একটি সরকারি ডাকবাংলো। পাশাপাশি দুটি কক্ষ। বিকেলের নিস্তব্ধতা ভেঙে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের চোখে পড়ে তিনটি নিথর দেহ। এরপরই ছড়িয়ে পড়ে খবর। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে স্থানীয়দের। আসে পুলিশ, গোয়েন্দা সদস্য এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও একটি প্রশ্নের উত্তর মেলেনি, কী ঘটেছিল জেলা পরিষদের ওই ডাকবাংলোয়?
বুধবার বিকেলে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে উদ্ধার করা হয় স্মৃতি রানী ও তার দুই শিশুকন্যার মরদেহ। স্মৃতি রানী জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় খণ্ডকালীন ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরগুনা শহরের কালীবাড়ি এলাকায়।
পুলিশ বলছে, বিকেল ৪টার দিকে ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পাশাপাশি দুটি কক্ষে মরদেহগুলো দেখতে পেয়ে খবর দেন। পরে বরগুনা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে ঘটনাটিকে ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। স্মৃতি রানী ও তার দুই মেয়ে কখন ডাকবাংলোয় এসেছিলেন? তারা কোন কক্ষে অবস্থান করছিলেন? তাদের মৃত্যুর সময় কখন? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মৃত্যুর পেছনে কী কারণ রয়েছে?
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম জানিয়েছেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং আলামত বিশ্লেষণের আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না পুলিশ।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, সরকারি একটি স্থাপনার ভেতরে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বরগুনায় নজিরবিহীন। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি মৃত্যুর তদন্ত নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তা, নজরদারি এবং শেষ কয়েক ঘণ্টার অজানা গল্প।
সেই গল্পের উত্তর এখন খুঁজছে তদন্তকারীরা। আর বরগুনাবাসী অপেক্ষা করছে একটি প্রশ্নের জবাবের জন্য, ডাকবাংলোর ওই দুটি কক্ষে আসলে কী ঘটেছিল?

ডেস্ক রিপোর্ট 


















