ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ওয়াকআউট না করে নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুনেছে যে দুই মুসলিম দেশ বিয়ের জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোল, নববধূকে রেখে আবার কারাগারে ফিরলেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বর ‘এই বয়সে এসে বিয়ের তাগিদও অনুভব করি না’, কেন বললেন রাইমা সেন? নাটোরে শিশুর আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির ইরান যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসি রিমান্ডে আচারের টক-ঝাল নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ১৫ হাজার টাকার দলিলে ২ লাখ টাকা ঘুষ, এরপর কমিশনও ২০ হাজার

ঠাকুরগাঁওয়ে দরিদ্রের আইনি লড়াইয়ে ভরসা লিগ্যাল এইড, এক মাসে নিষ্পত্তি ১৮৪ মামলা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মিনহাজ আলম,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

আইনজীবীর ফি, আদালতের খরচ কিংবা দীর্ঘদিন মামলা চালানোর সামর্থ্য নেই এমন অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচারের পথ সহজ করছে ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ, আইনজীবী নিয়োগ, মামলা পরিচালনা এবং আপস-মীমাংসার সুযোগ পাচ্ছেন দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। এ সময়ে ১৮৪টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সরকারি খরচে ১৯ জনের পক্ষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি আপস-মীমাংসা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়ায় প্রায় আট লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।

অর্থের অভাবে কেউ আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারলে আবেদনের পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর পক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী মামলা দায়ের ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও দেওয়া আইনি সহায়তা প্রদান করে ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড।

লিগ্যাল এইডের সেবা নেওয়া আরিফুল ইসলাম, খোকন, রুবেল ও আশরাফুল বলেন, তাঁদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে আইনজীবীর ফি এবং দীর্ঘদিন মামলা চালানোর খরচ বহন করা কঠিন। লিগ্যাল এইড অফিসে এসে তাঁরা বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শের পাশাপাশি আইনজীবী নিয়োগের সহযোগিতাও পেয়েছেন।

তাঁরা বলেন, অর্থের অভাবে অনেক মানুষ অন্যায়ের শিকার হলেও আইনের আশ্রয় নিতে পারেন না। লিগ্যাল এইডের সহায়তায় এখন তাঁরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাচ্ছেন।

আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া এক সেবাগ্রহীতা জানান, একটি বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন সমস্যায় ছিলেন তিনি। মামলা হলে আইনজীবীর ফি ও আদালতে যাতায়াতসহ নানা খরচ হতো। পরে লিগ্যাল এইড অফিসের উদ্যোগে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হয়েছে।

লিগ্যাল এইডের তালিকাভুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট ললিত কুমার রায় বলেন, অর্থের অভাবে অনেক মানুষ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না। সরকারি আইনগত সহায়তার কারণে তাঁরা বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ ও মামলা পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন এখানে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। লিগ্যাল এইড এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য তার। তবে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র মানুষকে সেবা সম্পর্কে জানাতে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে আরও প্রচার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. মজনু মিয়া বলেন, অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে লিগ্যাল এইড। চলতি মাসে ১৮৪টি আবেদন নিষ্পত্তি, ১৯ জনের পক্ষে সরকারি খরচে মামলা দায়ের এবং আপস-মীমাংসার মাধ্যমে প্রায় আট লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে প্রায় দুই হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। আমরা এই ধারা অব্বাহত রাখবো এবং যেন প্রান্তিক মানুষেরাও সেবা পায় তা নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়াকআউট না করে নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুনেছে যে দুই মুসলিম দেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে দরিদ্রের আইনি লড়াইয়ে ভরসা লিগ্যাল এইড, এক মাসে নিষ্পত্তি ১৮৪ মামলা

আপডেট সময় ১০:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ মিনহাজ আলম,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

আইনজীবীর ফি, আদালতের খরচ কিংবা দীর্ঘদিন মামলা চালানোর সামর্থ্য নেই এমন অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচারের পথ সহজ করছে ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ, আইনজীবী নিয়োগ, মামলা পরিচালনা এবং আপস-মীমাংসার সুযোগ পাচ্ছেন দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। এ সময়ে ১৮৪টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সরকারি খরচে ১৯ জনের পক্ষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি আপস-মীমাংসা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়ায় প্রায় আট লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।

অর্থের অভাবে কেউ আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারলে আবেদনের পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর পক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী মামলা দায়ের ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও দেওয়া আইনি সহায়তা প্রদান করে ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড।

লিগ্যাল এইডের সেবা নেওয়া আরিফুল ইসলাম, খোকন, রুবেল ও আশরাফুল বলেন, তাঁদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে আইনজীবীর ফি এবং দীর্ঘদিন মামলা চালানোর খরচ বহন করা কঠিন। লিগ্যাল এইড অফিসে এসে তাঁরা বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শের পাশাপাশি আইনজীবী নিয়োগের সহযোগিতাও পেয়েছেন।

তাঁরা বলেন, অর্থের অভাবে অনেক মানুষ অন্যায়ের শিকার হলেও আইনের আশ্রয় নিতে পারেন না। লিগ্যাল এইডের সহায়তায় এখন তাঁরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাচ্ছেন।

আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া এক সেবাগ্রহীতা জানান, একটি বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন সমস্যায় ছিলেন তিনি। মামলা হলে আইনজীবীর ফি ও আদালতে যাতায়াতসহ নানা খরচ হতো। পরে লিগ্যাল এইড অফিসের উদ্যোগে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হয়েছে।

লিগ্যাল এইডের তালিকাভুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট ললিত কুমার রায় বলেন, অর্থের অভাবে অনেক মানুষ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না। সরকারি আইনগত সহায়তার কারণে তাঁরা বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ ও মামলা পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন এখানে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। লিগ্যাল এইড এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য তার। তবে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র মানুষকে সেবা সম্পর্কে জানাতে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে আরও প্রচার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. মজনু মিয়া বলেন, অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে লিগ্যাল এইড। চলতি মাসে ১৮৪টি আবেদন নিষ্পত্তি, ১৯ জনের পক্ষে সরকারি খরচে মামলা দায়ের এবং আপস-মীমাংসার মাধ্যমে প্রায় আট লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে প্রায় দুই হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। আমরা এই ধারা অব্বাহত রাখবো এবং যেন প্রান্তিক মানুষেরাও সেবা পায় তা নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি।