ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এমপি আমীর হামজার বিরুদ্ধে মহিলা দলের ঝাড়ু মিছিল জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া আবু তৈয়ব ডাকসুতে ভিপি পদে পেয়েছিলেন ১০ ভোট ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই উনি যেটা বলেছেন সেটাই শিরোধার্য: প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে ইসি সচিব প্রতিক্রিয়া সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাদেরসহ দণ্ডিত ৭ আসামির খোঁজ পেলেই গ্রেফতার করে দেশে আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর আ.লীগের ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদেরও ফেরত চাইবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর তথ্যউপদেষ্টা যে কারণে হঠাৎ রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা আসিফের এবার কেন্দ্রীয় নেতাদের দিল্লীতে ডেকেছেন শেখ হাসিনা

নিজের ভিক্ষার টাকায় ওয়াহাব পাটোয়ারীর দাফন, খাওয়ানো হবে মানুষ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

এবার ভোলার মনপুরায় নিজের জানাজা ও মৃত্যুর পর মানুষকে খাওয়ানোর জন্য ভিক্ষা করে একটু একটু করে টাকা জমিয়ে রাখতেন সত্তরোর্ধ্ব এক ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক। স্থানীয়দের কাছে তিনিমফুর বাপনামে পরিচিত হলেও তার প্রকৃত নাম ওয়াহাব পাটোয়ারী। মৃত্যুর পর দাফনের খরচের কারণে জানাজা ও দাফন না হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি টাকা জমিয়ে রাখতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে জমা রাখতেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে ওয়াহাব পাটোয়ারী উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের কবির বাজারে মেয়ের বাড়িতে মারা যান। পরে শুক্রবার জুমার আগে তার জমানো টাকা দিয়ে দাফনের কাপড় কেনা হয়। এরপর বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের মনির বাজার জামে মসজিদে জানাজা শেষে স্থানীয়রা তাকে দাফন করেন। সত্তরোর্ধ্ব ওয়াহাব পাটোয়ারী ওরফেমফুর বাপউপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, ওয়াহাব পাটোয়ারী সারাদিন বাজারে বাজারে ঘুরে ভিক্ষা করতেন। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকাপয়সা পুঁটলিতে (পলিথিনে মোড়ানো) করে রাখতেন। পরে রাতে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে ওই টাকা আমানত হিসেবে জমা রাখতেন। মৃত্যুর দিন রাতে ওয়াহাব পাটোয়ারী মেয়ের বাড়িতে যান। সেখানেই তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুর পর চেয়ারম্যানের কাছে আমানত রাখা টাকার পুঁটলি খুলে গণনা করে ৮ হাজার ৯৮৫ টাকা পাওয়া যায়। এরপর আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার টাকা, সাবেক যুবদল সভাপতি রাজিব চৌধুরী ৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী শাহীন ২ হাজার টাকা তুলে দেন ভিক্ষুকের আত্মীয়দের কাছে। স্থানীয়রা আরও জানান, ওয়াহাব পাটোয়ারী মাথার সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন না। পথেবাজারে ভিক্ষা করতেন এবং পথেঘাটেই ঘুমাতেন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের কাছেও যেতেন না। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে জমা রাখতেন।

মৃত্যুর পর সাবেক চেয়ারম্যান ভিক্ষুকের জমানো টাকা ফেরত দিয়ে তার জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করায় স্থানীয়রা এটিকে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি রাজিব চৌধুরী জানান, নিজের দাফনের টাকা নিজেই জমিয়ে রেখেছেন। ওয়াহাব পাটোয়ারী (ভিক্ষুক) দাদার ওসিয়ত মতে সবকিছু করা হবে। স্থানীয়রা সবাই মিলে আয়োজন করে মানুষজন খাওয়ানো হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি আমীর হামজার বিরুদ্ধে মহিলা দলের ঝাড়ু মিছিল

নিজের ভিক্ষার টাকায় ওয়াহাব পাটোয়ারীর দাফন, খাওয়ানো হবে মানুষ

আপডেট সময় ১১:০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ভোলার মনপুরায় নিজের জানাজা ও মৃত্যুর পর মানুষকে খাওয়ানোর জন্য ভিক্ষা করে একটু একটু করে টাকা জমিয়ে রাখতেন সত্তরোর্ধ্ব এক ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক। স্থানীয়দের কাছে তিনিমফুর বাপনামে পরিচিত হলেও তার প্রকৃত নাম ওয়াহাব পাটোয়ারী। মৃত্যুর পর দাফনের খরচের কারণে জানাজা ও দাফন না হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি টাকা জমিয়ে রাখতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে জমা রাখতেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে ওয়াহাব পাটোয়ারী উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের কবির বাজারে মেয়ের বাড়িতে মারা যান। পরে শুক্রবার জুমার আগে তার জমানো টাকা দিয়ে দাফনের কাপড় কেনা হয়। এরপর বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের মনির বাজার জামে মসজিদে জানাজা শেষে স্থানীয়রা তাকে দাফন করেন। সত্তরোর্ধ্ব ওয়াহাব পাটোয়ারী ওরফেমফুর বাপউপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, ওয়াহাব পাটোয়ারী সারাদিন বাজারে বাজারে ঘুরে ভিক্ষা করতেন। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকাপয়সা পুঁটলিতে (পলিথিনে মোড়ানো) করে রাখতেন। পরে রাতে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে ওই টাকা আমানত হিসেবে জমা রাখতেন। মৃত্যুর দিন রাতে ওয়াহাব পাটোয়ারী মেয়ের বাড়িতে যান। সেখানেই তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুর পর চেয়ারম্যানের কাছে আমানত রাখা টাকার পুঁটলি খুলে গণনা করে ৮ হাজার ৯৮৫ টাকা পাওয়া যায়। এরপর আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার টাকা, সাবেক যুবদল সভাপতি রাজিব চৌধুরী ৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী শাহীন ২ হাজার টাকা তুলে দেন ভিক্ষুকের আত্মীয়দের কাছে। স্থানীয়রা আরও জানান, ওয়াহাব পাটোয়ারী মাথার সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন না। পথেবাজারে ভিক্ষা করতেন এবং পথেঘাটেই ঘুমাতেন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের কাছেও যেতেন না। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে জমা রাখতেন।

মৃত্যুর পর সাবেক চেয়ারম্যান ভিক্ষুকের জমানো টাকা ফেরত দিয়ে তার জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করায় স্থানীয়রা এটিকে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি রাজিব চৌধুরী জানান, নিজের দাফনের টাকা নিজেই জমিয়ে রেখেছেন। ওয়াহাব পাটোয়ারী (ভিক্ষুক) দাদার ওসিয়ত মতে সবকিছু করা হবে। স্থানীয়রা সবাই মিলে আয়োজন করে মানুষজন খাওয়ানো হবে।