ইরানের সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্মকাণ্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে ইরানিরা বাথরুমেও যেতে পারে না—এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সক্ষমতা নিয়ে কথা বলার সময় এসব দাবি করেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান কয়েকদিন ধরে নতুন ধরনের একটি রকেট তৈরির চেষ্টা করছিল। সমুদ্রে মাইন স্থাপনে ব্যবহার করা সম্ভব এমন ওই অস্ত্র তৈরির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র আগেই জানতে পারে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এতটাই কঠোর নজরদারি রয়েছে যে দেশটির প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে তারা জানতে পারছেন। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নজর এড়িয়ে কোনো সামরিক প্রস্তুতি নিতে পারছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে এবং বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছাড়াই সেগুলোকে পার করে দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান তাদের রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পুনর্গঠনের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নতুন সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নতুন রকেট প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, সমুদ্রে মাইন পেতে রকেট ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা তিনি আগে কখনো শোনেননি। তবে ইরান এমন একটি অস্ত্র তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছিল বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নজরে আসার পর সেটি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের নতুন সামরিক সরঞ্জাম ও কর্মকাণ্ড মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারির বাইরে নেই। ইরান কী ধরনের অস্ত্র তৈরি করছে, তা শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো ধ্বংস করার সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















