ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বোয়িং থেকে ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ, অভিনন্দন জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রতিমন্ত্রীর সামনেই ছাত্রদলের দু’গ্রুপের হট্টগোল-হাতাহাতি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সমর্থন না দিতে কালাসকে সতর্ক করলেন আরাগচি হজের কোটায় বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৫ম জাতিসংঘে ইসরায়েলের হয়ে ‘ব্যাট করলেন’ আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যাবে না: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান হাঁস-মুরগি-লাউ নিয়ে ওসিকে বিদায় জানাতে এলেন এলাকাবাসী গণমানুষের কষ্ট লাঘব না হলে রাজপথে নামতে বাধ্য হব: চরমোনাই পীর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই গণধোলাইয়ের নির্দেশ বিএনপি নেতার শিবির সভাপতি ইমরান ক্ষমা না চাইলে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেবে ছাত্রদল, ২৪ ঘণ্টার আল্টেমেটাম

আওয়ামী আমলের জ্বালানি খাতের দুর্নীতির মাশুল দিচ্ছে জনগণ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার মাশুল এখন জনগণকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

 

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একদিকে অর্থনীতিকে সচল করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নানা সংকটের মধ্যে পড়েছেন। এর সঙ্গে জ্বালানি খাতের সংকটও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে জ্বালানি খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনেকে তাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন। এখন তারা সেই হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে বসে ভোগ করছে।

 

বিএনপির এই নেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জ্বালানি খাতে যে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো কাটেনি। মাঝখানে প্রায় দেড় বছর দায়িত্বে থাকা সরকারও এ সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি।

 

বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের যেকোনো সংকট ও দুর্যোগে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই দলটির নেতাকর্মীরা মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজপথে নেমেছেন।

 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েও তিনি দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কৃষি, শিল্প, কলকারখানা, মৎস্য, প্রবাসী আয় ও খাল খননসহ বিভিন্ন খাতে তার নেওয়া উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ছিল উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার অনেক ক্ষেত্রেই সেই সময়ের উদ্যোগের প্রভাব রয়েছে।

 

বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এরশাদ সরকারের সময়ে যখন দেশে স্বৈরশাসন জেঁকে বসেছিল, তখন খালেদা জিয়া ঘরের বাইরে এসে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে এগিয়ে নেন।

 

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন, তাদের দেশের অতীতের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসও মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। জনগণের স্বার্থে দলটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।

 

সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ও নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে হতাশ হলে চলবে না। চলমান সংকট মোকাবেলায় সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ধৈর্য ও সততার সঙ্গে কাজ করলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং জ্বালানি সংকটসহ অন্যান্য সমস্যারও সমাধান সম্ভব হবে।

 

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান মোল্যা প্রমুখ।

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়িং থেকে ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ, অভিনন্দন জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আওয়ামী আমলের জ্বালানি খাতের দুর্নীতির মাশুল দিচ্ছে জনগণ

আপডেট সময় ১১:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার মাশুল এখন জনগণকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

 

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একদিকে অর্থনীতিকে সচল করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নানা সংকটের মধ্যে পড়েছেন। এর সঙ্গে জ্বালানি খাতের সংকটও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে জ্বালানি খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনেকে তাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন। এখন তারা সেই হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে বসে ভোগ করছে।

 

বিএনপির এই নেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জ্বালানি খাতে যে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো কাটেনি। মাঝখানে প্রায় দেড় বছর দায়িত্বে থাকা সরকারও এ সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি।

 

বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের যেকোনো সংকট ও দুর্যোগে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই দলটির নেতাকর্মীরা মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজপথে নেমেছেন।

 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েও তিনি দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কৃষি, শিল্প, কলকারখানা, মৎস্য, প্রবাসী আয় ও খাল খননসহ বিভিন্ন খাতে তার নেওয়া উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ছিল উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার অনেক ক্ষেত্রেই সেই সময়ের উদ্যোগের প্রভাব রয়েছে।

 

বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এরশাদ সরকারের সময়ে যখন দেশে স্বৈরশাসন জেঁকে বসেছিল, তখন খালেদা জিয়া ঘরের বাইরে এসে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে এগিয়ে নেন।

 

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন, তাদের দেশের অতীতের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসও মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। জনগণের স্বার্থে দলটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।

 

সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ও নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে হতাশ হলে চলবে না। চলমান সংকট মোকাবেলায় সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ধৈর্য ও সততার সঙ্গে কাজ করলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং জ্বালানি সংকটসহ অন্যান্য সমস্যারও সমাধান সম্ভব হবে।

 

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান মোল্যা প্রমুখ।