ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাজেকে ঘুরতে গিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৬ পর্যটক আটক পাকিস্তানে সরকারি ভোজ নিষিদ্ধ, বিয়েবাড়িতে এক পদের বেশি রান্না নয় দেশের জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত ইরানিরা, তেহরানে জানফাদা-ই-ইরান কর্মসূচি রাশেদ খাঁনের কাজই জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা বলা: সাদ্দাম বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে যা জানাল ভারত সাহস থাকলে ২০০১-২০০৬ সালের দুর্নীতির তদন্ত করুন: সরকারকে নাহিদ ইসলাম তিতাসে খনন হচ্ছে তিনটি নতুন কূপ, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সিলেটের পুরাতন কারাগার ভেঙে গড়া হচ্ছে পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কোরআন সম্পর্কে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি খতমে নবুওয়াতের জুমার নামাজের সময় পুলিশ লাইনে বিস্ফোরণ, প্রাণ গেলো ১৬ জনের

গুম বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ ফেরানোর দাবি আখতারের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় জারি করা অধ্যাদেশগুলো ফিরিয়ে এনে দেশে চিরতরে গুম বন্ধের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। একই সঙ্গে গুমের অভিযোগের তদন্তে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া এবং মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ দাবি জানান। মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘কোনো বাহিনী গুম, খুন করতে পারবে না। একই দেশের সঙ্গে মানুষের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সুরক্ষিত এবং রাষ্ট্রে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের মানুষ যে সংসদ গঠন করবে, সেখান থেকে নতুন একটা রাষ্ট্রকাঠামোর দিশা পাবে।’

গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম দিনেই সেই
গণরায় অস্বীকার করেছে।

তিনি বলেন, সংস্কার, মানবাধিকার এবং গুম-খুন বন্ধের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, সমস্ত অধ্যাদেশকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তারা ল্যাপস করে দেয়, সেগুলোকে বাতিল ঘোষণা করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম বন্ধ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল উল্লেখ করে আখতার বলেন, সে সময় সরকার আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়নের কথা জানিয়েছিল। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, এসব আইনের মাধ্যমে অপরাধ দমন ও বিচারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং নাগরিকের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

সংসদে আনা নতুন আইনগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার শক্তিশালী আইন করার কথা বললেও তারা সংসদে এমন আইন নিয়ে এসেছে, যার ফলে অপরাধ আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে।

গুমের অভিযোগের তদন্তে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি গুমের পরে স্বাধীন তদন্ত না হয়, যদি মানবাধিকার কমিশন সরকারের ইচ্ছামতো গঠিত হয়, মানবাধিকার কমিশন যদি সঠিকভাবে, স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে না পারে—সেক্ষেত্রে কেমন করে আমরা বাংলাদেশের মানুষের অধিকারগুলোকে সুরক্ষিত করতে পারবো?’

বিরোধীদলে থাকার সময় জাতিসংঘের অধীনে গুমের তদন্তের দাবি করা হলেও সরকারে এসে স্বাধীন সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব না দেওয়ার অভিযোগ করেন আখতার। তিনি বলেন, যে বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ, তাদেরই যদি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীই শাস্তির মুখে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ হারাবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাজেকে ঘুরতে গিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৬ পর্যটক আটক

গুম বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ ফেরানোর দাবি আখতারের

আপডেট সময় ০৮:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় জারি করা অধ্যাদেশগুলো ফিরিয়ে এনে দেশে চিরতরে গুম বন্ধের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। একই সঙ্গে গুমের অভিযোগের তদন্তে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া এবং মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ দাবি জানান। মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘কোনো বাহিনী গুম, খুন করতে পারবে না। একই দেশের সঙ্গে মানুষের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সুরক্ষিত এবং রাষ্ট্রে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের মানুষ যে সংসদ গঠন করবে, সেখান থেকে নতুন একটা রাষ্ট্রকাঠামোর দিশা পাবে।’

গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম দিনেই সেই
গণরায় অস্বীকার করেছে।

তিনি বলেন, সংস্কার, মানবাধিকার এবং গুম-খুন বন্ধের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, সমস্ত অধ্যাদেশকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তারা ল্যাপস করে দেয়, সেগুলোকে বাতিল ঘোষণা করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম বন্ধ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল উল্লেখ করে আখতার বলেন, সে সময় সরকার আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়নের কথা জানিয়েছিল। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, এসব আইনের মাধ্যমে অপরাধ দমন ও বিচারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং নাগরিকের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

সংসদে আনা নতুন আইনগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার শক্তিশালী আইন করার কথা বললেও তারা সংসদে এমন আইন নিয়ে এসেছে, যার ফলে অপরাধ আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে।

গুমের অভিযোগের তদন্তে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি গুমের পরে স্বাধীন তদন্ত না হয়, যদি মানবাধিকার কমিশন সরকারের ইচ্ছামতো গঠিত হয়, মানবাধিকার কমিশন যদি সঠিকভাবে, স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে না পারে—সেক্ষেত্রে কেমন করে আমরা বাংলাদেশের মানুষের অধিকারগুলোকে সুরক্ষিত করতে পারবো?’

বিরোধীদলে থাকার সময় জাতিসংঘের অধীনে গুমের তদন্তের দাবি করা হলেও সরকারে এসে স্বাধীন সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব না দেওয়ার অভিযোগ করেন আখতার। তিনি বলেন, যে বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ, তাদেরই যদি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীই শাস্তির মুখে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ হারাবে।