ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর সমালোচনায় সিইসি: ‘দেখা করে বের হয়েই আমাদের গালি দিতেন’ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার সুখবর দিলো কাতার আওয়ামী লীগকে আর কখনো রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: হাসনাত  রাস্তার ইট তুলে নিজ বাড়িতে পাকা বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে গঙ্গা নদীতে আমিষ বর্জ্য ফেলা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত: ভারতীয় হাইকোর্ট বিএনপির ১৮ নেতা-কর্মীকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিরকুট ও বোমা রেখে গেল দুর্বৃত্তরা! আরেকটা গণঅভ্যুত্থান হলে আগে ইসিকে হাত দিব: নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে, আমিরাতকে হুঁশিয়ারি ইরানের আড়াইশ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি, সাকিবসহ ১৫ জনের নথি জব্দ  স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত না ঘটাতে সব দলকে বসার আহ্বান সিইসির

মনোনয়ন বঞ্চিতদের দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:০০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮০৮ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিতদের দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেইসাথে, এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ যেন বিরোধের সুযোগ নিতে না পারে সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। গতকাল রোববার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত জানানোর পর নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।

দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকার ফলে সবাই মনোনয়ন পাওয়া সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদ বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজপথে ছিল এমন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই বাস্তবতার কারণে হয়তো দেশের অনেক সংসদীয় আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন। সর্বস্তরের নেতা কর্মী ও সমর্থকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা- দেশ এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে আপনারা এই বাস্তবতা মেনে নেবেন এবং দলের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করবেন। চারপাশে গুপ্ত স্বৈরাচার ওৎ পেতে রয়েছে। প্রতিপক্ষ যেন আপনাদের বিরোধের সুযোগ নিতে না পারে সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। এ সময়, দেশে নারীদের সমস্যা সমাধানে নেতাকর্মীদের কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।

তারেক রহমান জানান, আমাদের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে রাষ্ট্র এবং সমাজে উদাসীনতা ইদানীং একটু প্রকট মনে হচ্ছে। এক রিপোর্ট দেখলাম, গত আগস্ট মাসে সারা দেশে ৯৩ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। এর মধ্যে ৭ জনকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে। আর এই সময়ের মধ্যে ৯৮ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছেন।

নারী এবং শিশুদের জন্য নিরাপত্তাহীন সমাজ নিশ্চয়ই সভ্য সমাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। আমি সকল সচেতন মানুষকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আপনারা যার যার অবস্থান থেকে আমাদের কন্যা-মা-বোনদের সাথে কথা বলুন। তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে এলাকাভিত্তিক প্রস্তাব তৈরি করুন। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্র অবশ্যই উদাসীন থাকতে পারে না। সরকার এবং প্রশাসনকে অবশ্যই ভূমিকা রাখতে হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে, আমাদেরও দায়িত্ব নারীদের জন্য ভালো পরিবেশ তৈরি করা। অপরদিকে, প্রবাসীদের ভোট প্রদানের সুযোগ করে দেয়ায় ইসিকে সাধুবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট আমলে প্রবাসীরা ভোটদান করতে পারেননি। তাদের অনেকেই বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন। এ সময়, দেশের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিরঙ্কুশ ভূমিকার জন্য প্রবাসীদের আন্তরিক অভিনন্দনও জানান তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর সমালোচনায় সিইসি: ‘দেখা করে বের হয়েই আমাদের গালি দিতেন’

মনোনয়ন বঞ্চিতদের দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

আপডেট সময় ০১:০০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিতদের দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেইসাথে, এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ যেন বিরোধের সুযোগ নিতে না পারে সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। গতকাল রোববার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত জানানোর পর নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।

দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকার ফলে সবাই মনোনয়ন পাওয়া সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদ বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজপথে ছিল এমন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই বাস্তবতার কারণে হয়তো দেশের অনেক সংসদীয় আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন। সর্বস্তরের নেতা কর্মী ও সমর্থকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা- দেশ এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে আপনারা এই বাস্তবতা মেনে নেবেন এবং দলের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করবেন। চারপাশে গুপ্ত স্বৈরাচার ওৎ পেতে রয়েছে। প্রতিপক্ষ যেন আপনাদের বিরোধের সুযোগ নিতে না পারে সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। এ সময়, দেশে নারীদের সমস্যা সমাধানে নেতাকর্মীদের কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।

তারেক রহমান জানান, আমাদের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে রাষ্ট্র এবং সমাজে উদাসীনতা ইদানীং একটু প্রকট মনে হচ্ছে। এক রিপোর্ট দেখলাম, গত আগস্ট মাসে সারা দেশে ৯৩ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি। এর মধ্যে ৭ জনকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে। আর এই সময়ের মধ্যে ৯৮ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছেন।

নারী এবং শিশুদের জন্য নিরাপত্তাহীন সমাজ নিশ্চয়ই সভ্য সমাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। আমি সকল সচেতন মানুষকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আপনারা যার যার অবস্থান থেকে আমাদের কন্যা-মা-বোনদের সাথে কথা বলুন। তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে এলাকাভিত্তিক প্রস্তাব তৈরি করুন। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্র অবশ্যই উদাসীন থাকতে পারে না। সরকার এবং প্রশাসনকে অবশ্যই ভূমিকা রাখতে হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে, আমাদেরও দায়িত্ব নারীদের জন্য ভালো পরিবেশ তৈরি করা। অপরদিকে, প্রবাসীদের ভোট প্রদানের সুযোগ করে দেয়ায় ইসিকে সাধুবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট আমলে প্রবাসীরা ভোটদান করতে পারেননি। তাদের অনেকেই বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন। এ সময়, দেশের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিরঙ্কুশ ভূমিকার জন্য প্রবাসীদের আন্তরিক অভিনন্দনও জানান তিনি।