গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণভোটের গণরায় কার্যকর এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বগুড়া শহরের সাতমাথার খোকন পার্কে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে মামুনুল হক বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই তফসিলে এবং একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার যদি ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় বানচালের চেষ্টা করে, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হবে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের ফলাফলকে অবৈধ বলা হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
সংবিধানে সাধারণ সংশোধনের পরিবর্তে আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, অতীতে সংবিধানে ১৭ বার সংশোধনী আনা হলেও পরবর্তী সময়ে সরকার বা আদালতের সিদ্ধান্তে সেগুলো টেকেনি। তাই সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো এমনভাবে প্রতিস্থাপন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা আদালত তা বাতিল করতে না পারে।
সরকারের ভুল-ত্রুটি শুধরে দেয়া রাজনৈতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি এ সময় খলিফা ওমর (রা.)-এর ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতৃভূমি বগুড়ায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, আগামী দিনের সরকারকে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
এ সময় তিনি ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ও কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সেক্রেটারি মুফতি মামুন রহমানী।
বাদ জুমা অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকট নিরসনসহ সর্বস্তরের জনগণের সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। সমাবেশে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















