চাঁদপুরের কচুয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মা‘দ‘কে‘র অন্ধকারে নিমজ্জিত দুই চিহ্নিত যুবককে মামলার পরিবর্তে ভালোবাসার সান্নিধ্য ও আত্মশুদ্ধির পথ দেখিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছে। কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলামের ব্যতিক্রমী এ পরামর্শে সাড়া দিয়ে তাবলিগ জামাতে তিন দিন সময় কাটিয়ে এখন অপরাধ ও মা‘দ‘ক‘মু‘ক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন তারা।
ফিরে আসা দুই যুবক হলেন– কচুয়া উপজেলার আকানিয়া নাসিরপুর গ্রামের জালাল উদ্দিন (৩৫) ও হেলাল উদ্দিন (৪০)। এলাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে চিহ্নিত মা‘দ‘ক‘সে‘বী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাদকসংক্রান্ত অপরাধে উভয়ের নামেই একাধিক মামলা ছিল এবং তাঁরা একাধিকবার কারাবরণও করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে দুজনই সাধারণ সমাজে স্বাভাবিকভাবে ফেরার পথ খুঁজছিলেন। একপর্যায়ে সুপথে ফেরার আকুতি নিয়ে তারা কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলামের শরণাপন্ন হন। ওসি তাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি না করে ভুল পথ ছেড়ে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় এবং স্থানীয় এক মসজিদে তাবলিগ জামাতের সঙ্গে তিন দিন সময় কাটানোর উদ্বুদ্ধ ও অনুরোধ জানান।
পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জালাল ও হেলাল সানন্দে তিন দিনের জন্য চিল্লায় (তাবলিগে) যুক্ত হন। জামাত শেষ করে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তাঁরা থানায় এসে ওসি আজিজুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভবিষ্যতে কোনো দিন আর মা‘দ‘ক স্পর্শ না করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পরে ওসির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার সঙ্গে একটি স্মারক ছবিও তোলেন।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘শুধুমাত্র আইনি সাজা বা জেল–জরিমানা দিয়ে অপরাধীকে সব সময় সংশোধন করা সম্ভব হয় না। এই দুই যুবককে আলোর পথে ফেরাতে পেরে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমি আনন্দিত ও সফল বোধ করছি। সমাজের অন্য সব মা‘দ‘কা‘শ‘ক্ত‘দে‘র‘ও এভাবে ভুল পথ ছেড়ে সঠিক রাস্তায় ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।‘ এদিকে বহু বছরের মা‘দ‘কে‘র অন্ধকার থেকে বেরিয়ে নতুন জীবন খুঁজে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জালাল উদ্দিন ও হেলাল উদ্দিন। অপরাধের পথ চিরতরে ত্যাগ করে সমাজের মূলধারায় শান্তিতে বসবাস করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























