ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মাদরাসার ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রামে ঘোরানোর ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সুমন হোসেন। তিনি উপজেলার মথনপুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক।
আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার কাষ্টভাঙা ইউনিয়নের কুমারহাটি মোহাম্মাদিয়া দাখিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুমন হোসেন বেশ কিছুদিন ধরে মাদ্রাসার ছাত্রীদের আসা-যাওয়ার পথে বিভিন্ন সময় অশালীন অঙ্গভঙ্গি করাসহ তাদের উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। সোমবার সকালে মাদ্রাসার সামনে এসে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে স্থানীয়রা সুমনকে আটক করে মাদ্রাসায় নিয়ে যান। পরে তার বাবা, স্ত্রীসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে মাদ্রাসায় ডেকে আনা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর সুমনকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তাকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিষয়ে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক সামাউল ইসলাম বলেন, ‘প্রায়ই আমরা খবর পেতাম এক যুবক শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করে। আজ তাকে গ্রামবাসী ধরে মাদ্রাসায় নিয়ে আসে। উত্তেজিত জনতার রোষানল থেকে বাঁচতে পরিবারের সদস্যরা তাকে মাদ্রাসা থেকে জুতার মালা পরিয়ে বের করার সিদ্ধান্ত নেন।’
কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনা শুনে তিনি মাদ্রাসায় যান। ওই যুবক তার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জুতার মালা পরিয়ে বের করা হয়।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের লোকজন গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করার অভিযোগে গ্রামবাসী ওই ছেলেকে মাদ্রাসায় নিয়ে আসে। এরপর তার পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় আসেন। এসময় গ্রামবাসী তাকে জুতার মালা পরিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে।

ডেস্ক রিপোর্ট 








