ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুর্নীতি করলে রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানই আমার বিরুদ্ধে কিছু করত না: আসিফ মাহমুদ দেবিদ্বারে ১১ হাসপাতাল-ক্লিনিককে ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠাই জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, সাবেক আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার যুবদল নেতার ফোন না ধরায় রেলকর্মীকে মারধর বিদেশে অর্থ বিনিয়োগের ধূলিকণারও প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব: আসিফ মাহমুদ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন এমকিউ-১ ড্রো’ন ভূ’পা’তি’ত করল ই’রা’ন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে লোডশেডিং, পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুতের জিএম স্ট্যান্ড রিলিজ কার অনুরোধে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে বৈঠক স্থগিত, জানাল ইরান আ.লীগ নেতার গোডাউন থেকে সার জব্দ

ইসরাইলকে রক্ষায় পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি নেই যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কিন জেনারেল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে

এবার ইহুদিবাদী ইসরাইলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি নেই বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে একই সময়ে ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বাহিনী ও স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। তার এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রের মজুত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরাইলকে রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাএই দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করার মতো পর্যাপ্ত নৌসামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাও থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ।

তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলতে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ওপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে। তার মতে, এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর আরও একটি ডেস্ট্রয়ার না পাঠানো হলে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া হবে, নাকি ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে, সে বিষয়ে একসময় কমান্ডারদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সতর্কবার্তার গুরুত্ব শুধু সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণেই নয়, বরং এটি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একজন। আর এ কারণেও এটি বেশ গুরুদ্বপূর্ণ।

গ্রিনকেভিচ মার্কিন বাহিনীর বা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো বিশ্লেষক নন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক দায়িত্ব তদারকির দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন। তার বক্তব্যে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগই প্রতিফলিত হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক দায়িত্ব এখন তাদের বিদ্যমান সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারগুলো এখন ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব যুদ্ধজাহাজ দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে এবং এসএম৩ ও এসএম৬ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম।

একইসঙ্গে এই ডেস্ট্রয়ারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদগুলোরও একটি। চীনকে মোকাবিলায় প্রশান্ত মহাসাগরে, ন্যাটো মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইউরোপে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও নৌপথ সুরক্ষায়ও এগুলোর প্রয়োজন হয়। আর তাই গ্রিনকেভিচের সতর্কবার্তা একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ইসরাইলকে রক্ষায় পাঠানো প্রতিটি যুদ্ধজাহাজের অর্থ হলো, অন্য কোনো সম্ভাব্য সংকটে সেই জাহাজটি আর ব্যবহার করা যাবে না। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের উদ্ধৃত পেন্টাগনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যা তাদের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক। পাশাপাশি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকেও ১০০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইসরাইলও নিজস্ব অ্যারো ও ডেভিডস স্লিং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। তবে সবচেয়ে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ইসরাইল ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপরই নির্ভর করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমস্যা শুধু কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা নয়। বরং আধুনিক প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলো তৈরি ও মজুত পুনরায় গড়ে তুলতে কয়েক বছর সময় লাগে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চললে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুতের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়তে পারে।  সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতি করলে রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানই আমার বিরুদ্ধে কিছু করত না: আসিফ মাহমুদ

ইসরাইলকে রক্ষায় পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি নেই যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কিন জেনারেল

আপডেট সময় ১১:১৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

এবার ইহুদিবাদী ইসরাইলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি নেই বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে একই সময়ে ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বাহিনী ও স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। তার এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রের মজুত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরাইলকে রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাএই দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করার মতো পর্যাপ্ত নৌসামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাও থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ।

তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলতে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ওপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে। তার মতে, এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর আরও একটি ডেস্ট্রয়ার না পাঠানো হলে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া হবে, নাকি ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে, সে বিষয়ে একসময় কমান্ডারদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সতর্কবার্তার গুরুত্ব শুধু সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণেই নয়, বরং এটি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একজন। আর এ কারণেও এটি বেশ গুরুদ্বপূর্ণ।

গ্রিনকেভিচ মার্কিন বাহিনীর বা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো বিশ্লেষক নন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক দায়িত্ব তদারকির দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন। তার বক্তব্যে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগই প্রতিফলিত হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক দায়িত্ব এখন তাদের বিদ্যমান সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারগুলো এখন ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব যুদ্ধজাহাজ দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে এবং এসএম৩ ও এসএম৬ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম।

একইসঙ্গে এই ডেস্ট্রয়ারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদগুলোরও একটি। চীনকে মোকাবিলায় প্রশান্ত মহাসাগরে, ন্যাটো মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইউরোপে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও নৌপথ সুরক্ষায়ও এগুলোর প্রয়োজন হয়। আর তাই গ্রিনকেভিচের সতর্কবার্তা একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ইসরাইলকে রক্ষায় পাঠানো প্রতিটি যুদ্ধজাহাজের অর্থ হলো, অন্য কোনো সম্ভাব্য সংকটে সেই জাহাজটি আর ব্যবহার করা যাবে না। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের উদ্ধৃত পেন্টাগনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যা তাদের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক। পাশাপাশি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকেও ১০০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইসরাইলও নিজস্ব অ্যারো ও ডেভিডস স্লিং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। তবে সবচেয়ে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ইসরাইল ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপরই নির্ভর করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমস্যা শুধু কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা নয়। বরং আধুনিক প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলো তৈরি ও মজুত পুনরায় গড়ে তুলতে কয়েক বছর সময় লাগে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চললে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুতের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়তে পারে।  সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট