সরকারি বরাদ্দের অর্থ সাশ্রয় করে দুটি খাল খনন শেষে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন। শুধু অর্থ সাশ্রয় নয়, নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি খাল খনন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে প্রশাসন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘খদ্দের খাল’ ও ‘নওড়া-মেহের গোদা খাল’ খননের জন্য মোট ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এর মধ্যে খদ্দের খাল খননে বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৯ লাখ ২ হাজার ৪৭০ টাকা। কাজ শেষে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪১৩ টাকা। আর নওড়া-মেহের গোদা খালের জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৪ টাকা।
দুটি প্রকল্পে বরাদ্দের তুলনায় কম খরচ হওয়ায় ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত থাকে, যা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু জানান, শুরুতে দুই প্রকল্পের আওতায় ১৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যকর ব্যবহার ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার কারণে বাজেট সাশ্রয় করেও প্রায় ২১ কিলোমিটার খাল খনন করা সম্ভব হয়েছে।
তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর কাজের পাশাপাশি নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণের শর্তও বজায় রাখা হয়েছে। এতে সময় কম লাগার পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ও রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
প্রশাসনের এই অর্থ সাশ্রয় ও দক্ষতার বিষয়টি উচ্চপর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছে বলে জানানো হয়। এর স্বীকৃতি হিসেবে গত ৮ আগস্ট ২০২৬ শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিরা খাতুনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সম্মানসূচক আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অর্থ সাশ্রয়সহ প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যেখানে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়, সেখানে কম খরচে বেশি কাজ করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















