ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করে কাসেম সোলাইমানির ছবি রেখে গেল ইরান আল্লাহর আইন যারা চায়, তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী অগ্রগামী: জামায়াত আমির ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইসরায়েলি কিশোরসহ নিহত ৫ সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক জিয়া মঞ্চের ’জিয়া’ গ্রেপ্তার ইয়াবা দিয়ে বাবা ও মেয়েকে ফাঁসাতে গিয়ে এসআই প্রত্যাহার তুরস্কের নারী প্রতিনিধিদলের সাথে জামায়াতের মতবিনিময় ও সেমিনার নরসিংদী শহরে মদের দোকান বন্ধের দাবি স্থানীয়দের, তালা দিল যুবদল-ছাত্রদল ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের হয়রানির দায় সরকারকেই নিতে হবে: জামায়াত টাঙ্গাইলে মাদক ব্যবসায়ির বাড়ি ভেঙে দিল এলাকাবাসী

নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করে কাসেম সোলাইমানির ছবি রেখে গেল ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে তাদের জন্য নির্ধারিত আসনে প্রয়াত ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির একটি ছবি রেখে যান তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার সময় ইরানি প্রতিনিধিরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। ওই সময় ইরানের জন্য নির্ধারিত ডেস্কে সোলাইমানির ছবিটি দৃশ্যমান ছিল।

কাসেম সোলাইমানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বৈদেশিক অভিযান পরিচালনাকারী কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ওই জেনারেল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন।’

নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে আরও ৭৭টি দেশের প্রতিনিধিরা সাধারণ পরিষদের কক্ষ ত্যাগ করেন। এ সময় কেউ কেউ তাকে উদ্দেশ করে দুয়োধ্বনি দেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালি দেন।

ওয়াকআউটের ঘটনায় ইসরায়েলি গণমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বা নাটকীয় কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরেছে। চ্যানেল ১৪ এটিকে ‘ইসরায়েলের মুখে থুতু’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কক্ষ ত্যাগকারী প্রতিনিধিদের উদ্দেশ করে পরে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যদি আরও কোনো নৈতিক কাপুরুষ থাকেন, যারা এখনো কক্ষে রয়েছেন, তাহলে দয়া করে তারাও চলে যান।’

ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সমালোচনাকারী কয়েকটি দেশ ও নেতার সমালোচনা করেন। ইরানকে কঠোরভাবে আক্রমণ করে দেশটির সরকারকে ‘হত্যাকারী একনায়কতন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা ঠেকাতেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকেও আক্রমণ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। মামদানির নির্বাচনের পর নিউইয়র্কে অনেক ইহুদি নিজেদের আর নিরাপদ মনে করছেন না বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু।

 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানেরও সমালোচনা করেন তিনি। এরদোয়ান হামাসকে সমর্থন করেন অভিযোগ করে তাকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীরা। তাদের কয়েকজনের হাতে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিসংবলিত ব্যানার ছিল।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ থেকে শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবিন্ডার, ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসেও ছিলেন।

এদিকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও এবারের জাতিসংঘের সমাবেশে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না। ট্রাম্প প্রশাসন তাকে ভিসা না দেওয়ায় তিনি নিউইয়র্কে যেতে পারেননি। নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আব্বাসের একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।

সূত্র : এনডিটিভি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করে কাসেম সোলাইমানির ছবি রেখে গেল ইরান

নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করে কাসেম সোলাইমানির ছবি রেখে গেল ইরান

আপডেট সময় ১১:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে তাদের জন্য নির্ধারিত আসনে প্রয়াত ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির একটি ছবি রেখে যান তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার সময় ইরানি প্রতিনিধিরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। ওই সময় ইরানের জন্য নির্ধারিত ডেস্কে সোলাইমানির ছবিটি দৃশ্যমান ছিল।

কাসেম সোলাইমানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বৈদেশিক অভিযান পরিচালনাকারী কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ওই জেনারেল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন।’

নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে আরও ৭৭টি দেশের প্রতিনিধিরা সাধারণ পরিষদের কক্ষ ত্যাগ করেন। এ সময় কেউ কেউ তাকে উদ্দেশ করে দুয়োধ্বনি দেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালি দেন।

ওয়াকআউটের ঘটনায় ইসরায়েলি গণমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বা নাটকীয় কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরেছে। চ্যানেল ১৪ এটিকে ‘ইসরায়েলের মুখে থুতু’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কক্ষ ত্যাগকারী প্রতিনিধিদের উদ্দেশ করে পরে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যদি আরও কোনো নৈতিক কাপুরুষ থাকেন, যারা এখনো কক্ষে রয়েছেন, তাহলে দয়া করে তারাও চলে যান।’

ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সমালোচনাকারী কয়েকটি দেশ ও নেতার সমালোচনা করেন। ইরানকে কঠোরভাবে আক্রমণ করে দেশটির সরকারকে ‘হত্যাকারী একনায়কতন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা ঠেকাতেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকেও আক্রমণ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। মামদানির নির্বাচনের পর নিউইয়র্কে অনেক ইহুদি নিজেদের আর নিরাপদ মনে করছেন না বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু।

 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানেরও সমালোচনা করেন তিনি। এরদোয়ান হামাসকে সমর্থন করেন অভিযোগ করে তাকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীরা। তাদের কয়েকজনের হাতে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিসংবলিত ব্যানার ছিল।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ থেকে শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবিন্ডার, ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসেও ছিলেন।

এদিকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও এবারের জাতিসংঘের সমাবেশে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না। ট্রাম্প প্রশাসন তাকে ভিসা না দেওয়ায় তিনি নিউইয়র্কে যেতে পারেননি। নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আব্বাসের একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।

সূত্র : এনডিটিভি