প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সাম্প্রতিক অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, যারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করেন, তাদের আগে নিজেদের কর্মকাণ্ড ইসলামের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পর্যালোচনা করা উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘায়ি বলেন, ইরান একটি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতার দেশ এবং ইসলাম গ্রহণের পর থেকে ফিকহ, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত ও সাহিত্যসহ নানা ক্ষেত্রে ইসলামী সভ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এসেছে।
তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ইসলামে মর্যাদার ভিত্তি কোনো জাতি, ভাষা বা ভৌগোলিক পরিচয় নয়; বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। কেবল আরব বা আরবিভাষী হওয়ার কারণে কেউ মহানবী (সা.)-এর মিশনের প্রতিনিধি দাবি করতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাঘায়ির দাবি, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ইরান সবসময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো মুসলিম দেশের ওপর হামলাকারী শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করা বা মুসলমানদের শত্রুদের আশ্রয় দেওয়া ইসলামের শিক্ষা ও মুসলিম ঐক্যের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সম্প্রতি বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা ইরানকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়ে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনেছিলেন। এর জবাবেই মূলত ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জুলাইয়ের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাহরাইনসহ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 




















