ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচ খেলার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কঠোর শর্ত বাজেটের অর্থ বাস্তবায়নে অপচয় করার অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি: চরমোনাই পীর সিগারেট ফিল্টারের কাঁচামাল ও নিকোটিন আমদানিতে বসছে ৩০০% শুল্ক  আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিতদের ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিপাকে আইনজীবী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন নাসর’ শুরু করলো ইরান ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, এশিয়ার ৩ দেশে সুনামি সতর্কতা ব্যস্ত সময় কাটিয়ে দেশে ফিরলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস আ. লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আনিছুরের জানাজায় মানুষের ঢল ‘এই স্কুলে মুসলিমদের জায়গা নেই’: ৩০ শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে দিলেন কেরালার প্রধান শিক্ষিকা ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক গ্রাহকদের, ৫ দিনে ৩৫০০ কোটি টাকা উত্তোলন

আন্দোলনের আড়ালের গল্প: ‘জুলাই বিপ্লবের সিক্রেট কোডিং সিস্টেম’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • ৪১৮ বার পড়া হয়েছে

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে গত বছরের (২০২৪) জুলাই-আগস্টে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শুরু হওয়া ছাত্র-আন্দোলন পরিণত হয় এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। হাজারো নিরস্ত্র শিক্ষার্থীর ওপর গুলি চালানো হয়, বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশের সব ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ। সেই সংকটপূর্ণ সময়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে অফলাইন বাটন ফোন।

শুক্রবার (৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আশিকুর রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সেই আন্দোলনের এক ‘অদৃশ্য কিন্তু কৌশলী দিক’ তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, কীভাবে ইন্টারনেট-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হতো, আর কীভাবে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা রূপ নেয় ‘সিক্রেট কোডিং সিস্টেম’-এ।

কাজী আশিক বলেন, একদিন আন্দোলনের তুঙ্গ মুহূর্তে ফরহাদ নামে এক নেতা মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ চট্টগ্রামের ভাষায় কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন। তাকে ‘বাড়ির কেউ’ ভেবে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আসলে ফোনটা ছিল আরেক নেতা সাদিক ভাইয়ের। এরপরই বোঝা যায়, সরকার মোবাইল ট্র্যাক করতে পারে সেই আশঙ্কা থেকে তাঁরা পরিকল্পিতভাবে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন—যাতে গোপন বার্তা নিরাপদ থাকে।

আশিকুর রহমান বলেন, “মোবাইল ট্রেকিংয়ের দায়িত্বে কেউ যদি চট্টগ্রামের না হয়, তাহলে তার বাবারও সাধ্য নাই বুঝার যে সাদিক-ফরহাদ কি নিয়া আলাপ করছে।” তিনি মজা করে বলেন, “এই সময়ে সভাপতি আর সেক্রেটারি দুজনেই চট্টগ্রামের হওয়াটাও সম্ভবত আল্লাহর খাস রহমত।”

আন্দোলনের সেই দুঃসময়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা হয়ে ওঠে যোগাযোগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম। ফলে অনেক নেতা ওই ভাষা অনুবাদ করে বাকিদের বুঝিয়ে দিতেন আন্দোলনের কৌশল। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি ব্যাখ্যা করেন ‘জুলাই বিপ্লবের সিক্রেট কোডিং সিস্টেম’ হিসেবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচ খেলার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কঠোর শর্ত

আন্দোলনের আড়ালের গল্প: ‘জুলাই বিপ্লবের সিক্রেট কোডিং সিস্টেম’

আপডেট সময় ১০:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে গত বছরের (২০২৪) জুলাই-আগস্টে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শুরু হওয়া ছাত্র-আন্দোলন পরিণত হয় এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। হাজারো নিরস্ত্র শিক্ষার্থীর ওপর গুলি চালানো হয়, বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশের সব ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ। সেই সংকটপূর্ণ সময়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে অফলাইন বাটন ফোন।

শুক্রবার (৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আশিকুর রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সেই আন্দোলনের এক ‘অদৃশ্য কিন্তু কৌশলী দিক’ তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, কীভাবে ইন্টারনেট-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হতো, আর কীভাবে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা রূপ নেয় ‘সিক্রেট কোডিং সিস্টেম’-এ।

কাজী আশিক বলেন, একদিন আন্দোলনের তুঙ্গ মুহূর্তে ফরহাদ নামে এক নেতা মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ চট্টগ্রামের ভাষায় কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন। তাকে ‘বাড়ির কেউ’ ভেবে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আসলে ফোনটা ছিল আরেক নেতা সাদিক ভাইয়ের। এরপরই বোঝা যায়, সরকার মোবাইল ট্র্যাক করতে পারে সেই আশঙ্কা থেকে তাঁরা পরিকল্পিতভাবে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন—যাতে গোপন বার্তা নিরাপদ থাকে।

আশিকুর রহমান বলেন, “মোবাইল ট্রেকিংয়ের দায়িত্বে কেউ যদি চট্টগ্রামের না হয়, তাহলে তার বাবারও সাধ্য নাই বুঝার যে সাদিক-ফরহাদ কি নিয়া আলাপ করছে।” তিনি মজা করে বলেন, “এই সময়ে সভাপতি আর সেক্রেটারি দুজনেই চট্টগ্রামের হওয়াটাও সম্ভবত আল্লাহর খাস রহমত।”

আন্দোলনের সেই দুঃসময়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা হয়ে ওঠে যোগাযোগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম। ফলে অনেক নেতা ওই ভাষা অনুবাদ করে বাকিদের বুঝিয়ে দিতেন আন্দোলনের কৌশল। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি ব্যাখ্যা করেন ‘জুলাই বিপ্লবের সিক্রেট কোডিং সিস্টেম’ হিসেবে।