ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকারি চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন: প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আর কত দিন এ ধরনের খেলা চলবে: প্রশ্ন জামায়াত আমিরের একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে: পাকিস্তানি সাংবাদিককে জয়শঙ্কর অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি, থানায় জিডি করলেন অপ্রতিমের বাবা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা হারাম: পেজেশকিয়ান সাদিক কায়েমকে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের বিষয়ে সতর্ক করলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী শাশুড়িকে সম্মান না করায় ছেলেকে চড়, পরে বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা বিনিময়ে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ট্যুরে যেতে টিকিট কেটে দেয়ার অফার দেয় শিক্ষক, ছাত্রদল নেত্রীর পোস্ট সময়মতো যুদ্ধের অস্ত্র পৌঁছে অথচ কৃষক সার পায় না: জাতিসংঘে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ইরানের ৭ দিনের শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

আন্দোলনের আড়ালের গল্প: ‘জুলাই বিপ্লবের সিক্রেট কোডিং সিস্টেম’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • ৫১১ বার পড়া হয়েছে

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে গত বছরের (২০২৪) জুলাই-আগস্টে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শুরু হওয়া ছাত্র-আন্দোলন পরিণত হয় এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। হাজারো নিরস্ত্র শিক্ষার্থীর ওপর গুলি চালানো হয়, বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশের সব ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ। সেই সংকটপূর্ণ সময়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে অফলাইন বাটন ফোন।

শুক্রবার (৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আশিকুর রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সেই আন্দোলনের এক ‘অদৃশ্য কিন্তু কৌশলী দিক’ তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, কীভাবে ইন্টারনেট-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হতো, আর কীভাবে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা রূপ নেয় ‘সিক্রেট কোডিং সিস্টেম’-এ।

কাজী আশিক বলেন, একদিন আন্দোলনের তুঙ্গ মুহূর্তে ফরহাদ নামে এক নেতা মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ চট্টগ্রামের ভাষায় কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন। তাকে ‘বাড়ির কেউ’ ভেবে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আসলে ফোনটা ছিল আরেক নেতা সাদিক ভাইয়ের। এরপরই বোঝা যায়, সরকার মোবাইল ট্র্যাক করতে পারে সেই আশঙ্কা থেকে তাঁরা পরিকল্পিতভাবে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন—যাতে গোপন বার্তা নিরাপদ থাকে।

আশিকুর রহমান বলেন, “মোবাইল ট্রেকিংয়ের দায়িত্বে কেউ যদি চট্টগ্রামের না হয়, তাহলে তার বাবারও সাধ্য নাই বুঝার যে সাদিক-ফরহাদ কি নিয়া আলাপ করছে।” তিনি মজা করে বলেন, “এই সময়ে সভাপতি আর সেক্রেটারি দুজনেই চট্টগ্রামের হওয়াটাও সম্ভবত আল্লাহর খাস রহমত।”

আন্দোলনের সেই দুঃসময়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা হয়ে ওঠে যোগাযোগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম। ফলে অনেক নেতা ওই ভাষা অনুবাদ করে বাকিদের বুঝিয়ে দিতেন আন্দোলনের কৌশল। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি ব্যাখ্যা করেন ‘জুলাই বিপ্লবের সিক্রেট কোডিং সিস্টেম’ হিসেবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন: প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

আন্দোলনের আড়ালের গল্প: ‘জুলাই বিপ্লবের সিক্রেট কোডিং সিস্টেম’

আপডেট সময় ১০:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে গত বছরের (২০২৪) জুলাই-আগস্টে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শুরু হওয়া ছাত্র-আন্দোলন পরিণত হয় এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। হাজারো নিরস্ত্র শিক্ষার্থীর ওপর গুলি চালানো হয়, বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশের সব ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ। সেই সংকটপূর্ণ সময়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে অফলাইন বাটন ফোন।

শুক্রবার (৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আশিকুর রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সেই আন্দোলনের এক ‘অদৃশ্য কিন্তু কৌশলী দিক’ তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, কীভাবে ইন্টারনেট-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হতো, আর কীভাবে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা রূপ নেয় ‘সিক্রেট কোডিং সিস্টেম’-এ।

কাজী আশিক বলেন, একদিন আন্দোলনের তুঙ্গ মুহূর্তে ফরহাদ নামে এক নেতা মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ চট্টগ্রামের ভাষায় কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন। তাকে ‘বাড়ির কেউ’ ভেবে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আসলে ফোনটা ছিল আরেক নেতা সাদিক ভাইয়ের। এরপরই বোঝা যায়, সরকার মোবাইল ট্র্যাক করতে পারে সেই আশঙ্কা থেকে তাঁরা পরিকল্পিতভাবে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন—যাতে গোপন বার্তা নিরাপদ থাকে।

আশিকুর রহমান বলেন, “মোবাইল ট্রেকিংয়ের দায়িত্বে কেউ যদি চট্টগ্রামের না হয়, তাহলে তার বাবারও সাধ্য নাই বুঝার যে সাদিক-ফরহাদ কি নিয়া আলাপ করছে।” তিনি মজা করে বলেন, “এই সময়ে সভাপতি আর সেক্রেটারি দুজনেই চট্টগ্রামের হওয়াটাও সম্ভবত আল্লাহর খাস রহমত।”

আন্দোলনের সেই দুঃসময়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা হয়ে ওঠে যোগাযোগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম। ফলে অনেক নেতা ওই ভাষা অনুবাদ করে বাকিদের বুঝিয়ে দিতেন আন্দোলনের কৌশল। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি ব্যাখ্যা করেন ‘জুলাই বিপ্লবের সিক্রেট কোডিং সিস্টেম’ হিসেবে।