গাজাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্যের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, হামাসের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতার কিছু বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার অবস্থান এক নয়।
সম্প্রতি ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রধান দূত নিকোলাই ম্লাদেনভের সঙ্গে বৈঠকের পর নেতানিয়াহু বলেন, “হামাসের সঙ্গে হওয়া চুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমার কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। আমি সেটি গোপন করছি না।”
নেতানিয়াহুর মতে, গাজায় পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার আগে হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করতে হবে এবং গাজা উপত্যকাকে সামরিকীকরণমুক্ত করতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘বোর্ড অব পিস’-এর মধ্যস্থতায় হামাসের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতা হয়েছে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং একই সঙ্গে গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
তবে এই কাঠামো নিয়ে আপত্তি তোলে ইসরায়েল। পরে ‘বোর্ড অব পিস’ জানায়, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র হতে হবে।
ফলে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মতপার্থক্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার পুনর্গঠন—এই তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























