ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

পাকিস্তানে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পদযাত্রা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছে।

 

এরই মধ্যে দলটির নেতারা ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন। এ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ইসলামাবাদ।

 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পিটিআই নেতারা আগামী রোববার থেকে পদযাত্রা শুরু করবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা করেন। কেউ কেউ রোববার থেকেই ধীরে ধীরে ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ কর্মসূচি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন।

 

ইমরান খানকে ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার সঙ্গে কারাগারে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে তার মুক্তির দাবিতে নতুন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পিটিআই।

 

এদিকে, পিটিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেছেন, ইমরান খানের কারাগারের পরিস্থিতির উন্নতি এবং তার মামলাগুলোতে ন্যায্য শুনানির সুযোগ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকার উল্লেখযোগ্য ছাড় না দিলে তারা পদযাত্রা করবেন। একই সঙ্গে, বিক্ষোভ ঠেকাতে সরকার ইসলামাবাদ অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং পিটিআইয়ের নেতাদের আটক করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

এমন পরিস্থিতিতে পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঘিরে সহিংস সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগের বিক্ষোভগুলোতে ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছিল। এবারও বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

 

পদযাত্রা ঠেকাতে খাইবার পাখতুনখাওয়াতেও হাজারো নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের সঙ্গে ইসলামাবাদের সংযোগকারী প্রধান মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদে জনসমাবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজধানীজুড়ে ২২ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক বন্ধ করতে এক হাজারের বেশি কনটেইনার বসানো হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কনটেইনারে নিরাপত্তার জন্য ধারালো স্পাইক লাগানো হয়েছে।

 

 

বিভিন্ন সেতুতে রাখা হয়েছে বালুর বস্তা। গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, পিটিআইয়ের কয়েক ডজন নেতা ও সাবেক মন্ত্রীকে এরই মধ্যে আটক করা হয়েছে। এমনকি, গত সোমবার ইমরান খানের তিন বোনকেও আটক করা হয়।

 

খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি হয়েছে। ইমরান খানকে একাকী রাখা হয়েছে এবং কয়েক মাস ধরে তার চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পিটিআই।

 

ইমরান খান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমান সরকার ও দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর জন্য রাজনৈতিক হুমকি হয়ে ওঠায় তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

অন্যদিকে, পাকিস্তানি রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, পিটিআইয়ের বিক্ষোভ বড় আকার নিলে তা সরকার ও সামরিক বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অর্থনীতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের অসন্তোষের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

পাকিস্তানে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পদযাত্রা

আপডেট সময় ০৯:৪৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছে।

 

এরই মধ্যে দলটির নেতারা ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন। এ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ইসলামাবাদ।

 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পিটিআই নেতারা আগামী রোববার থেকে পদযাত্রা শুরু করবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা করেন। কেউ কেউ রোববার থেকেই ধীরে ধীরে ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ কর্মসূচি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন।

 

ইমরান খানকে ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার সঙ্গে কারাগারে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে তার মুক্তির দাবিতে নতুন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পিটিআই।

 

এদিকে, পিটিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেছেন, ইমরান খানের কারাগারের পরিস্থিতির উন্নতি এবং তার মামলাগুলোতে ন্যায্য শুনানির সুযোগ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকার উল্লেখযোগ্য ছাড় না দিলে তারা পদযাত্রা করবেন। একই সঙ্গে, বিক্ষোভ ঠেকাতে সরকার ইসলামাবাদ অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং পিটিআইয়ের নেতাদের আটক করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

এমন পরিস্থিতিতে পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঘিরে সহিংস সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগের বিক্ষোভগুলোতে ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছিল। এবারও বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

 

পদযাত্রা ঠেকাতে খাইবার পাখতুনখাওয়াতেও হাজারো নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের সঙ্গে ইসলামাবাদের সংযোগকারী প্রধান মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদে জনসমাবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজধানীজুড়ে ২২ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক বন্ধ করতে এক হাজারের বেশি কনটেইনার বসানো হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কনটেইনারে নিরাপত্তার জন্য ধারালো স্পাইক লাগানো হয়েছে।

 

 

বিভিন্ন সেতুতে রাখা হয়েছে বালুর বস্তা। গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, পিটিআইয়ের কয়েক ডজন নেতা ও সাবেক মন্ত্রীকে এরই মধ্যে আটক করা হয়েছে। এমনকি, গত সোমবার ইমরান খানের তিন বোনকেও আটক করা হয়।

 

খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি হয়েছে। ইমরান খানকে একাকী রাখা হয়েছে এবং কয়েক মাস ধরে তার চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পিটিআই।

 

ইমরান খান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমান সরকার ও দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর জন্য রাজনৈতিক হুমকি হয়ে ওঠায় তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

অন্যদিকে, পাকিস্তানি রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, পিটিআইয়ের বিক্ষোভ বড় আকার নিলে তা সরকার ও সামরিক বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অর্থনীতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের অসন্তোষের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান