ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই ৩ দাবি মানলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একজন অপদার্থকে বিদ্যুৎমন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে: জামায়াত আমির পড়তে-লিখতে জানেন না, শুনে শুনে ৭১ বছরে পুরো কোরআন হিফজ! সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে সংবর্ধনায় জামায়াত নেতারা জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববাজারে তৃতীয় দফায় তেলের দামে বড় পতন মোহনপুরে বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে মসজিদে সোফা বসিয়ে সংসদ সদস্যের সভা

একজন অপদার্থকে বিদ্যুৎমন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে: জামায়াত আমির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের তীব্র সংকট নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও তা অস্বীকার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে।”

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় জামায়াত আমির এই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

বক্তব্যের শুরুতেই দেশের বিদ্যুৎ সংকট ও মন্ত্রীদের অসংলগ্ন মন্তব্যের দিকে নির্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, “বগুড়ার পাশের জেলা হলো সিরাজগঞ্জ। বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ি ওখানেই। উনি বলেন, আমাদের দেশে নাকি কোনো লোডশেডিং নেই, বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই! তাঁর মতে, গ্রামে বিদ্যুতের তার নাকি একটু লম্বা, তাই বিদ্যুৎ ঠিকমতো পৌঁছানো যায় না! লজ্জা! এ রকম একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে।”

 

 

জুলাই বিপ্লব ও পরবর্তী প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আজ ৭ মাস পেরিয়ে গেছে, সংসদের তিনটি অধিবেশনও শেষ হলো। কিন্তু জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছে, আপনারা সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলেন না কেন? আপনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দুর্নীতি দমন করবেন, এক কোটি তরুণকে চাকরি দেবেন। অথচ এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে এবং দুর্নীতির রেট বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট যখন বিএনপি-র নেতৃত্বের সারিতে ছিলেন, তখন তাঁর কণ্ঠে যে দাবি ছিল, আজ বিরোধী দলগুলো সেই একই দাবিই জানাচ্ছে। “আপনারা বলেছিলেন গ্যাস দেবেন, বিদ্যুৎ দেবেন। তৎকালীন বিরোধীদের মুখে স্লোগান ছিল ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’। আমরা তো নতুন কোনো স্লোগান দিচ্ছি না! মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা যে স্লোগান দিয়েছিলেন, আজ আমরাও সেটাই বলছি। আপনারা তা দিতে ব্যর্থ বলেই আমাদের বাধ্য হয়ে লংমার্চে নামতে হয়েছে।”

 

কৃষি খাতের দুর্দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার কৃষক ভাই আজ সময়মতো সার পাচ্ছে না। ১৪০০ টাকার সার তাদের এখন ২২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎ মেলে না, অন্যদিকে ডাবল-ট্রিপল বিল এনে সাধারণ মানুষের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

বগুড়ার ঐতিহাসিক জমায়েতকে মোবারকবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা শুধু চেয়েছিলাম ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করতে। আপনারা ঘর ছেড়ে বের হয়ে আজকের এই বগুড়াকে জনসমুদ্রে পরিণত করেছেন। আমাদের এই লংমার্চের ডাকে আজ সরকারি দলের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তারা জায়গায় জায়গায় প্রশ্ন তুলছে—বিরোধীদল এত আগেই কেন লংমার্চ করছে? আমরা তাদের জবাবে জিজ্ঞেস করি, আপনারা ক্ষমতায় বসার আগেই জনগণকে অপমান করলেন কেন?”

 

তিনি আরও যোগ করেন, “গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। আপনারাও সেই ভোট চেয়েছিলেন, আমরাও চেয়েছিলাম। আমরা আমাদের জায়গায় অটল আছি, কিন্তু আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? যদি জনগণের সাথে প্রতারণা না করতেন, তবে আমাদের এই লংমার্চ করার কোনো প্রয়োজন হতো না।”

 

সিরাজগঞ্জ পার হওয়ার সময়ের একটি অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “সিরাজগঞ্জের পথে আসার সময় লক্ষ্য করলাম সবাই আমাকে এক আঙুল দেখাচ্ছে। প্রথমে বুঝতে পারিনি, পরে গাড়ির কাঁচ নামাতেই তারা চিৎকার করে বলে উঠল—’দাদু, এক দফা! এক দফা!’ সেই এক দফার ডাক আসলে আজ দেশের সর্বস্তরের মানুষ প্রস্তুত।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই

একজন অপদার্থকে বিদ্যুৎমন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ১২:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের তীব্র সংকট নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও তা অস্বীকার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে।”

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় জামায়াত আমির এই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

বক্তব্যের শুরুতেই দেশের বিদ্যুৎ সংকট ও মন্ত্রীদের অসংলগ্ন মন্তব্যের দিকে নির্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, “বগুড়ার পাশের জেলা হলো সিরাজগঞ্জ। বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ি ওখানেই। উনি বলেন, আমাদের দেশে নাকি কোনো লোডশেডিং নেই, বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই! তাঁর মতে, গ্রামে বিদ্যুতের তার নাকি একটু লম্বা, তাই বিদ্যুৎ ঠিকমতো পৌঁছানো যায় না! লজ্জা! এ রকম একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে।”

 

 

জুলাই বিপ্লব ও পরবর্তী প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আজ ৭ মাস পেরিয়ে গেছে, সংসদের তিনটি অধিবেশনও শেষ হলো। কিন্তু জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছে, আপনারা সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলেন না কেন? আপনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দুর্নীতি দমন করবেন, এক কোটি তরুণকে চাকরি দেবেন। অথচ এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে এবং দুর্নীতির রেট বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট যখন বিএনপি-র নেতৃত্বের সারিতে ছিলেন, তখন তাঁর কণ্ঠে যে দাবি ছিল, আজ বিরোধী দলগুলো সেই একই দাবিই জানাচ্ছে। “আপনারা বলেছিলেন গ্যাস দেবেন, বিদ্যুৎ দেবেন। তৎকালীন বিরোধীদের মুখে স্লোগান ছিল ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’। আমরা তো নতুন কোনো স্লোগান দিচ্ছি না! মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা যে স্লোগান দিয়েছিলেন, আজ আমরাও সেটাই বলছি। আপনারা তা দিতে ব্যর্থ বলেই আমাদের বাধ্য হয়ে লংমার্চে নামতে হয়েছে।”

 

কৃষি খাতের দুর্দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার কৃষক ভাই আজ সময়মতো সার পাচ্ছে না। ১৪০০ টাকার সার তাদের এখন ২২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎ মেলে না, অন্যদিকে ডাবল-ট্রিপল বিল এনে সাধারণ মানুষের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

বগুড়ার ঐতিহাসিক জমায়েতকে মোবারকবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা শুধু চেয়েছিলাম ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করতে। আপনারা ঘর ছেড়ে বের হয়ে আজকের এই বগুড়াকে জনসমুদ্রে পরিণত করেছেন। আমাদের এই লংমার্চের ডাকে আজ সরকারি দলের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তারা জায়গায় জায়গায় প্রশ্ন তুলছে—বিরোধীদল এত আগেই কেন লংমার্চ করছে? আমরা তাদের জবাবে জিজ্ঞেস করি, আপনারা ক্ষমতায় বসার আগেই জনগণকে অপমান করলেন কেন?”

 

তিনি আরও যোগ করেন, “গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। আপনারাও সেই ভোট চেয়েছিলেন, আমরাও চেয়েছিলাম। আমরা আমাদের জায়গায় অটল আছি, কিন্তু আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? যদি জনগণের সাথে প্রতারণা না করতেন, তবে আমাদের এই লংমার্চ করার কোনো প্রয়োজন হতো না।”

 

সিরাজগঞ্জ পার হওয়ার সময়ের একটি অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “সিরাজগঞ্জের পথে আসার সময় লক্ষ্য করলাম সবাই আমাকে এক আঙুল দেখাচ্ছে। প্রথমে বুঝতে পারিনি, পরে গাড়ির কাঁচ নামাতেই তারা চিৎকার করে বলে উঠল—’দাদু, এক দফা! এক দফা!’ সেই এক দফার ডাক আসলে আজ দেশের সর্বস্তরের মানুষ প্রস্তুত।”