ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ‘ভয়ংকর অস্ত্রের’ অনুকরণ করছে পুরো বিশ্ব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

একসময় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে থাকার অভিযোগে সমালোচিত ইরান এখন ড্রোন প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক রেফারেন্স মডেলে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘপাল্লার একটি কামিকাজে ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর এ আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মার্কিন তৈরি ‘লুকাস’ (Lucas) ড্রোনের আদলে নতুন একটি ড্রোন তৈরি করবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন লুকাস ড্রোনটি ইরানের বহুল আলোচিত শাহেদ-১৩৬ ড্রোনকে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামরিকবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’-ও শাহেদ-১৩৬ এবং লুকাস ড্রোনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্যের কথা তুলে ধরে। সাময়িকীটির মতে, লুকাস মূলত ইরানি ড্রোনের নকশা অনুসরণ করেই তৈরি।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই পদক্ষেপ শুধু একটি প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইরানের অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তি, মানবসম্পদ ও গবেষণার ওপর নির্ভর করে ড্রোন প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল অস্ত্র ব্যবস্থার পরিবর্তে সহজ, কম খরচে উৎপাদনযোগ্য এবং কার্যকর প্রযুক্তি উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেয়। শাহেদ-১৩৬ সেই কৌশলের অন্যতম সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির মূল্য শুধু জটিলতার ওপর নির্ভর করে না; বরং এর কার্যকারিতা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী বৈশিষ্ট্যের ওপরও নির্ভর করে। এ কারণেই বিশ্বের অনেক দেশ এখন কম খরচের কামিকাজে ড্রোন উন্নয়নের দিকে ঝুঁকছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শাহেদ-১৩৬ শুধু একটি ড্রোন নয়, বরং এটি ইরানের দীর্ঘমেয়াদি আত্মনির্ভরশীল প্রযুক্তি উন্নয়ন কৌশলের প্রতীক। কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও দেশটি নিজস্ব সক্ষমতার ওপর ভর করে প্রযুক্তি উন্নয়নের যে পথ বেছে নিয়েছে, শাহেদ-১৩৬ তারই ফল।

মেহর নিউজ এজেন্সির মতে, বর্তমানে ইরানি ড্রোন প্রযুক্তি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ সাফল্যের বিষয় নয়; বরং তা বৈশ্বিক ড্রোন প্রযুক্তির বিকাশ ও পরিবর্তনের ধারার অংশ হয়ে উঠেছে। শাহেদ-১৩৬-এর নকশা অনুসরণ করে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের উদ্যোগ ইঙ্গিত দেয় যে ইরান কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তি আমদানিকারক দেশ থেকে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও রপ্তানিকারক দেশের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ‘ভয়ংকর অস্ত্রের’ অনুকরণ করছে পুরো বিশ্ব

আপডেট সময় ১১:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

একসময় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে থাকার অভিযোগে সমালোচিত ইরান এখন ড্রোন প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক রেফারেন্স মডেলে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘপাল্লার একটি কামিকাজে ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর এ আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মার্কিন তৈরি ‘লুকাস’ (Lucas) ড্রোনের আদলে নতুন একটি ড্রোন তৈরি করবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন লুকাস ড্রোনটি ইরানের বহুল আলোচিত শাহেদ-১৩৬ ড্রোনকে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামরিকবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’-ও শাহেদ-১৩৬ এবং লুকাস ড্রোনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্যের কথা তুলে ধরে। সাময়িকীটির মতে, লুকাস মূলত ইরানি ড্রোনের নকশা অনুসরণ করেই তৈরি।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই পদক্ষেপ শুধু একটি প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইরানের অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তি, মানবসম্পদ ও গবেষণার ওপর নির্ভর করে ড্রোন প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল অস্ত্র ব্যবস্থার পরিবর্তে সহজ, কম খরচে উৎপাদনযোগ্য এবং কার্যকর প্রযুক্তি উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেয়। শাহেদ-১৩৬ সেই কৌশলের অন্যতম সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির মূল্য শুধু জটিলতার ওপর নির্ভর করে না; বরং এর কার্যকারিতা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী বৈশিষ্ট্যের ওপরও নির্ভর করে। এ কারণেই বিশ্বের অনেক দেশ এখন কম খরচের কামিকাজে ড্রোন উন্নয়নের দিকে ঝুঁকছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শাহেদ-১৩৬ শুধু একটি ড্রোন নয়, বরং এটি ইরানের দীর্ঘমেয়াদি আত্মনির্ভরশীল প্রযুক্তি উন্নয়ন কৌশলের প্রতীক। কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও দেশটি নিজস্ব সক্ষমতার ওপর ভর করে প্রযুক্তি উন্নয়নের যে পথ বেছে নিয়েছে, শাহেদ-১৩৬ তারই ফল।

মেহর নিউজ এজেন্সির মতে, বর্তমানে ইরানি ড্রোন প্রযুক্তি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ সাফল্যের বিষয় নয়; বরং তা বৈশ্বিক ড্রোন প্রযুক্তির বিকাশ ও পরিবর্তনের ধারার অংশ হয়ে উঠেছে। শাহেদ-১৩৬-এর নকশা অনুসরণ করে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের উদ্যোগ ইঙ্গিত দেয় যে ইরান কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তি আমদানিকারক দেশ থেকে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও রপ্তানিকারক দেশের পর্যায়ে পৌঁছেছে।