ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গাজায় ভয়াবহ দুর্ভোগে নীরব থাকবে না ব্রিটেন: অ্যান্ডি বার্নহাম গাজায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সমর্থন ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য-কানাডার জ্বালানি সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী আল্লাহ ইরানকে বিজয় দান করবেন: হাতে লেখা চিঠিতে মোজতবা খামেনি এ বছর স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা কম: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার অন্যায়ের সামনে নীরব থাকব না: জাতিসংঘে এরদোয়ানের হুংকার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের মতবিনিময় শেহবাজ শরিফের অনুরোধে লং মার্চ স্থগিত করল জামায়াতে ইসলামী

অন্যায়ের সামনে নীরব থাকব না: জাতিসংঘে এরদোয়ানের হুংকার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

এবার অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরব না থাকার অঙ্গীকার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে কষ্ট সহ্য করবেন, মূল্যও দিতে হবে; কিন্তু অন্যায়ের সামনে নীরব থাকবেন না এবং নিপীড়ন কখনো মেনে নেবেন না। একই সঙ্গে গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানান তিনি। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এসব কথা বলেন। ভাষণে তিনি বলেন, গাজা পুনর্গঠনের কাজ যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো সময় নষ্ট না করে গাজার পুনর্গঠন শুরু করতে হবে। এ বিষয়ে আমি আপনাদের ইসরায়েলের ওপর আরও বেশি চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।

এরদোয়ান বলেন, এক বছর আগে শারম আলশেখে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতি তুরস্ক এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চুক্তিটির বাস্তবায়নও তুরস্ক নজরে রাখবে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ঠেকানোর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। এরদোয়ান বলেন, ‘এখন সবার বিষয়টি বুঝতে ও মেনে নিতে হবে যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে শ্বাসরোধ করে দমিয়ে রাখার সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে।১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এরদোয়ান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা সেই সুন্দর দিন দেখব, যখন ১৯৬৭ সালের সীমানার মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

ভাষণের শুরুতেই ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দুই বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট আব্বাস টানা দুই বছর এই কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারেননি। আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের প্রতি এই অবিচার বিবেককে পীড়িত করে।আব্বাসের অনুপস্থিতিতেও স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে তুরস্ক কথা বলে যাবে বলে জানান এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘আব্বাস নিজে এখানে উপস্থিত হতে না পারলেও, গত বছরের মতো এবারও আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর হয়ে থাকব।যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘আজ আমি আবারও যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।

গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, অঞ্চলটি বিশ্বের শিশুদের সবচেয়ে বড় কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে শিশুদের অঙ্গহানির হারও বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এরদোয়ান বলেন, গত তিন বছরে গাজায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তিনি তাদের ইসরায়েলেররাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসেরশিকার হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনদের খুঁজছেন এবং স্বামী, স্ত্রী, সন্তান ও মাবাবার মরদেহ উদ্ধার করছেন। ইসরায়েলি হামলায় অঙ্গ হারানো শিশুরা কাঠের কৃত্রিম অঙ্গ ব্যবহার করে আবার স্কুলে ফিরতে এবং স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।এরদোয়ান বলেন, জ্বালানির সংকটের কারণে গাজার হাসপাতালগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি জেনারেটর বর্তমানে অচল হয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘গাজা আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক কনসেনট্রেশন ক্যাম্প।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় ভয়াবহ দুর্ভোগে নীরব থাকবে না ব্রিটেন: অ্যান্ডি বার্নহাম

অন্যায়ের সামনে নীরব থাকব না: জাতিসংঘে এরদোয়ানের হুংকার

আপডেট সময় ১২:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরব না থাকার অঙ্গীকার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে কষ্ট সহ্য করবেন, মূল্যও দিতে হবে; কিন্তু অন্যায়ের সামনে নীরব থাকবেন না এবং নিপীড়ন কখনো মেনে নেবেন না। একই সঙ্গে গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানান তিনি। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এসব কথা বলেন। ভাষণে তিনি বলেন, গাজা পুনর্গঠনের কাজ যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো সময় নষ্ট না করে গাজার পুনর্গঠন শুরু করতে হবে। এ বিষয়ে আমি আপনাদের ইসরায়েলের ওপর আরও বেশি চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।

এরদোয়ান বলেন, এক বছর আগে শারম আলশেখে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতি তুরস্ক এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চুক্তিটির বাস্তবায়নও তুরস্ক নজরে রাখবে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ঠেকানোর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। এরদোয়ান বলেন, ‘এখন সবার বিষয়টি বুঝতে ও মেনে নিতে হবে যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে শ্বাসরোধ করে দমিয়ে রাখার সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে।১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এরদোয়ান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা সেই সুন্দর দিন দেখব, যখন ১৯৬৭ সালের সীমানার মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

ভাষণের শুরুতেই ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দুই বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট আব্বাস টানা দুই বছর এই কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারেননি। আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের প্রতি এই অবিচার বিবেককে পীড়িত করে।আব্বাসের অনুপস্থিতিতেও স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে তুরস্ক কথা বলে যাবে বলে জানান এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘আব্বাস নিজে এখানে উপস্থিত হতে না পারলেও, গত বছরের মতো এবারও আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর হয়ে থাকব।যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘আজ আমি আবারও যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।

গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, অঞ্চলটি বিশ্বের শিশুদের সবচেয়ে বড় কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে শিশুদের অঙ্গহানির হারও বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এরদোয়ান বলেন, গত তিন বছরে গাজায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তিনি তাদের ইসরায়েলেররাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসেরশিকার হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনদের খুঁজছেন এবং স্বামী, স্ত্রী, সন্তান ও মাবাবার মরদেহ উদ্ধার করছেন। ইসরায়েলি হামলায় অঙ্গ হারানো শিশুরা কাঠের কৃত্রিম অঙ্গ ব্যবহার করে আবার স্কুলে ফিরতে এবং স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।এরদোয়ান বলেন, জ্বালানির সংকটের কারণে গাজার হাসপাতালগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি জেনারেটর বর্তমানে অচল হয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘গাজা আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক কনসেনট্রেশন ক্যাম্প।