ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে নাৎসি জার্মানির সঙ্গে তুলনা করা সব ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধ নয় বলে রায় দিয়েছেন জার্মানির একটি উচ্চ আদালত। আদালতের মতে, রাষ্ট্রের নীতির সমালোচনার উদ্দেশ্যে এমন তুলনা করা হলে এবং নাৎসি মতাদর্শকে সমর্থন না করলে তা বাকস্বাধীনতার আওতায় পড়তে পারে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সোয়াইব্রুকেন উচ্চ আঞ্চলিক আদালত এক নারীর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজ করে এই রায় দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ওই নারী ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি পোস্টে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নাৎসি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের তুলনা করেন। পোস্টগুলোতে তিনি নাৎসি স্বস্তিকা চিহ্ন ও নাৎসি পার্টির পতাকার ছবিও ব্যবহার করেছিলেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, সংবিধানবিরোধী সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের আইন এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, ওই প্রতীকগুলো নাৎসি মতাদর্শ প্রচারের জন্য নয়, বরং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং পোস্টগুলোতে নাৎসি শাসনের প্রতি কোনো সমর্থন প্রকাশ করা হয়নি।
একটি পোস্টে ইসরায়েলের পতাকা ও নাৎসি পতাকার প্রতীক পাশাপাশি দেখানো হয়েছিল। অন্য একটি পোস্টে ‘স্টার অব ডেভিড’-এর ভেতরে স্বস্তিকা চিহ্ন ব্যবহার করে গাজা সংঘাতের একটি প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে #FreePalestine এবং #GazaUnderAttack হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করা হয়েছিল।
এর আগে লুডভিগশাফেনের একটি নিম্ন আদালত সংবিধানবিরোধী সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগে ওই নারীকে ২ হাজার ৪০০ ইউরো জরিমানা করেছিলেন। তবে আপিল শুনানিতে সেই রায় বাতিল করে উচ্চ আদালত বলেন, ফৌজদারি আইন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বাকস্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে এবং আইনের প্রয়োগ অযথা কঠোর করা উচিত নয়।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















