ঢাকা , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘২ কোটি দেন, সব সই করে দেব’, পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর ভিডিও ভাইরাল আমদানি কমায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছাড়াল ২ হাজার টাকা ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল চিকিৎসকের ‘ভয়াবহ যুদ্ধ’ হলেও অটল থাকবে ইরান: আরাঘচি এবার ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বাউফলে চাঁদাবাজি মামলায় দুই সাংবাদিক কারাগারে হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় অন্ত:সত্ত্বা নারীর পেটে লাথি ও স্বামীকে মারধর, গর্ভপাত ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে সাদিক কায়েমরা আর কত নিচে নামবেন?: রফিকুল ইসলাম মাদানী আকাশসীমার অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুরে আসেনি জ্বালানি ইউরেনিয়াম বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান, ভারতের ‘মদতপুষ্ট’ ৭১ সন্ত্রাসী নিহত

আসিফের দু/র্নী/তি/কা/ণ্ডে সচিবসহ ফেঁ/সে যাচ্ছেন যেসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ একই মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম-সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার ও কেনাকাটায় অনিয়ম।

দুদকের বিশেষ তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালকের নির্দেশনার পর গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র চেয়েছে কমিশন। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে তাকে আসিফ মাহমুদের কথিত অনিয়মের ‘নেপথ্যের নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে যুগ্ম-সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদকে ‘সেফ গার্ড’ দিয়ে বহাল রাখার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে।

অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও উপসহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিন।

যেসব নথি চেয়েছে দুদক

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত নথিপত্র এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ফাইল চেয়েছে দুদক। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব তথ্য ও রেকর্ডপত্র কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি করা হয়েছে, তাদের বিস্তারিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে ও ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের দুটি স্মারকের মাধ্যমে বদলিসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত ছায়ালিপি চেয়েছে দুদক। পাশাপাশি তিনটি স্মারকের অধীনে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল ও পদায়নসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত ছায়ালিপিও তলব করা হয়েছে।

একই চিঠিতে মাঠপর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত ছায়ালিপিও চাওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন ঢাকার গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ ও আমির; বগুড়ার আনিচ, জাহিদ ও ইব্রাহীম; বরিশালের জুলহাস; পাবনার নকিমউদ্দিন, আলী হোসেন ও আবু সাঈদ; ধামরাইয়ের কোরবান আলী এবং নরসিংদীর আলী হোসেন।

এসব কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফাইলের পাশাপাশি নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও পদায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান এবং সহায়ক রেকর্ডপত্রও অনুসন্ধান দলের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা কীভাবে উঠে আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘২ কোটি দেন, সব সই করে দেব’, পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর ভিডিও ভাইরাল

আসিফের দু/র্নী/তি/কা/ণ্ডে সচিবসহ ফেঁ/সে যাচ্ছেন যেসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

আপডেট সময় ০৬:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ একই মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম-সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার ও কেনাকাটায় অনিয়ম।

দুদকের বিশেষ তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালকের নির্দেশনার পর গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র চেয়েছে কমিশন। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে তাকে আসিফ মাহমুদের কথিত অনিয়মের ‘নেপথ্যের নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে যুগ্ম-সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদকে ‘সেফ গার্ড’ দিয়ে বহাল রাখার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে।

অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও উপসহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিন।

যেসব নথি চেয়েছে দুদক

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত নথিপত্র এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ফাইল চেয়েছে দুদক। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব তথ্য ও রেকর্ডপত্র কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি করা হয়েছে, তাদের বিস্তারিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে ও ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের দুটি স্মারকের মাধ্যমে বদলিসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত ছায়ালিপি চেয়েছে দুদক। পাশাপাশি তিনটি স্মারকের অধীনে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল ও পদায়নসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত ছায়ালিপিও তলব করা হয়েছে।

একই চিঠিতে মাঠপর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত ছায়ালিপিও চাওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন ঢাকার গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ ও আমির; বগুড়ার আনিচ, জাহিদ ও ইব্রাহীম; বরিশালের জুলহাস; পাবনার নকিমউদ্দিন, আলী হোসেন ও আবু সাঈদ; ধামরাইয়ের কোরবান আলী এবং নরসিংদীর আলী হোসেন।

এসব কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফাইলের পাশাপাশি নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও পদায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান এবং সহায়ক রেকর্ডপত্রও অনুসন্ধান দলের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা কীভাবে উঠে আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।