প্রতি বাস থেকে ৬০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে
প্রশাসনের নিষেধের পরও ফরিদপুরে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত তিন দিন ধরে ঢাকা-খুলনা-যশোর মহাসড়ক এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকায় দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের বিভিন্ন বাস থামিয়ে প্রতিটি পরিবহন থেকে ৬০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাস আটকে রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বাসচালক, সুপারভাইজার ও যাত্রীদের মধ্যে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠির সঙ্গে লাল পতাকা বেঁধে অবস্থান করছেন। দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের কোনো বাস মোড় অতিক্রমের সময় তারা সড়কের ওপর গিয়ে দাঁড়িয়ে বাস থামাচ্ছেন।
পরে বাসের সুপারভাইজারের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে নেওয়ার পর বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো বাসকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাস্থলে ‘পূর্বাশা ডিলাক্স’ নামে একটি বাস থামিয়ে এর সুপারভাইজারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। এ সময় টাকাটি কীসের জন্য দেওয়া হলো—জানতে চাইলে ওই সুপারভাইজার বলেন, ‘চাঁদা দিলাম, এরা চাঁদাবাজ।’
কেন এই টাকা তোলা হচ্ছে—জানতে চাইলে সেখানে থাকা মজনু শেখ নামের এক ব্যক্তি বলেন, সারা দেশেই শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে টাকা তোলা হয়। তাঁরাও শ্রমিকদের জন্য বাস থেকে ৬০ টাকা করে তুলছেন।
তিনি বলেন, ‘আহত-নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে সহায়তার জন্য এই টাকা তোলা হচ্ছে। এটা আমার শ্রমিক ভাইদের কল্যাণেই ব্যয় হবে।’
মজনু শেখের দাবি, ফরিদপুর মোটর শ্রমিক ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন-১০৫৫ নামের সমিতির দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে এই টাকা তোলা হচ্ছে।
তবে মহাসড়কে বাস থামিয়ে এভাবে টাকা আদায়ের বিষয়ে পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসচালক বলেন, যাত্রী সংকট ও জ্বালানি তেলের দামের কারণে এমনিতেই তাঁদের ট্রিপ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মোড়ে এভাবে টাকা নেওয়া হলে চালক ও শ্রমিকদের হাতে আর কিছুই থাকে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এসব টাকার একটা অংশও সাধারণ শ্রমিকদের কোনো কল্যাণে আসে না।’
ওই বাসে থাকা কয়েকজন যাত্রীও এ ধরনের চাঁদাবাজি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের আশঙ্কা, পথে পথে পরিবহন থেকে এভাবে টাকা আদায় করা হলে অতিরিক্ত খরচের চাপ শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপরই পড়বে। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা খরচ পোষাতে ভবিষ্যতে বাসভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারেন।
ফরিদপুর জেলা বাস মালিক সমিতির প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘তারা চাঁদা তোলা শুরু করলে আমি তাদের নিষেধ করি। এভাবে সড়কে চাঁদা তোলার কোনো নিয়ম নেই।’ ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধ করার পরও কীভাবে মহাসড়কে বাস থামিয়ে টাকা তোলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নামে এভাবে সড়কে যানবাহন থামিয়ে অর্থ আদায়ের বৈধতা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৮ জুলাই ফরিদপুর জেলা সদরের মুন্সি বাজার এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একইভাবে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে চাঁদা উত্তোলনের সময় চারজনকে আটক করেছিল ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশ।
পরে আর চাঁদা তুলবেন না—এমন মুচলেকা দেওয়ার পর পরিবহন শ্রমিক নেতাদের মধ্যস্থতায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপরও নতুন করে মহাসড়কে বাস থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠায় পরিবহন খাতে এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















