ফেনীর দাগনভূঞায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা সদরের আতাতুর্ক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন ও ফেনী জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিক গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে।
এতে গুরুতর আহত হয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন ও তার স্ত্রী সাবেক সহসভাপতি শাহিনা আকবর, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা হুদন, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম দুলাল, তার স্ত্রী মহিলা দলের নেত্রী জাহানার বেগম, রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জামাল হোসেন, বাকি বিল্লাহ, শ্রমিকদল নেতা বাদশা, রিজন, সেচ্ছাসেবক দলের শুক্কুর ও দাহনভূঞা পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন সুজন আহত হন।
টেন্ডার নিয়ে বিএনপির দুগ্রুপের তুমুল সংঘর্ষ
এছাড়া জামশেদুর রহমান ফটিক গ্রুপের রাব্বি, রিয়াজ, রায়হান, নাঈম ও হুমায়ুন আহত হন। এরমধ্যে দুলাল, সুজন ও রাব্বি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে সুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে পুলিশ ছাড়াও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ফখরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন টিপু, এম রহমান সোহেল ও আবদুল্লাহ আল মামুনও আহত হন।
প্রক্ষদর্শীরা জানান, আতাতুর্ক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অডিটরিয়ামে দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে আকবর হোসেন নেতাকর্মীরামহ বের হলে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থান নেয়া ফটিক গ্রুপের কর্মীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় এক পক্ষ অন্য পক্ষকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির কয়েকজন নেতা চেষ্টা চালান। এর মধ্যে ফটিক ও তার ভাই পলাশ তাদের কর্মীদের নির্বিত্ত করার চেষ্টা ছিলো লক্ষণীয়।
এর আগে অনুষ্ঠান ঘিরে দুপুর থেকেই দুই গ্রুপের কর্মীরা ভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে সংঘর্ষে আহতরা চিকিৎসার জন্য গেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে ফটিক গ্রুপ সেখানেও হামলার অভিযোগ উঠে। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে আকবর গ্রুপের কয়েকজনকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আকবর হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষে বের হলেই আমাকে ও আমার স্ত্রীসহ হত্যার উদ্দ্যেশে এ হামলা করা হয়। বিনা উসকানিতে ফটিকের লোকজন হামলা করে।’
দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমান কালবেলাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখেন। ইট পাটকেল নিক্ষেপের কারণে কেউ আঘাত পেতে পারেন। কেউ গুরুতর আহত হয়নি। ভিন্ন জায়গায় অন্য কারণে যুবদলের এক নেতা আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















