমি বাড়িতে থাকি। বাহার আমাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করত। এ বিষয়ে আমি আগে র্যাবের কাছেও অভিযোগ করেছিলাম। এতে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর আবার ঘরে ঢুকে আমাকে জোরজবরদস্তি করার চেষ্টা করে। তার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আমি তাকে কুপিয়ে হত্যা করি।
তবে ভিন্ন কথা বলেছেন নিহতের মা নেহারা বেগম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী। প্রতিবেশী সৌদি প্রবাসী সুমন চৌধুরীদের সঙ্গে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নিয়ে আমার ছেলেদের বিরোধ ছিল। শনিবার সকালে ফজরের নামাজের পর প্রবাসীর স্ত্রী ঝুমু আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘাতক ঝুমুসহ সকল হত্যাকারীর বিচার চাই।’
লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ওই নারী নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং ওই নারীকে আটক করে। নিহতের মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
ওসির ভাষ্য সেই নারী তাদের জানিয়েছে, ‘বাহারকে কল করে বাসায় আনা হয়নি, ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টাকালে নিজেকে বাঁচাতে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।’ তবে এ ঘটনায় ওই নারী এবং নিহতের পরিবারের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















