ইরানের অনুরোধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত করা হয়েছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম। বরং তেহরানের দাবি, হামলার পরিকল্পনা থেকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই পিছু হটেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য একটি চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা হবে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বরং দেশটির অবস্থান আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। তেহরান এখনও হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ব্যবস্থাপনায় নিজেদের ভূমিকার ওপর জোর দিচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যকে কটাক্ষ করে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ লিখেছে, ‘বোকা ট্রাম্পের দম ফুরিয়ে গেছে।’ ফার্সের বরাতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোরতেজা সেমিয়ারি একটি ফারসি প্রবাদ ব্যবহার করে বলেন, ‘আমেরিকানদের পাহাড় আবারও একটি ইঁদুরের জন্ম দিয়েছে’—অর্থাৎ বড় বড় হুমকির পরও শেষ পর্যন্ত বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কায়হান অনলাইনও মন্তব্য করেছে, টানা কয়েক দিন হুমকি দেওয়ার পর ট্রাম্প এখন আবার চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলে নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
অন্যদিকে মেহর নিউজ ট্রাম্পের দাবি পুরোপুরি নাকচ করে বলেছে, ইরান কখনোই হামলা বন্ধের অনুরোধ জানায়নি। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সেটিকেই এখন কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখনো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
এছাড়া ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যম পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনও উদ্ধৃত করেছে। বিশেষ করে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়ে তাসনিম নিউজ দাবি করেছে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুতই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলা স্থগিতের অন্যতম কারণ হতে পারে।
তবে ইরানের এসব দাবি বা ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট 




















