ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চট্টগ্রামে নওফেলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, সিসিটিভিতে ৭ যুবক জিপিএস ব্যবহার ছাড়াই মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালান ইরানি পাইলটরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেবেন প্রধানমন্ত্রী মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ড. ইউনূসের চেয়ে ‘হাজারগুণ ভালো’ দেশ চালাচ্ছেন তারেক রহমান: কাদের সিদ্দিকী সকাল না হতেই মর্মান্তিক দুই দুর্ঘটনা, ঝরে গেল ১৫ প্রাণ মৃত্যুর পর যদি সন্তানেরা না করে, তাই জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করলেন বৃদ্ধ অন্ধকারে মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠক, আসল মানুষ কিনা প্রশ্ন পেজেশকিয়ানের সিঙ্গারার লোভ দেখিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের মিছিলে নিলেন যুবলীগ নেতা মসজিদের ইমামকে ওমরাহ উপহার, আবেগে ভাসল বিদায়ের মুহূর্ত

ফের উত্তপ্ত ক্যাম্পাস, তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা দেখছেন বিশ্লেষকরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিক্ষাঙ্গন। একের পর এক সহিংসতার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছে দুই সংগঠন। একই সঙ্গে উসকানি দেওয়া হলে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন উভয় পক্ষের নেতারা।

সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দুই সংগঠনের মধ্যে এমন বিরোধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম দাবি করেন, সহিংসতার জন্য তাদের সংগঠন দায়ী নয়। তার অভিযোগ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতেই পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমে ঘটনাগুলো ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ক্যাম্পাসে শিবিরের ‘মব’ তৈরির চেষ্টা ছাত্রদল প্রতিহত করেছে। ভবিষ্যতেও কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি হলে তার জবাব দেওয়ার কথাও বলেছেন।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘর্ষের পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাদের মতে, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির যত বেশি সংঘাতে জড়াবে, ততই লাভবান হবে অন্য কোনো পক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় ক্যাম্পাসে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বিশ্লেষকদের পরামর্শ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে নওফেলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, সিসিটিভিতে ৭ যুবক

ফের উত্তপ্ত ক্যাম্পাস, তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা দেখছেন বিশ্লেষকরা

আপডেট সময় ০২:২১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিক্ষাঙ্গন। একের পর এক সহিংসতার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছে দুই সংগঠন। একই সঙ্গে উসকানি দেওয়া হলে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন উভয় পক্ষের নেতারা।

সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দুই সংগঠনের মধ্যে এমন বিরোধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম দাবি করেন, সহিংসতার জন্য তাদের সংগঠন দায়ী নয়। তার অভিযোগ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতেই পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমে ঘটনাগুলো ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ক্যাম্পাসে শিবিরের ‘মব’ তৈরির চেষ্টা ছাত্রদল প্রতিহত করেছে। ভবিষ্যতেও কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি হলে তার জবাব দেওয়ার কথাও বলেছেন।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘর্ষের পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাদের মতে, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির যত বেশি সংঘাতে জড়াবে, ততই লাভবান হবে অন্য কোনো পক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় ক্যাম্পাসে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বিশ্লেষকদের পরামর্শ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।