যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় দরপতন ঘটেছে। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এক দিনেই তিন দফায় অপরিশোধিত তেলের এই মূল্যহ্রাস রেকর্ড করা হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৬৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অপরিশোধিত তেলের প্রধান মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২২ ডলারে নেমে আসে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক তথ্য পর্যালোচনা সংস্থা ইনভেস্টিং ডটকমের বাজার সূচক অনুযায়ী, রাত ৮টা ৩২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯৯ দশমিক ৮৭ ডলারে। এর মাধ্যমেই তেলের আন্তর্জাতিক দর মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের কোঠা নিচে নেমে যায়। রাত ৮টা ৩৪ মিনিট নাগাদ ডব্লিউটিআই ফিউচারের দাম ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৯৩ ডলারে।
এর আগে সোমবার দিনজুড়েই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর নিম্নমুখী ছিল। বেলা ২টা ৫৯ মিনিটে নভেম্বরের ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ২ শতাংশ বা ২ দশমিক ১২ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে অক্টোবরের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ শতাংশ বা ১ দশমিক ৯৬ ডলার কমে দাঁড়ায় ৯৮ দশমিক ৩৪ ডলারে। এছাড়া মঙ্গলবার মেয়াদোত্তীর্ণ হতে যাওয়া ডব্লিউটিআই-এর নভেম্বর চুক্তির দাম নেমে আসে ৯৪ দশমিক ১৬ ডলারে।
মূল্যহ্রাসের এই প্রবণতা শুরু হয় দিনের শুরু থেকেই। সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ০৬ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৮৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে অবস্থান নেয়।
এদিকে চলতি মাসের শুরুতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরবের কৌশলগত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন দ্রুত চালুর প্রচেষ্টার দিকে নজর রাখছেন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা। সৌদি আরামকো ইউরোপের অন্তত দুটি তেল শোধনাগারকে নিশ্চিত করেছে যে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আগামী মাসে তারা কোনো সৌদি অপরিশোধিত তেল পাবে না, যার ফলে আমদানিকারকদের বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে।
তবে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ রপ্তানি ব্যবস্থা ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির আন্তর্জাতিক তেল রপ্তানি দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে, যা বিগত আগস্ট মাসে ছিল দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেল। সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানির বিকল্প নৌপথ সমন্বয় করায় কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়েও বিশ্ববাজারে তেল পরিবহন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















