মানবদেহে প্রাণীর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক তৈরি হয়েছে। জিনগতভাবে পরিবর্তিত একটি শূকরের কিডনি এক ব্যক্তির শরীরে টানা ৯ মাস বা ২৭১ দিন কার্যকর ছিল। এই সময়ে তাকে ডায়ালাইসিস নিতে হয়নি। পরে ওই কিডনি অপসারণ করে তার শরীরে সফলভাবে মানব কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
৬৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণে দুই কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছিলেন। জীবিত কোনো স্বজন কিডনি দানে সক্ষম না হওয়ায় মানব কিডনির জন্য তাকে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকতে হচ্ছিল।
চিকিৎসকদের হিসাবে, দীর্ঘ সময় কিডনি না পাওয়ার কারণে তার মৃত্যুঝুঁকি এবং অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা ছিল উল্লেখযোগ্য। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা পরীক্ষামূলকভাবে জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তার শরীরে কিডনিটি প্রতিস্থাপন করা হয়। মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের উপযোগী করে শূকরের কিডনিতে ৬৯টি জিনগত পরিবর্তন আনা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
প্রতিস্থাপনের পর কিডনিটি কার্যকরভাবে কাজ শুরু করে। টানা ২৭১ দিন ওই কিডনির সাহায্যে রোগী ডায়ালাইসিস ছাড়াই ছিলেন। পরবর্তীতে কিডনিটির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে চিকিৎসকেরা সেটি অপসারণ করেন।
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
চিকিৎসকদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, এত দীর্ঘ সময় প্রাণীর কিডনি শরীরে থাকার পরও রোগীর শরীরে গুরুতর সংক্রমণ বা অঙ্গ প্রত্যাখ্যানজনিত বড় ধরনের জটিলতা দেখা দেয়নি।
এরপর উপযুক্ত একজন মৃত মানবদাতার কিডনি পাওয়া গেলে রোগীর শরীরে সেটি প্রতিস্থাপন করা হয়। অর্থাৎ, শূকরের কিডনিটি তার জন্য স্থায়ী অঙ্গের বিকল্প না হয়ে মানব কিডনি পাওয়ার আগ পর্যন্ত একটি ‘ব্রিজ’ বা সাময়িক সেতু হিসেবে কাজ করেছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে জিনগতভাবে পরিবর্তিত প্রাণীর অঙ্গ ভবিষ্যতে সাময়িক সমাধান হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ইউরো নিউজ

ডেস্ক রিপোর্ট 


















