ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাদক কারবারিদের সংশোধনে তাবলিগে পাঠালেন ওসি ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই, গ্রেপ্তার ১ নেদারল্যান্ডসের রানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময় জাতিসংঘে ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে যা বললেন স্পিকার আমার দুধের সন্তানকে অপরাধী বানাতে চাইলে মেনে নেব না: অপ্রতিমের মা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ফ্রিতে সাংবাদিকতা শেখাবে ভারত বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ না দেয়ায় ম্যানেজারের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন! প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুরক্ষার অভাবে গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে: জাতিসংঘে ড. খলিলুর বিএনপির কার্যালয় পোড়ানো মামলায় গ্রেপ্তার, পরদিনই আ.লীগ কর্মীর জামিন

মাদক কারবারিদের সংশোধনে তাবলিগে পাঠালেন ওসি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বারবার গ্রেপ্তার ও মামলার মুখোমুখি হয়েও অপরাধজগৎ থেকে ফিরে না আসায় চাঁদপুরের দুই মাদক কারবারিকে সংশোধনের লক্ষ্যে তাবলিগ জামাতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তিন দিনের তাবলিগ সফর শেষে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থানায় ফিরে ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের ভুল স্বীকার করে অপরাধমুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের বাসিন্দা জালাল ও হেলাল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন মেয়াদে তারা জেলও খেটেছেন। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়তেন তারা।

এমন পরিস্থিতিতে কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের থানায় ডেকে এনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিন দিনের জন্য তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।

নির্ধারিত সময় শেষে মঙ্গলবার জোহরের নামাজ আদায় করে জালাল ও হেলাল সরাসরি কচুয়া থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা মাদক কেনাবেচা ও সেবন পুরোপুরি পরিহার করার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় এবং প্রতি মাসে তিন দিন তাবলিগে সময় দেওয়ার মাধ্যমে সৎ জীবনযাপনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উদ্যোগের বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম জানান, কেবল আইনি পদক্ষেপ ও মামলার মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়; এর জন্য অপরাধীর নৈতিক ও মানসিক রূপান্তর জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তারা অপরাধের পথ পরিহার করে সমাজে একজন দায়িত্বশীল ও ভালো নাগরিক হিসেবে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকুক।’ পুলিশের এই মানবিক ও সংশোধনী পদক্ষেপ স্থানীয় সচেতন মহলেও প্রশংসিত হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক কারবারিদের সংশোধনে তাবলিগে পাঠালেন ওসি

মাদক কারবারিদের সংশোধনে তাবলিগে পাঠালেন ওসি

আপডেট সময় ০১:৩৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বারবার গ্রেপ্তার ও মামলার মুখোমুখি হয়েও অপরাধজগৎ থেকে ফিরে না আসায় চাঁদপুরের দুই মাদক কারবারিকে সংশোধনের লক্ষ্যে তাবলিগ জামাতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তিন দিনের তাবলিগ সফর শেষে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থানায় ফিরে ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের ভুল স্বীকার করে অপরাধমুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের বাসিন্দা জালাল ও হেলাল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন মেয়াদে তারা জেলও খেটেছেন। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়তেন তারা।

এমন পরিস্থিতিতে কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের থানায় ডেকে এনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিন দিনের জন্য তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।

নির্ধারিত সময় শেষে মঙ্গলবার জোহরের নামাজ আদায় করে জালাল ও হেলাল সরাসরি কচুয়া থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা মাদক কেনাবেচা ও সেবন পুরোপুরি পরিহার করার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় এবং প্রতি মাসে তিন দিন তাবলিগে সময় দেওয়ার মাধ্যমে সৎ জীবনযাপনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উদ্যোগের বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম জানান, কেবল আইনি পদক্ষেপ ও মামলার মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়; এর জন্য অপরাধীর নৈতিক ও মানসিক রূপান্তর জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তারা অপরাধের পথ পরিহার করে সমাজে একজন দায়িত্বশীল ও ভালো নাগরিক হিসেবে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকুক।’ পুলিশের এই মানবিক ও সংশোধনী পদক্ষেপ স্থানীয় সচেতন মহলেও প্রশংসিত হয়েছে।