এবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার ১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জামায়াত ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দলে যুক্ত করে, কার্যত ভাড়া করে, একটি সাইনবোর্ড দেখাতে চাইছে যে তাদেরও মুক্তিযোদ্ধা আছে। সেই মুক্তিযোদ্ধাকে ব্যবহার করে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এটা কখনোই মেনে নেবে না এবং আমরা বিশ্বাস করি, তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবেন। তিনি আরও বলেন, আগামীতে কোনদিন হয়তো এমনও শুনতে হবে জামায়াতে ইসলামী এ দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল!
মঙ্গলবার দুপুরে চকরিয়ার মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা কোনাখালী ইউনিয়নের জংগলকাটা নির্বাচনি পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে আজ নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার একটি অপচেষ্টা চলছে দাবি করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যারা এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনা করার চেষ্টা করছে। গতকাল তাদের দলের আমির সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি-কর্নেল অলি সাহেব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই ধরনের বক্তব্য অস্বাভাবিক নয়। কারণ যারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ ইতিহাস বিকৃত করবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সব জানে। জনগণ জানে, আজ তারা নতুন রূপে নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে চেষ্টা করছে, তা সম্পূর্ণ প্রতারণা ও ভণ্ডামি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই দেশের সব দেশপ্রেমিক মানুষ, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি-সবাই এই ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলবে। একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো- যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, মিথ্যা তথ্য ছড়াতে চায়, ইতিহাস বিকৃত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে শালীন ভাষায় হলেও দৃঢ়ভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো। সেই দায়িত্ব থেকেই আমি আজ তাদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন আগে তারা এই দেশের নারী সমাজকে চরমভাবে অপমান করেছে। সাক্ষাৎকারে কর্মজীবী নারীদের পতিতাদের সঙ্গে তুলনা করেছে। তারা নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বাস্তবে এই প্রস্তাব নারীদের কল্যাণ নয়-এটি নারীদের কর্মসংস্থান ধ্বংস করার একটি পরিকল্পনা।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























