ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকট সমাধানের আশ্বাসে স্বস্তির আভাস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৫:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। এর জবাবে দ্রুততম সময়ে জ্বালানি সংকট নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যা ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টার বেশি সময়ের এ মতবিনিময় সভায় তৈরি পোশাক, চামড়া, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা কাস্টমস ও বন্দর চালু রাখা, ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও তোলেন ব্যবসায়ী নেতারা।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সরকার জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থল ও সমুদ্রে নতুন গ্যাস কূপ খননের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং এ খাতে যন্ত্রাংশ আমদানার বাধা দূর করার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত বেশ কয়েকটি সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বৈঠককে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাত ঘুরে দাঁড়াবে। তার আশা, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে নতুন এলএনজি টার্মিনাল চালু হলে জ্বালানি সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

এদিকে, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যে তৈরি পোশাকের বাইরে আরও ১০টি সম্ভাবনাময় খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি সংকট সমাধানের আশ্বাসে স্বস্তির আভাস

আপডেট সময় ১১:২৫:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

দেশের জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। এর জবাবে দ্রুততম সময়ে জ্বালানি সংকট নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যা ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টার বেশি সময়ের এ মতবিনিময় সভায় তৈরি পোশাক, চামড়া, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা কাস্টমস ও বন্দর চালু রাখা, ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও তোলেন ব্যবসায়ী নেতারা।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সরকার জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থল ও সমুদ্রে নতুন গ্যাস কূপ খননের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং এ খাতে যন্ত্রাংশ আমদানার বাধা দূর করার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত বেশ কয়েকটি সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বৈঠককে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাত ঘুরে দাঁড়াবে। তার আশা, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে নতুন এলএনজি টার্মিনাল চালু হলে জ্বালানি সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

এদিকে, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যে তৈরি পোশাকের বাইরে আরও ১০টি সম্ভাবনাময় খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী