নওগাঁর নজিপুর উপজেলার ফয়েমপুর গ্রামে ১৬ মাস বয়সি শিশু আয়মান ইসলাম শিয়ালের মুখ থেকে তার মায়ের তৎপরতায় জীবিত ফিরেছে। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শিশু বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল। ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে। শনিবার (২ মে) পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে বিষয়টি জানা যায়।
পরিবার জানায়, বাড়ির বারান্দায় বসে খেলছিল আয়মান। তার মা আরিফা বেগম উঠানে গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় পাশের বাগান থেকে একটি শিয়াল হঠাৎ এসে শিশুটির ঘাড়ে কামড় দিয়ে দ্রুত দূরে সরে যেতে থাকে।
মুহূর্তেই বিষয়টি চোখে পড়ে শিশুর মা আরিফা বেগমের। তিনি চিৎকার দিয়ে শিয়ালটির পিছু ধাওয়া দেন। তার চিৎকারে আতঙ্কিত হয়ে শিয়ালটি শিশুটিকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাত দূরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত আয়মানকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
শিশুটির বাবা পলাশ আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে গেছে। তার মা যদি সঙ্গে-সঙ্গে দেখতে না পেতেন, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এখন সে চিকিৎসাধীন এবং আগের তুলনায় ভালো আছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, আয়মানের ঘাড়ের নিচে শিয়ালের দাঁতের দুটি ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। তবে তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। সেলাই প্রয়োজন হবে কি না, তা সিনিয়র চিকিৎসকদের পরামর্শে নির্ধারণ করা হবে। শিশুটিকে আরও কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হতে পারে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস এশিয়া পোস্টকে জানান, শিশুটিকে শিয়াল কামড়ানোর কারণে তাকে জলাতঙ্কের টিকাসহ যাবতীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু শিয়ালের কামড়ে র্যাবিসের ঝুঁকি থাকে তাই বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যদিও সে সময়মতো টিকা নিয়েছে। বর্তমানে শিশুটি অনেকটাই সুস্থ রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















