ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের বেঁচে থাকার জন্য নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার সংকটপূর্ণ সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী ও স্থানীয় নাগরিকরা মরিয়া হয়ে জীবিতদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খোঁড়াখুঁড়ি করছেন।
গত বুধবার কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫, যা গত এক শতাব্দীতে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানীর কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা অঞ্চল।
দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৬০ ছাড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে ভূমিকম্পের পরপরই নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের জন্য দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলের তৈরি করা একটি ওয়েবসাইটে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৫১ হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকার তথ্য দিয়েছেন তাদের স্বজনরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্যোগের পর প্রথম ২-৩ দিন (৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা) ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। সেই সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় এখন প্রতি মুহূর্তে অলৌকিক কিছুর আশা করছেন উদ্ধারকারীরা।
ভেনেজুয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড ও মেক্সিকোসহ প্রায় দুই ডজন দেশের অন্তত ১ হাজার ৬০০ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী ইতোমধ্যে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা শুরু করেছেন।
এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, তারা যুদ্ধজাহাজ ও পরিবহন বিমান মোতায়েন করবে, পাশাপাশি ১৫ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের ত্রাণ সহায়তা প্রদান করবে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অনেক জায়গায় উদ্ধারকারী ও ভারী যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খোঁড়াখুঁড়ি করে তাদের স্বজনদের সন্ধান চালাচ্ছে।
এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের দেশটির ৬৭ লাখ ৬০ হাজার পর্যন্ত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ লাখই শুধু রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দা।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি

ডেস্ক রিপোর্ট 


















