ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শ্রীমঙ্গলে তারেক রহমানের অনুষ্ঠানস্থলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, যুবক আটক  ইরাকের জার্সিতে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ইতিহাস লিখতে যাচ্ছেন যে ফুটবলার আরও ১৫০০ কোটি তারল্য সহায়তা পেল ইসলামী ব্যাংক সাকিবের পর দীঘিও কি ‘পল্টি’ দিলেন? কালুখালীতপ জামায়াত কর্মী হত্যার পর মরদেহ আগুনের ঘটনায় গ্রপ্তার ৩ ২ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ ইরানকে প্রতিমন্ত্রী দিলেন ডিও লেটার, নাম প্রস্তাব বিএনপি নেতার, সংসদে ‘মিরাকল’ নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মমতা ব্যানার্জী স্পেনের এক ড্রয়ে উড়ে গেল ১২ কোটি টাকার বাজি মাঠে নামার আগেই আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের মারামারি

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: রহস্যের কেন্দ্রে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

একটি সরকারি ডাকবাংলো। পাশাপাশি দুটি কক্ষ। বিকেলের নিস্তব্ধতা ভেঙে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের চোখে পড়ে তিনটি নিথর দেহ। এরপরই ছড়িয়ে পড়ে খবর। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে স্থানীয়দের। আসে পুলিশ, গোয়েন্দা সদস্য এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও একটি প্রশ্নের উত্তর মেলেনি, কী ঘটেছিল জেলা পরিষদের ওই ডাকবাংলোয়?

 

বুধবার বিকেলে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে উদ্ধার করা হয় স্মৃতি রানী ও তার দুই শিশুকন্যার মরদেহ। স্মৃতি রানী জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় খণ্ডকালীন ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরগুনা শহরের কালীবাড়ি এলাকায়।

 

পুলিশ বলছে, বিকেল ৪টার দিকে ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পাশাপাশি দুটি কক্ষে মরদেহগুলো দেখতে পেয়ে খবর দেন। পরে বরগুনা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

তবে ঘটনাটিকে ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। স্মৃতি রানী ও তার দুই মেয়ে কখন ডাকবাংলোয় এসেছিলেন? তারা কোন কক্ষে অবস্থান করছিলেন? তাদের মৃত্যুর সময় কখন? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মৃত্যুর পেছনে কী কারণ রয়েছে?

 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম জানিয়েছেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং আলামত বিশ্লেষণের আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না পুলিশ।

 

 

স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, সরকারি একটি স্থাপনার ভেতরে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বরগুনায় নজিরবিহীন। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি মৃত্যুর তদন্ত নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তা, নজরদারি এবং শেষ কয়েক ঘণ্টার অজানা গল্প।

 

সেই গল্পের উত্তর এখন খুঁজছে তদন্তকারীরা। আর বরগুনাবাসী অপেক্ষা করছে একটি প্রশ্নের জবাবের জন্য, ডাকবাংলোর ওই দুটি কক্ষে আসলে কী ঘটেছিল?

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীমঙ্গলে তারেক রহমানের অনুষ্ঠানস্থলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, যুবক আটক 

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: রহস্যের কেন্দ্রে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো

আপডেট সময় ১০:০০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

একটি সরকারি ডাকবাংলো। পাশাপাশি দুটি কক্ষ। বিকেলের নিস্তব্ধতা ভেঙে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের চোখে পড়ে তিনটি নিথর দেহ। এরপরই ছড়িয়ে পড়ে খবর। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে স্থানীয়দের। আসে পুলিশ, গোয়েন্দা সদস্য এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও একটি প্রশ্নের উত্তর মেলেনি, কী ঘটেছিল জেলা পরিষদের ওই ডাকবাংলোয়?

 

বুধবার বিকেলে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে উদ্ধার করা হয় স্মৃতি রানী ও তার দুই শিশুকন্যার মরদেহ। স্মৃতি রানী জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় খণ্ডকালীন ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরগুনা শহরের কালীবাড়ি এলাকায়।

 

পুলিশ বলছে, বিকেল ৪টার দিকে ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পাশাপাশি দুটি কক্ষে মরদেহগুলো দেখতে পেয়ে খবর দেন। পরে বরগুনা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

তবে ঘটনাটিকে ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। স্মৃতি রানী ও তার দুই মেয়ে কখন ডাকবাংলোয় এসেছিলেন? তারা কোন কক্ষে অবস্থান করছিলেন? তাদের মৃত্যুর সময় কখন? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মৃত্যুর পেছনে কী কারণ রয়েছে?

 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম জানিয়েছেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং আলামত বিশ্লেষণের আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না পুলিশ।

 

 

স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, সরকারি একটি স্থাপনার ভেতরে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বরগুনায় নজিরবিহীন। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি মৃত্যুর তদন্ত নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তা, নজরদারি এবং শেষ কয়েক ঘণ্টার অজানা গল্প।

 

সেই গল্পের উত্তর এখন খুঁজছে তদন্তকারীরা। আর বরগুনাবাসী অপেক্ষা করছে একটি প্রশ্নের জবাবের জন্য, ডাকবাংলোর ওই দুটি কক্ষে আসলে কী ঘটেছিল?