ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি, থানায় জিডি করলেন অপ্রতিমের বাবা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা হারাম: পেজেশকিয়ান সাদিক কায়েমকে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের বিষয়ে সতর্ক করলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী শাশুড়িকে সম্মান না করায় ছেলেকে চড়, পরে বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা বিনিময়ে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ট্যুরে যেতে টিকিট কেটে দেয়ার অফার দেয় শিক্ষক, ছাত্রদল নেত্রীর পোস্ট সময়মতো যুদ্ধের অস্ত্র পৌঁছে অথচ কৃষক সার পায় না: জাতিসংঘে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ইরানের ৭ দিনের শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে পিছু হটবে না ইরান: মোহাম্মদ সালেহ ১২ বছর আগের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে শিবির: হামিম চীনের গোয়েন্দা তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের হামলা আরও নিখুঁত হচ্ছে

সময়মতো যুদ্ধের অস্ত্র পৌঁছে অথচ কৃষক সার পায় না: জাতিসংঘে নেপালের প্রধানমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে গিয়ে বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। যুদ্ধের জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ সীমান্ত পেরিয়ে দ্রুত পৌঁছে গেলেও কৃষকের কাছে সময়মতো সার ও জ্বালানি পৌঁছায় না– এই বৈপরীত্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করেছে যেখানে যুদ্ধের জন্য সরবরাহব্যবস্থা প্রায় নিখুঁত, কিন্তু খাদ্যের জন্য তা ভেঙে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ৩৬ বছর বয়সী শাহ বলেন, আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র সময়মতো পৌঁছে যায়। রাইফেল ও গোলাবারুদ সীমান্ত পেরিয়ে সব ধরনের বাধা অতিক্রম করে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। অথচ প্রয়োজনের সময় নেপালের একজন কৃষক বাজারদরে সার কিংবা জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেন না।

তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধের জন্য নিখুঁত সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করেছি, কিন্তু খাদ্যের জন্য ভেঙে পড়া সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করেছি। শাহ বলেন, এই সংকট শুধু নেপালের নয়; দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশই একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি। বাংলাদেশকে জিজ্ঞেস করুন। ভুটানকে জিজ্ঞেস করুন। ভারতকে জিজ্ঞেস করুন। মালদ্বীপকে জিজ্ঞেস করুন। পাকিস্তানকে জিজ্ঞেস করুন। শ্রীলঙ্কাকে জিজ্ঞেস করুন। আমাদের অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশকে জিজ্ঞেস করুন– একই চিত্র শুনতে পাবেন। তার ভাষায়, এসব দেশ এমন জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার জন্য তারা দায়ী নয়। একই সঙ্গে তাদের আবার এমন যুদ্ধের প্রভাবও মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যে যুদ্ধ তারা শুরু করেনি। শাহ বলেন, এটি আমাদের বলে দেয়, বর্তমান বৈশ্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থায় চোখে যা দেখা যায় তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু ভেঙে পড়েছে।

তার এই বক্তব্য আসে গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ ভোতেকোশি বন্যার পর। ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৪০০–এরও বেশি মানুষ নিহত ও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে শাহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন ঝুঁকির বিষয়টি জাতিসংঘের সামনে তুলে ধরেন। ভাষণে শাহ ‘হিমালয়ান ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি নতুন আঞ্চলিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, নেপাল, ভারত ও চীনের নেতৃত্বে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে।

শাহ বলেন, উষ্ণ হয়ে ওঠা জলবায়ু হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ বসবাস করে। এই পর্বতমালা শুধু নেপালের নয়, বরং এর বহু দূরের জনগোষ্ঠীর পানি, প্রতিবেশব্যবস্থা, কৃষি ও জীবিকার অন্যতম উৎস। তিনি বলেন, হিমালয় পৃথিবীর প্রান্তিক কোনো অঞ্চল নয়। এটি পৃথিবীর জীবনধারণের ব্যবস্থারই একটি অংশ। শাহের প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান পরস্পরের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোনো সীমান্ত মানে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, হিমবাহ কিংবা বন্যা ভিসা–পাসপোর্ট নিয়ে চলাচল করে না। ফলে এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি, থানায় জিডি করলেন অপ্রতিমের বাবা

সময়মতো যুদ্ধের অস্ত্র পৌঁছে অথচ কৃষক সার পায় না: জাতিসংঘে নেপালের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে গিয়ে বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। যুদ্ধের জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ সীমান্ত পেরিয়ে দ্রুত পৌঁছে গেলেও কৃষকের কাছে সময়মতো সার ও জ্বালানি পৌঁছায় না– এই বৈপরীত্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করেছে যেখানে যুদ্ধের জন্য সরবরাহব্যবস্থা প্রায় নিখুঁত, কিন্তু খাদ্যের জন্য তা ভেঙে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ৩৬ বছর বয়সী শাহ বলেন, আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র সময়মতো পৌঁছে যায়। রাইফেল ও গোলাবারুদ সীমান্ত পেরিয়ে সব ধরনের বাধা অতিক্রম করে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। অথচ প্রয়োজনের সময় নেপালের একজন কৃষক বাজারদরে সার কিংবা জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেন না।

তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধের জন্য নিখুঁত সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করেছি, কিন্তু খাদ্যের জন্য ভেঙে পড়া সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করেছি। শাহ বলেন, এই সংকট শুধু নেপালের নয়; দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশই একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি। বাংলাদেশকে জিজ্ঞেস করুন। ভুটানকে জিজ্ঞেস করুন। ভারতকে জিজ্ঞেস করুন। মালদ্বীপকে জিজ্ঞেস করুন। পাকিস্তানকে জিজ্ঞেস করুন। শ্রীলঙ্কাকে জিজ্ঞেস করুন। আমাদের অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশকে জিজ্ঞেস করুন– একই চিত্র শুনতে পাবেন। তার ভাষায়, এসব দেশ এমন জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার জন্য তারা দায়ী নয়। একই সঙ্গে তাদের আবার এমন যুদ্ধের প্রভাবও মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যে যুদ্ধ তারা শুরু করেনি। শাহ বলেন, এটি আমাদের বলে দেয়, বর্তমান বৈশ্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থায় চোখে যা দেখা যায় তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু ভেঙে পড়েছে।

তার এই বক্তব্য আসে গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ ভোতেকোশি বন্যার পর। ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৪০০–এরও বেশি মানুষ নিহত ও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে শাহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন ঝুঁকির বিষয়টি জাতিসংঘের সামনে তুলে ধরেন। ভাষণে শাহ ‘হিমালয়ান ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি নতুন আঞ্চলিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, নেপাল, ভারত ও চীনের নেতৃত্বে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে।

শাহ বলেন, উষ্ণ হয়ে ওঠা জলবায়ু হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ বসবাস করে। এই পর্বতমালা শুধু নেপালের নয়, বরং এর বহু দূরের জনগোষ্ঠীর পানি, প্রতিবেশব্যবস্থা, কৃষি ও জীবিকার অন্যতম উৎস। তিনি বলেন, হিমালয় পৃথিবীর প্রান্তিক কোনো অঞ্চল নয়। এটি পৃথিবীর জীবনধারণের ব্যবস্থারই একটি অংশ। শাহের প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান পরস্পরের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোনো সীমান্ত মানে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, হিমবাহ কিংবা বন্যা ভিসা–পাসপোর্ট নিয়ে চলাচল করে না। ফলে এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।