ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নে চাঁদা না দেওয়ায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী নামের এক যুবদল কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইউনিয়নের বালুয়া চৌমুহনী বাজারে ওই ব্যবসায়ীর নিজস্ব দোকান থেকে তাকে তুলে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে সাথে থাকা এক লাখ ৪২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ফেনী শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মধ্যম ধলিয়া গ্রামের জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী এসব অভিযোগ করেন।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, “বালুয়া চৌমুহনীতে আমি ফার্নিচার ব্যবসা করি। ব্যবসার সুবাদে পাশের দোকানদার দেলোয়ার হোসেন টুকুর সঙ্গে আমার লেনদেন ছিল। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর তার সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। ওই দূরত্বকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আমার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় সোমবার রাতে ২০-২৫ জন লোক এসে তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে চিন্তারপোল এলাকার একটি জনবিচ্ছিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ধলিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আমিনুল হকের নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাকে মারধর করেন এবং পকেটে থাকা এক লাখ ৪২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে জোর করে ১০০ টাকার তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে দোষীদের শাস্তি ও স্ট্যাম্প উদ্ধারের দাবি জানান।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ধলিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আমিনুল হক বলেন, “টুকু ও কুদ্দুসের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। আমরা বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু অপহরণ, টাকা ছিনতাই এবং সাদা কাগজে সই নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।”এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল দাস জানান, ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে সাদা স্ট্যাম্পে সই নেওয়া ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।