ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আল-আকসা মসজিদে ৫,২০৯ জন ইসরাইলি দখলদারের হানা, ২ ফিলিস্তিনি নিহত পুলিশকে দুষ্টের দমনে কঠোর, শিষ্টের পালনে মানবিক হতে হবে: রাষ্ট্রপতি ‘বুড়ি হয়ে গেছে’, বডি শেমিংয়ের মুখে ক্যাটরিনা ১১ বছর পর ফের একসঙ্গে রাজ-মিমি ‘ইরানিরা কী করে সব দেখি, আমরা না দেখা ছাড়া তারা বাথরুমেও যেতে পারে না’ ১৯ কিলোমিটারের লক্ষ্যে খনন ২১ কিলোমিটার, সরকারি কোষাগারে ফেরত ৪০ লাখ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়া সেই ভারতীয় পাইলট যুদ্ধবিমান ছেড়ে চালাবেন যাত্রীবাহী বিমান সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয় আমরা সবাই বাংলাদেশী: প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়া সেই ভারতীয় পাইলট যুদ্ধবিমান ছেড়ে চালাবেন যাত্রীবাহী বিমান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়া অভিনন্দন বর্তমান নামের সেই পাইলট ভারতীয় বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ২০১৯ সালে হামলা চালাতে গিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে ভূপাতিত হয়েছিল ভারতীয় এই পাইলটের যুদ্ধবিমান। পরে তাকে আটক করে পাকিস্তানি সেনারা। সেই ঘটনার তিনদিনের মাথায় মুক্তি পাওয়া অভিনন্দন এবার যুদ্ধবিমান ছেড়ে যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন। ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে আগাম অবসর নিয়ে তিনি বেসরকারি এয়ারলাইনস ফ্লাই৯১এ বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পাকিস্তানে হামলা চালাতে গিয়ে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর আটক হওয়া পাইলট অভিনন্দন বর্তমান ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে আগাম অবসর নিয়ে বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে নতুন করে বিমান চলাচল ক্যারিয়ার শুরু করেছেন।

বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সাবেক গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও বীর চক্র পদকপ্রাপ্ত অভিনন্দন বর্তমান বিমানবাহিনীতে ২২ বছর দায়িত্ব পালনের পর গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক এয়ারলাইনস ফ্লাই৯১এ পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিনন্দন গত আগস্ট মাসে বেসরকারি এই এয়ারলাইনসে যোগ দেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত অভিনন্দন বর্তমান কোনও বক্তব্য দেননি। ফ্লাই৯১এর একজন মুখপাত্রও কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি ব্যক্তিগত বিষয়। ২০২৪ সালের মার্চে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা ফ্লাই৯১ বর্তমানে ছয়টি এটিআর ৭২৬০০ উড়োজাহাজ নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এয়ারলাইনসটির দুটি ঘাঁটি হলো গোয়া ও হায়দরাবাদ।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতশাসিত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৪২ জন জওয়ান নিহত হন। ভারত এই ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠনকে দায়ী করে। পুলওয়ামা হামলার জবাব দিতেই পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে হামলা চালায় ভারত। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলায় অন্তত ৩০০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান জানায়, হামলায় কিছু গাছের ক্ষতি হওয়া ছাড়া কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মূলত পুলওয়ামায় হামলার ১২ দিনের মাথায় মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে আকাশপথে পাকিস্তানের বালাকোটে হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। এরপর আকাশপথে ভারতকে আক্রমণ করে পাকিস্তান। ভারতীয় যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করে পাকিস্তানের এফ১৬ বিমান সেটি গুলি করে ভূপাতিত করে এবং ভারতীয় বিমানটির পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে বন্দি করে।

ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করা দুই পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার নোমান আলী খান এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফাহিম আহমেদ খান। এর মধ্যে উইং কমান্ডার নোমান আলী খানকে সিতারাজুরাত (বীরত্বের তারকা) এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফাহিম আহমেদ খান ও স্কয়ার লেডার হাসান মাহমুদ সিদ্দিকীকে তমঘাজুরাত (বীরত্বের পদক) প্রদান করা হয়েছিল। মূলত ভারতেরবালাকোট স্ট্রাইক’-এর জবাবে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পাল্টা হামলা পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল। মূলত ভারতীয় সামরিক বিমান পাকিস্তানশাসিত আজাদ কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদ সেক্টরের কাছে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) লঙ্ঘন করার পরই এই সংঘাত হয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য, এই সংঘাতের সবচেয়ে আলোচিত মুখ হয়ে ওঠেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের হামলায় তার মিগ২১ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় এবং তাকে পাকিস্তান আটক করে। এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সামরিক সংকট তৈরি হয়। এনডিটিভির দাবি, ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিনন্দনের যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার আগে তিনি পাকিস্তানের একটি এফ১৬ যুদ্ধবিমানভূপাতিতকরেছিলেন। সে সময় উইং কমান্ডার পদমর্যাদায় থাকা অভিনন্দনকে তিন দিন পাকিস্তানে আটক রাখা হয়। পরে ১ মার্চ রাতে তাকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান। ওই বছরের শেষ দিকে মোদি সরকার তাকে বীর চক্র পদকে ভূষিত করে। পুরস্কারের বিবরণে বলা হয়, আকাশযুদ্ধেঅসাধারণ দায়িত্ববোধেরপরিচয় দেয়ার জন্য তাকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বীরত্বের পদকটি দেয়া হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আল-আকসা মসজিদে ৫,২০৯ জন ইসরাইলি দখলদারের হানা, ২ ফিলিস্তিনি নিহত

পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়া সেই ভারতীয় পাইলট যুদ্ধবিমান ছেড়ে চালাবেন যাত্রীবাহী বিমান

আপডেট সময় ০১:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়া অভিনন্দন বর্তমান নামের সেই পাইলট ভারতীয় বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ২০১৯ সালে হামলা চালাতে গিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে ভূপাতিত হয়েছিল ভারতীয় এই পাইলটের যুদ্ধবিমান। পরে তাকে আটক করে পাকিস্তানি সেনারা। সেই ঘটনার তিনদিনের মাথায় মুক্তি পাওয়া অভিনন্দন এবার যুদ্ধবিমান ছেড়ে যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন। ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে আগাম অবসর নিয়ে তিনি বেসরকারি এয়ারলাইনস ফ্লাই৯১এ বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পাকিস্তানে হামলা চালাতে গিয়ে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর আটক হওয়া পাইলট অভিনন্দন বর্তমান ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে আগাম অবসর নিয়ে বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে নতুন করে বিমান চলাচল ক্যারিয়ার শুরু করেছেন।

বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সাবেক গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও বীর চক্র পদকপ্রাপ্ত অভিনন্দন বর্তমান বিমানবাহিনীতে ২২ বছর দায়িত্ব পালনের পর গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক এয়ারলাইনস ফ্লাই৯১এ পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিনন্দন গত আগস্ট মাসে বেসরকারি এই এয়ারলাইনসে যোগ দেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত অভিনন্দন বর্তমান কোনও বক্তব্য দেননি। ফ্লাই৯১এর একজন মুখপাত্রও কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি ব্যক্তিগত বিষয়। ২০২৪ সালের মার্চে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা ফ্লাই৯১ বর্তমানে ছয়টি এটিআর ৭২৬০০ উড়োজাহাজ নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এয়ারলাইনসটির দুটি ঘাঁটি হলো গোয়া ও হায়দরাবাদ।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতশাসিত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৪২ জন জওয়ান নিহত হন। ভারত এই ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠনকে দায়ী করে। পুলওয়ামা হামলার জবাব দিতেই পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে হামলা চালায় ভারত। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলায় অন্তত ৩০০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান জানায়, হামলায় কিছু গাছের ক্ষতি হওয়া ছাড়া কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মূলত পুলওয়ামায় হামলার ১২ দিনের মাথায় মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে আকাশপথে পাকিস্তানের বালাকোটে হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। এরপর আকাশপথে ভারতকে আক্রমণ করে পাকিস্তান। ভারতীয় যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করে পাকিস্তানের এফ১৬ বিমান সেটি গুলি করে ভূপাতিত করে এবং ভারতীয় বিমানটির পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে বন্দি করে।

ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করা দুই পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার নোমান আলী খান এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফাহিম আহমেদ খান। এর মধ্যে উইং কমান্ডার নোমান আলী খানকে সিতারাজুরাত (বীরত্বের তারকা) এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফাহিম আহমেদ খান ও স্কয়ার লেডার হাসান মাহমুদ সিদ্দিকীকে তমঘাজুরাত (বীরত্বের পদক) প্রদান করা হয়েছিল। মূলত ভারতেরবালাকোট স্ট্রাইক’-এর জবাবে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পাল্টা হামলা পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল। মূলত ভারতীয় সামরিক বিমান পাকিস্তানশাসিত আজাদ কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদ সেক্টরের কাছে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) লঙ্ঘন করার পরই এই সংঘাত হয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য, এই সংঘাতের সবচেয়ে আলোচিত মুখ হয়ে ওঠেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের হামলায় তার মিগ২১ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় এবং তাকে পাকিস্তান আটক করে। এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সামরিক সংকট তৈরি হয়। এনডিটিভির দাবি, ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিনন্দনের যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার আগে তিনি পাকিস্তানের একটি এফ১৬ যুদ্ধবিমানভূপাতিতকরেছিলেন। সে সময় উইং কমান্ডার পদমর্যাদায় থাকা অভিনন্দনকে তিন দিন পাকিস্তানে আটক রাখা হয়। পরে ১ মার্চ রাতে তাকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান। ওই বছরের শেষ দিকে মোদি সরকার তাকে বীর চক্র পদকে ভূষিত করে। পুরস্কারের বিবরণে বলা হয়, আকাশযুদ্ধেঅসাধারণ দায়িত্ববোধেরপরিচয় দেয়ার জন্য তাকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বীরত্বের পদকটি দেয়া হয়েছে।