ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুরক্ষার অভাবে গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে: জাতিসংঘে ড. খলিলুর বিএনপির কার্যালয় পোড়ানো মামলায় গ্রেপ্তার, পরদিনই আ.লীগ কর্মীর জামিন জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শিশু রাকিবাকে হত্যার সাড়ে তিন মাস পর মরদেহ উদ্ধার, মা-প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩ নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এনসিপির ছাত্রীর সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষকের আপত্তিকর মূহুর্ত, ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার দাবি যুবদল সভাপতির যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী: ট্রাম্প মেহেরপুর সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করনের প্রতিবাদে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষেধ  হোয়াইট হাউসে গণমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা, আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসে গণমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা, আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপছন্দের সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে কয়েকটি গণমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন চার আইন বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, কোনো সংবাদমাধ্যমের মতাদর্শ, দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা সংবাদ পরিবেশনের ধরন বিবেচনায় নিয়ে সরকারি প্রবেশাধিকার সীমিত করা মার্কিন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ডিজিটালম্যাপ দেখুন

 

শুক্রবার সিএনএন, এমএসএনও এবং পলিটিকোকে ‘ফেক নিউজ’ প্রচারের অভিযোগে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পরদিন শনিবার আরো কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনামূলক সংবাদ কাভারেজ ঠেকাতে গণমাধ্যমের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ই-পেপারসাবস্ক্রাইব করুন

 

আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন যে কারণ দেখিয়েছে, সেটিই আদালতে সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাদের মতে, সরকার কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পর তার সংবাদ পরিবেশন বা দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে সেই প্রবেশাধিকার বাতিল করতে পারে না।

 

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক লুসি ডালগ্লিশ বলেন, সরকার চাইলে কাউকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি না-ও দিতে পারে। কিন্তু কাউকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পর তার বক্তব্য বা দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কার প্রবেশাধিকার থাকবে আর কার থাকবে না—এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

 

তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ করা সংবাদমাধ্যমগুলো চাইলে হোয়াইট হাউসের বাইরে থেকেই তাদের প্রতিবেদন করতে পারবে। এক বিবৃতিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘ফেক নিউজ’ হিসেবে উল্লেখ করে হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রেসিডেন্টের ওভাল অফিসে জায়গা পাওয়াকে এসব সংবাদমাধ্যম নিজেদের অধিকার হিসেবে দাবি করতে পারে না।

 

এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সিএনএন, এমএসএনও ও পলিটিকো। সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে করা মামলায় তারা অভিযোগ করেছে, প্রথম সংশোধনীর অধীনে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের কারণে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারও লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

 

মামলাটির শুনানি আগামী বুধবার নির্ধারণ করেছেন জেলা বিচারক টিমোথি কেলি। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসে সিএনএনের এক সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আটকে দিয়েছিলেন তিনি।

 

তবে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, হোয়াইট হাউসে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সব জায়গায় সমান নয়। ওভাল অফিস কিংবা এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো সীমিত আসনের স্থানে প্রেসিডেন্টের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

২০২৫ সালের জুনে ওয়াশিংটন ডিসির একটি আপিল আদালতও রায় দিয়েছিল, ওভাল অফিসসহ হোয়াইট হাউসের কিছু নির্দিষ্ট স্থানে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রবেশাধিকার সীমিত করার ক্ষমতা ট্রাম্পের থাকতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের সামগ্রিক প্রেস সুবিধা থেকে কোনো সংবাদমাধ্যমকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই ক্ষমতা প্রযোজ্য নয় বলে আদালত মত দিয়েছিল। এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

 

ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা আদালতে টিকবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে আইনগত সীমারেখা কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয় তার ওপর।

 

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুরক্ষার অভাবে গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে: জাতিসংঘে ড. খলিলুর

হোয়াইট হাউসে গণমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা, আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৯:১১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপছন্দের সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে কয়েকটি গণমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন চার আইন বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, কোনো সংবাদমাধ্যমের মতাদর্শ, দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা সংবাদ পরিবেশনের ধরন বিবেচনায় নিয়ে সরকারি প্রবেশাধিকার সীমিত করা মার্কিন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ডিজিটালম্যাপ দেখুন

 

শুক্রবার সিএনএন, এমএসএনও এবং পলিটিকোকে ‘ফেক নিউজ’ প্রচারের অভিযোগে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পরদিন শনিবার আরো কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনামূলক সংবাদ কাভারেজ ঠেকাতে গণমাধ্যমের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ই-পেপারসাবস্ক্রাইব করুন

 

আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন যে কারণ দেখিয়েছে, সেটিই আদালতে সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাদের মতে, সরকার কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পর তার সংবাদ পরিবেশন বা দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে সেই প্রবেশাধিকার বাতিল করতে পারে না।

 

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক লুসি ডালগ্লিশ বলেন, সরকার চাইলে কাউকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি না-ও দিতে পারে। কিন্তু কাউকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পর তার বক্তব্য বা দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কার প্রবেশাধিকার থাকবে আর কার থাকবে না—এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

 

তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ করা সংবাদমাধ্যমগুলো চাইলে হোয়াইট হাউসের বাইরে থেকেই তাদের প্রতিবেদন করতে পারবে। এক বিবৃতিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘ফেক নিউজ’ হিসেবে উল্লেখ করে হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রেসিডেন্টের ওভাল অফিসে জায়গা পাওয়াকে এসব সংবাদমাধ্যম নিজেদের অধিকার হিসেবে দাবি করতে পারে না।

 

এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সিএনএন, এমএসএনও ও পলিটিকো। সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে করা মামলায় তারা অভিযোগ করেছে, প্রথম সংশোধনীর অধীনে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের কারণে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারও লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

 

মামলাটির শুনানি আগামী বুধবার নির্ধারণ করেছেন জেলা বিচারক টিমোথি কেলি। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসে সিএনএনের এক সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আটকে দিয়েছিলেন তিনি।

 

তবে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, হোয়াইট হাউসে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সব জায়গায় সমান নয়। ওভাল অফিস কিংবা এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো সীমিত আসনের স্থানে প্রেসিডেন্টের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

২০২৫ সালের জুনে ওয়াশিংটন ডিসির একটি আপিল আদালতও রায় দিয়েছিল, ওভাল অফিসসহ হোয়াইট হাউসের কিছু নির্দিষ্ট স্থানে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রবেশাধিকার সীমিত করার ক্ষমতা ট্রাম্পের থাকতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের সামগ্রিক প্রেস সুবিধা থেকে কোনো সংবাদমাধ্যমকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই ক্ষমতা প্রযোজ্য নয় বলে আদালত মত দিয়েছিল। এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

 

ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা আদালতে টিকবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে আইনগত সীমারেখা কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয় তার ওপর।

 

সূত্র: রয়টার্স