ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই বিএনপি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: অলি আহমদ আইনের মারপ্যাঁচে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিলে গণবিস্ফোরণ হবে: মঞ্চ ২৪ দাবি না মানলে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হবে: জামায়াতের আমির কমলাপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণ অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, জানাজা কাল সকাল ১০টায় সারাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক, মানুষের নিরাপত্তা নেই: নাহিদ ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে: রাজা নাসির আব্বাস ভারতীয় পণ্যে ১০০ শতাংশ মার্কিন শুল্কারোপের শঙ্কা, ঘুম হারাম রপ্তানিকারকদের এবার রাজধানীর বাড্ডায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন

সেপা সই আজ দক্ষিণ কোরিয়ার, বাংলাদেশের জন্য খুলছে ১১১ সেবা উপখাত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

Zajira News

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এটি কার্যকর হলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের জন্য ১১১টি সেবা উপখাত উন্মুক্ত হবে, যা দেশের সেবা রপ্তানি ও দক্ষ জনশক্তির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির খসড়া ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংও সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এটি হবে জাপানের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।

সরকারের লক্ষ্য, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর সম্ভাব্য বাজার সুবিধা হারানোর ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণ করা।

চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, আর্থিক সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ ১১১টি বিশেষায়িত সেবা উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশও দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯৫টি সেবা খাত খুলে দেবে।

এ ছাড়া তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সুরক্ষার মতো বিষয়ও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের আইটি খাত, প্রকৌশলী, মেরিন টেকনিশিয়ান, নার্স, ফিজিওথেরাপিস্ট ও কেয়ারগিভারদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কোরীয় বিনিয়োগও বাড়বে।

এদিকে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়েও হান-কো ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে সেপা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকারের প্রত্যাশা, সেপা কার্যকর হলে এই বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আগামী বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই

সেপা সই আজ দক্ষিণ কোরিয়ার, বাংলাদেশের জন্য খুলছে ১১১ সেবা উপখাত

আপডেট সময় ০১:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এটি কার্যকর হলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের জন্য ১১১টি সেবা উপখাত উন্মুক্ত হবে, যা দেশের সেবা রপ্তানি ও দক্ষ জনশক্তির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির খসড়া ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংও সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এটি হবে জাপানের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।

সরকারের লক্ষ্য, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর সম্ভাব্য বাজার সুবিধা হারানোর ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণ করা।

চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, আর্থিক সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ ১১১টি বিশেষায়িত সেবা উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশও দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯৫টি সেবা খাত খুলে দেবে।

এ ছাড়া তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সুরক্ষার মতো বিষয়ও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের আইটি খাত, প্রকৌশলী, মেরিন টেকনিশিয়ান, নার্স, ফিজিওথেরাপিস্ট ও কেয়ারগিভারদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কোরীয় বিনিয়োগও বাড়বে।

এদিকে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়েও হান-কো ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে সেপা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকারের প্রত্যাশা, সেপা কার্যকর হলে এই বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আগামী বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।